দুই মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে পরোয়ানা

  আদালত প্রতিবেদক

১২ অক্টোবর ২০১৭, ১১:২৮ | আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০১৭, ১৬:১১ | অনলাইন সংস্করণ

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে পৃথক দুইটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। মামলা দুইটি হলো- জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলা এবং যুদ্ধাপরাধীদের মদদ দেওয়ার অভিযোগের মানহানির মামলা।

এর আগে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে দুই বছর আগে বাসে পেট্রোল বোমা মেরে আটজনকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় বিস্ফোরক আইনের মামলায় গত ১০ অক্টোবর বিএনপির এ নেত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

এ সম্পর্কে খালেদা জিয়ার অন্যতম আইনজীবী সানাউলাহ মিয়া বলেন, তিনি যাতে দেশে আসতে না পারেন, সেজন্য ইচ্ছাকৃতভাবে এক দিনে দুই মামলায় সরকার এভাবে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করিয়েছে।
 
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ ড. মো. আখতারুজ্জামান এই পরোয়ানা জারি করেন।

এদিন আদালত বর্তমানে চিকিৎসার জন্য বিদেশে অবস্থানরত খালেদা জিয়ার পক্ষের সময় আবেদন নামঞ্জুর করেন যুক্তিতর্কের শুনানির জন্য আগামী ১৯ অক্টোবর দিন ধার্য করেন। এরপর মামলাটিতে দীর্ঘদিন সাবেক এ প্রধানমস্ত্রী আদালতে উপস্থিত হয়ে আত্মপক্ষ শুনানির বক্তব্য না দিয়ে মামলার কার্যক্রমকে বিলম্বিত করার অভিযোগে পরোয়ানা জারি করেন।

একই মামলায় এদিন আসামি মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
একই আদালত জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় অবশিষ্ট সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেন।

অন্যদিকে যুদ্ধাপরাধীদের মদদ দেওয়ার মামলায় একটি মানহানির মামলায় আজ বৃহস্পতিবার সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ঢাকা মহানগর হাকিম মো. নুর নবী।

মামলাটিতে আসামি খালেদা জিয়াকে কয়েকটি ধার্য তারিখে আদালতে হাজির হতে সমন জারী করার পরও তিনি আদালতে হাজির না হওয়ায় এই পরোয়ানা জারি করে আদালত।

এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর একই আদালত বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ৫ অক্টোবরের মধ্যে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দেন। আত্মসমর্পণ না করলে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানান বিচারক।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মহান মুক্তিযুদ্ধকে ‘কলঙ্কিত’ এবং বাংলাদেশের মানচিত্র ও জাতীয় পতাকাকে ‘অপমানিত’ করার অভিযোগে ওই মানহানির মামলা করেন জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকী। মামলায় জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর ৭ নভেম্বর সিপাহী বিপ্লবের মাধ্যমে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতির পদ দখল করেন। ১৯৮১ সালের ১৭ মে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বদেশে ফিরে এলে জিয়াউর রহমান তাকে হুমকি ও অবরুদ্ধ করে রাখেন।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়, ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধী জামায়াতের সঙ্গে জোট করে নির্বাচিত হয়ে সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি রাজাকার-আলবদর নেতাকর্মীদের মন্ত্রী-এমপি বানিয়ে তাদের বাড়ি ও গাড়িতে স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র ও জাতীয় পতাকা তুলে দেন।

আদালত ঘটনার তদন্ত করে ব্যবস্থা নেোয়ার জন্য তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর তেজগাঁও থানার পুলিশ পরিদর্শক মশিউর রহমান (তদন্ত) প্রতিবেদন দাখিল করেন। এতে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদন উল্লেখ করেন তিনি। তবে মামলার অপর আসামি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যু হওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

এ ছাড়া ২২ মার্চ ঢাকা মহানগর হাকিম নুর নবী খালেদাকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন।

অন্যদিকে এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাটি দায়ের করে দুদক। ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় এ মামলা দায়ের করা হয়। ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট দুদক আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।

চার্জশিটে খালেদা জিয়া, তার বড় ছেলে তারেক রহমান, সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেকসচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে আসামি করা হয়।
২০১১ সালের ৮ আগস্ট খালেদা জিয়াসহ চার জনের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাটি দায়ের করে দুদক। এ মামলায় ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক।

এ মামলার আসামি বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরী এবং তার তৎকালীন একান্ত সচিব বর্তমানে বিআইডব্লিউটিএর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।

উভয় মামলায় খালেদা জিয়াসহ অপর আসামিদের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তৎকালীন বিচারক বাসুদেব রায় চার্জগঠন গঠন করেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে