দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলায় শিক্ষককে নোটিশ সেই উপাচার্যের!

প্রকাশ | ১২ অক্টোবর ২০১৭, ১৮:৪৭

এইচ এম জোবায়ের হোসাইন, ত্রিশাল

ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য এএমএম শামসুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগের সংবাদে মন্তব্য দেওয়ায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে শিক্ষক রুহুল আমীনকে। নোটিশে জবাব দেওয়ার জন্য পাঁচ দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

নোটিশ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. হুমায়ুন কবীর।

কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য এএমএম শামসুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ সংক্রান্ত প্রতিবেদন আজ দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এই প্রতিবেদনে উপাচার্যের দুর্নীতি নিয়ে নিজের বক্তব্য দেন শিক্ষক রুহুল আমীন।

তাতে বলা হয়, নিয়োগ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিভিন্নজনের কাছ থেকে ঘুষ নিচ্ছেন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য। আবার কোনো বেতন ছাড়াই মাস্টাররোলে কাজ করাচ্ছেন বেশ কয়েকজনকে। ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থেকে প্রশাসনের বিভিন্ন পদে নিয়মিতই করছেন রদবদল।

তথ্য-প্রমাণ দেখিয়ে মন্তব্য চাইলে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য বলেন, চাকরি দিতে না পারলে ঘুষের টাকা ফেরত দিয়ে দিবেন তিনি।

নিজেকে রাষ্ট্রপতির ভাগিনা পরিচয় দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হওয়ার চেষ্টায় আছেন তিনি। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনিয়ম দুর্নীতিতে কোনো রাখঢাক না করেও বহাল তবিয়তে থাকায় এখন তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সবার কাছে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন।

গত ১০ আগস্ট মেয়াদ শেষ হওয়ায় অধ্যাপক ড. মোহিত উল আলম ভিসির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেন। এর পর ভারপ্রাপ্ত ভিসির দায়িত্ব নেন কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার এএমএম শামসুর রহমান।

শিক্ষকদের অভিযোগ, ট্রেজারার শামসুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত ভিসি হয়ে বেআইনিভাবে প্রশাসনে ব্যাপক রদবলদ করেছেন। ঘুষ নিয়ে চাকরি দেওয়ার কাজে শিক্ষকদের জড়ানোর চেষ্টাও করছেন তিনি।

নাট্যকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ রুহুল আমীন জানান, মাস্টাররোলে টাকার বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার বিষয়ে তার সহযোগীতা চান শামসুর রহমান। তিনি তার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন।

নাট্যকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ রুহুল আমীন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে আমি সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেছি। একজন শিক্ষক হয়ে অন্যায় কাজে সহযোগিতা করতে পারি না, তাই সত্য উন্মোচন করেছি।’ এই অপরাধে আমাকে শোকজ করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. হুমায়ুন কবীর জানান, উপাচার্যের নির্দেশেই নাট্যকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ রুহুল আমীনকে শোকজ করা হয়েছে।