টাঙ্গাইলে ব্লু হোয়েল গেমস-এ আক্রান্ত তরুণ অল্পের জন্য বেঁচে গেলো

  কাজল আর্য, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

১৩ অক্টোবর ২০১৭, ১৮:৫২ | অনলাইন সংস্করণ

নিশ্চিত মৃত্যুর ফাঁদ হিসেবে বিশ্বের আতঙ্কিত ব্লু হোয়েল সুইসাইড গেম খেলতে গিয়ে অল্পের জন্য বেঁচে গেলেন হৃদয় (২০) নামে এক তরুণ। সে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় বয়ড়াপাড়া আলমনগর গ্রামের সৌদি প্রবাসী আমজাদ আলীর ছেলে। এ সংবাদে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। এদিকে ব্লু হোয়েল এ আসক্ত হৃদয়কে দেখতে তার গ্রামের বাড়ীতে ঢল পড়ছে কৌতুহলী জনতার।

জানা যায়, হৃদয় গাজীপুর একটা পেপার মিলে চাকুরি করে। ফেসবুক ব্যবহার করতে করতে ব্লু হোয়েল সুইসাইড গেম খেলতে আসক্ত হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে গত ১১ অক্টোবর তার ফেসবুক পেইজে হাতে ব্লেড দিয়ে কেটে তিমি আঁকা একটি ছবি পোষ্ট করে। ছবিটি ফেসবুকের মাধ্যমে হৃদয়ের মামা সৌদি প্রবাসী কবির হোসেনের নজরে আসে। কবির বিষয়টা সৌদি  থেকে তার স্বজনদের জানালে পুরো গ্রাম জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে। গত বুধবার রাতে তার পরিবারের লোকজন হৃদয়কে গাজীপুর থেকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসে।

ব্লু হোয়েল এর আসক্ত হৃদয় জানান, গত ২০ সেপ্টেম্বর মোবাইল ফোনে নেট অন করার সাথে সাথে মোবাইল স্কিনে একটা অ্যাপ ভাসতে থাকে। ব্লু হোয়েল সম্পর্কে আমি শুনেছি, তারপরও  কৌতুহল বসত আ্যাপটি অপেন করি। এরপর একটা কল আসে আমি রিসিভ করলে একজন অ্যাডমিনের নির্দেশে শুরু হয় গেমস খেলা। আস্তে আস্তে বেশ কিছু মজার মজার ধাপ খেলতে খেলতে আসে চ্যালেঞ্জিং পর্ব।

২০ দিন যাবৎ গেমটির কত পর্ব খেলেছে বা কি কি কাজ করেছে এমন প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট কোন জবাব দিতে পারেনি হৃদয়। সে আরো জানায়, আমার তেমন কিছু মনে নেই, তবে গেমটি খেলতে খেলতে আমার হাতে তিমি মাছের ছবি আঁকতে বলা হয়েছিল। আমার হাত কেটে কিভাবে ছবি আঁকেছি আমি জানি না। রাতে কি করছি আমার কিছুই মনে পড়ছিল না।

হৃদয়ের নানা আব্দুল হামিদ বলেন, আমরা হৃদয়কে নিয়ে ভীষণ চিন্তিত হয়ে পড়েছি। তার মোবাইলসহ সীমকার্ড বন্ধ করে রাখা হয়েছে। এইসব জীবনঘাতী গেম যেন ছেলে মেয়েদের হাতে পৌঁছাতে না পারে সেই ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ করছি।

হৃদয়ের মা হাজেরা বেগম ছেলের প্রাণ হারানোর ভয়ে ভেঙ্গে পড়েছেন। তারও দাবি এমন মরণ খেলা যেন সন্তানে কাছে না আসে। হৃদয়কে পারিবারিক কড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তার শাররিক ও মানসিক অবস্থা এখন শঙ্কামুক্ত। এদিকে এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়ায় এলাকার অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

গোপালপুর থানা অফিসার ইনচার্জ হাসান আল মামুন জানান, এবিষয়টি আমি অবগত নই। বিষয়টি জানার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে