রাবি শিক্ষিকার মৃত্যু: চার্জশিটে মিথ্যা জবানবন্দি!

  রাবি প্রতিনিধি

২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৮:১৮ | আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৮:২০ | অনলাইন সংস্করণ

ফাইল ফটো
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আকতার জাহানের মৃত্যুর ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার চার্জশিটে মিথ্যা ও ভুল তথ্য জবানবন্দি আকারে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিভাগের সাতজন শিক্ষক। এতে তারা অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ আনা হয়।

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘আকতার জাহানের অস্বাভাবিক মৃত্যুর পরিপ্রেক্ষিতে দায়ের করা মামলার যে চার্জশিট মতিহার থানার তদন্ত কর্মকর্তা ব্রজগোপাল কর্মকার খুব সম্প্রতি জমা দিয়েছেন, তা সঙ্গত কারণেই আমাদের বিভাগীয় শিক্ষকবৃন্দকে ক্ষুব্ধ ও বিস্মিত করেছে। কারণ, এই চার্জশিটে আমাদের সাত শিক্ষককের নামে ১৬১ ধারায় যে জবানবন্দি দাখিল করা হয়েছে, তা সত্য নয়। নানা রকম বিভ্রান্তিকর তথ্য সহকারে তা উপস্থাপন করা হয়েছে। বস্তুত আমরা কেউ কখনও জবানবন্দি দেই নাই, পুলিশ বিভিন্ন সময় আমাদের কারো কারো সাথে কথা বলেছেন, করো সাথে একেবারেই কথা বলেননি। অথচ আমরা দেখতে পাচ্ছি আমাদের সাত শিক্ষকের নামে ১৬১ ধারায় জবানবন্দি চার্জশিটে দায়ের করা হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ‘আমরা পুলিশের কাছে বলিনি বা দাবি করিনি এমন অনেক মনগড়া তথ্য দিয়ে এই জবানবন্দি সাজানো হয়েছে। এই ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ এই মামলার সুষ্ঠু তদন্তের দিকে নজর না দিয়ে বরং আমাদের সহকর্মীবৃন্দকে অস্মানিত ও হেয় করেছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে বিভাগের সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক ড. প্রদীপ কুমার পাণ্ডে বলেন, ‘চার্জশিটে সাক্ষী করতে গেলে আমাদের একবার জানানো উচিত ছিল। আর ১৬১ ধারায় জবানবন্দি নিতে হলে স্বাক্ষর নিতে হয়, কিন্তু সেটা করা হয়নি।’

তবে তদন্ত কর্মকর্তা ব্রজ গোপাল কর্মকার দাবি করেন তিনি শিক্ষকদের কথা বলেই জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন। তিনি বলেন, ‘এক বছর তদন্ত করে তাদের সঙ্গে কথা বলেই চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। আমি একা কথা বলিনি, আমার সঙ্গে সিনিয়র অনেক অফিসার কথা বলেছেন ও তদন্ত করেছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে বিভাগের সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক ড. প্রদীপ কুমার পাণ্ডে, সহযোগী অধ্যাপক মশিহুর রহমান, আব্দুল্লাহ আল মামুন, সহকারী অধ্যাপক কাজী মামুন হায়দার, মাহবুবুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবন থেকে সহযোগী অধ্যাপক আকতার জাহানের মরদেহ উদ্ধার করা  হয়। ওই দিন তার কক্ষ থেকে একটি ‘সুইসাইড নোট’ উদ্ধার করা হয়। পরদিন ১০ সেপ্টেম্বর মতিহার থানায় ‘আত্মহত্যা’র প্ররোচণার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন তার ছোট ভাই কামরুল হাসান। সর্বশেষ চলতি বছরের ২৫ আগস্ট একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আতিকুর রহমান রাজাকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ব্রজ গোপাল কর্মকার।

এদিকে একই ঘটনায় ‘অসন্তোষ’ জানিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘লিপু চত্বর’-এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে