রোহিঙ্গাদের ত্রাণ ও পুনর্বাসনে কাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনী

  উখিয়া প্রতিনিধি

২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ২০:১৩ | অনলাইন সংস্করণ

সরকারের নির্দেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে পুরোদমে কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর সদস্যরা শনিবার সকাল থেকে উখিয়ার কুতুপালং ও বালুখালী রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে সেড নির্মাণ, নিবন্ধন কার্যক্রম, ত্রাণ বিতরণে শৃংখলা ফিরিয়ে আনা, সর্বোপরি পুনর্বাসনের কাজ তদারকির শুরু করেছে।

মিয়ানমার হতে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন করতে শুক্রবার থেকে ৫০টি বুথ খোলা হয়েছে।

শুক্রবার সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্টরা রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় এসে চলমান প্রতিটি কাজ পর্যবেক্ষণ করে প্রাথমিক ধারণা নেন। এরপর শনিবার দুপুরে ৩৬ বীর, ২৪ বেঙ্গল ও ৬৩ বেঙ্গল নামে ৩টি টিম উখিয়ার কুতুপালং ও বালুখালী আসে।

উখিয়া কলেজে অবস্থান নেওয়া সেনাবাহিনীর ক্যাম্প কমান্ডার মেজর মুহাম্মদ রাশেদ আকতার জানান, পূর্ব সিদ্ধান্ত মতে রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় এসে সেনা সদস্যরা প্রথমে সড়কে শৃংখলা আনতে কাজ শুরু করে। অনিয়ন্ত্রিত যানবাহন ও বিচ্ছিন্ন ত্রাণ বিতরণ এবং রাস্তায় রোহিঙ্গাদের অহেতুক জটলা সরিয়ে দিয়ে সড়ক যোগাযোগ নির্বিঘ্ন করা হয়েছে।

তিনি জানান, এরপর কন্ট্রোল রুমে জমা হওয়া দ্রুত পচনযোগ্য তাজা খাবারগুলো আলাদা করে বিতরণের জন্য নেয়া হয়। বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের আওতায় আসা রোহিঙ্গারাই এসব ত্রাণের আওতায় আসছে। এর মাধ্যমে বায়োমেট্রিকের সুবিধার মেসেজটা রোহিঙ্গাদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে চাচ্ছি। যাতে কচ্ছপ গতি থেকে চলমান এ নিবন্ধন প্রক্রিয়াটা খরগোশ গতিতে আসে।

কাজের সুবিধার্থে উখিয়া কলেজের পরিত্যাক্ত একটি শেডে কোম্পানির কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি আরো জানান, আজ প্রথমদিন হিসেবে শুধু শৃংখলাটা আনায়নে কাজ করছি। তাই শেড নির্মাণে হাত দেয়া যাবে না। রবিবার থেকে একটি টিম শেড নির্মাণের কাজ শুরু করবে।     

শুক্রবার সন্ধ্যায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন জানান, মানবিকতার কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের আশ্রয় দিয়ে মানবিক সহায়তা দিতে নির্দেশ দেন। এরপর থেকে তাদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। শুধু ত্রাণ দিলে হবে না তাদের জন্য সু্ষ্ঠু স্যানিটেশন ব্যবস্থা, সুপেয় পানিসহ পরিচ্ছন্ন আবাসন দরকার। তা নিশ্চিত করা সম্ভব না হলে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে হবে। এটি স্থানীয়দের জন্যও হুমকি স্বরূপ। তাই দ্রুততার সাথে শৃংখলিত ভাবে কাজ সম্পন্ন করতে আমরা সেনাবাহিনীর সহায়তা নিচ্ছি।  

জেলা পুলিশ সুপার ড. একেএম ইকবাল হোসেন জানান, উখিয়ার ৭১ কিলোমিটার জুড়ে বসানো হয়েছে ১১টি চেকপোস্ট। ২২টি মোবাইল টিম কাজ করছে। এসব টিমের হাতে আটক রোহিঙ্গা নিয়ে বাণিজ্য করা ২১২ দালালকে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে সাজা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগত রোহিঙ্গারা যাতে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সে জন্য ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে এসব চেকপোস্ট ও টিম। ইতোমধ্যে চেকপোস্টগুলোতে ৫ হাজার ১১৯ রোহিঙ্গাকে আটক করে ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে