১৬ বছর আদালতে লড়াই করে জয় ব্যবসায়ীর

প্রকাশ | ১২ অক্টোবর ২০১৭, ১৮:৩৬ | আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০১৭, ১৮:৩৯

আদালত প্রতিবেদক

মাত্র ৮৯ হাজার টাকার জন্য ১৬ বছর আদালতে লড়াই করে জয়ী হয়ে বাড়িতে ফিরলেন কাজী হুমায়ুন সিদ্দিক নামে এক ব্যবসায়ী।

আজ বৃহস্পতিবার আইএফআইসি ব্যাংক আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ৮৯ হাজার টাকার ১৬ বছরের সরল সুদসহ ১ লাখ ৯৮ হাজার ৯৬৪ টাকার পে অর্ডার আদালতে জমা দিলে মামলাটি নিষ্পত্তি হয়।

ঢাকার সিনিয়র সহকারী জজ প্রথম আদালতের বিচারক তোফাজ্জল হোসেন হিরু পে-অডার গ্রহণ করে মামলাটি নিষ্পত্তি করেন।

বাদীর আইনজীবী অমিত দাশ গুপ্ত জানান, ২০০২ সালের ব্যবসায়ী কাজী হুমায়ুন সিদ্দিক তার আইএফআইসি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের হিসাবের একটি দশ পাতার চেকবই গ্রহণ করেন। কিছুদিন পর তিনি লক্ষ্য করেন যে, তার ওই চেক বইয়ের দুটি পাতা কম। এ বিষয়ে তিনি ব্যাংকে লিখিত অভিযোগ করার পর তিনি দেখতে পান যে, তার ওই চেক দুটি ব্যবহার করে তার হিসাব হতে ৮৯ হাজার টাকা তোলা হয়ে গেছে। পরে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চেক দুটি বাদীই ব্যবহার করে টাকা উত্তোলন করেছেন বলে জানায়। পরবর্তীতে বাদী এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে অভিযোগ করলে তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখে মামলা করার পরাপর্শ দেয়।

এরপর ২০০৪ সালে বাদী ব্যাংকের বিরুদ্ধে ঢাকার সিনিয়র সহকারি জজ প্রথম আদালতে ক্ষতিপূরণ মামলা দায়ের করেন। আদালতে বাদীর স্বাক্ষর ও চেক দুটিতে থাকা স্বাক্ষর মিলিয়ে দেখার জন্য হস্তলিপি বিশারদের কাছে মতামত চেয়ে পাঠান। হস্তলিপি বিশারদ চেকের স্বাক্ষর ও বাদীর স্বাক্ষর এক নয় বলে মতামত দেন। এরপর আদালত সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে বাদীর পক্ষে রায় প্রদান করেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে ব্যাংক আপিল দায়ের করেন। কিন্তু আপিলে হেরে যায়। এরপর বাদী রায়ের টাকা আদায়ের জন্য ডিক্রিজারি মামলা করেন। উক্ত মামলায় ব্যাংককে সুদসহ ১ লাখ ৯৮ হাজার ৯৬৪ টাকা প্রদানের নির্দেশ দেয়। ওই নির্দেশ অনুযায়ী বৃহস্পতিবার ব্যাংক আদালতে ওই টাকার পে-অর্ডার জমা দিলে মামলা শেষ হয়।

এ সম্পর্কে বাদী হুমায়ুন সিদ্দিক বলেন, আমি ১৬ বছর মামলা চালাতে ৮৯ হাজার টাকার বেশি খরচ করেছি। কিন্তু এতে আমার কোনো দুঃখ নেই। কারণ আমি এটা প্রমাণ করতে পেরেছি যে, ব্যাংক থেকে চেক জালিয়াতি হয়েছিল।