'দারিদ্র দূর করতে ইসলামী আর্থিক ব্যবস্থাকে সম্পৃক্ত করতে হবে'

  নিজস্ব প্রতিবেদক

০৪ নভেম্বর ২০১৭, ১৯:৪৯ | আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০১৭, ২০:৩০ | অনলাইন সংস্করণ

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, উন্নয়নের দীর্ঘমেয়াদী ভিশনকে এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ সরকার সম্ভাবনাময় সম্পদগুলো ব্যবহারের মাধ্যমে দারিদ্র দূরীকরণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। তিনি বলেন, ইসলামী আর্থিক ব্যবস্থায় ইসলামী ব্যাংকিং, ইসলামী মাইক্রো ফাইন্যান্স, যাকাত, ওয়াকফ, সাদাকা, কর্জে হাসানা’র মত বিষয়গুলো সমাজের আর্থিক অন্তর্ভূক্তিমূলক কার্যক্রমকে নিশ্চিত করতে টেকসই উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক উদ্দেশ্যকে সুন্দরভাবে সম্পৃক্ত করেছে। তাই দারিদ্র দূরীকরণ, সামাজিক নিরাপত্তা, বৈষম্য নিরসন ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে দেশের মূল অর্থনীতির সঙ্গে ইসলামী আর্থিক ব্যবস্থাকে সম্পৃক্ত করতে হবে।

আজ শনিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারঁগাও হোটেলে ‘রিভাইভাল অব ওয়াক্ফ ফর সোসিও ইকনোমিক ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রপতি।

রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ বলেন, ১৯৭১ সালে রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যের প্রামাণ্যচিত্র হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করায় আমরা গর্ববোধ করি। বক্তব্যটি মেমরি অব দ্যা ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করার মহতী উদ্যোগের জন্য তিনি ইউনেস্কোকে ধন্যবাদ জানান।    

স্বল্প সুবিধাপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য দূর করতে রাষ্ট্রপতি সকলের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ওয়াকফ'র মত বিভিন্ন পদ্ধতির মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিতদের কল্যাণ সাধনে সম্পদশালীদের এগিয়ে আসতে হবে। ওয়াক্ফ ব্যবস্থাটি দারিদ্র্য দূর করে সামাজিক নিরাপত্তাবলয় নিশ্চিত করার সরকারি উদ্যোগ এবং এসডিজি অর্জনকে সহজতর করবে। তিনি ব্যাংক এবং অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে তাদের সামাজিক দায়বদ্ধতামূলক কাজের অংশ হিসেবে এ ধরনের অধিকতর কর্মসূচি গ্রহণের আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও বাংলাদেশ উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু হচ্ছে, মাথাপিছু আয় বাড়ছে, শিক্ষার হার বাড়ছে, জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়ছে অন্যদিকে কমছে দারিদ্রতার হার। সরকারের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য হচ্ছে সম্পদের সঠিক ব্যবহার করে দ্রুত দারিদ্র দূর করা। সরকারের এই কাজে বেসরকারি খাতে সহযোগিতা অনেক বেশি প্রয়োজন। ওয়াকফ সরকারের দীর্ঘ মেয়াদী লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।

তিনি আরও বলেন, ইসলামী ইতিহাস থেকে জানা যায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক কল্যাণে ওয়াকফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বাংলাদেশের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় মসজিদ ওয়াকফ সম্পদ দিয়ে গঠিত। দেশের অনেক মসজিদ মাদ্রাসা নির্মাণ ও পরিচালিত হচ্ছে ওয়াকফ সম্পদ দিয়ে। সরকারের উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা সহযোগী হিসেবে ওয়াকফ সম্পত্তি অবদান রাখতে পারবে বলে আমি মনে করি।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান আরাস্তু খান, ইসলামিক রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেইনিং ইনস্টিটিউট এর সিনিয়র ইকোনোমিস্ট ড. খলিফা মোহাম্মদ আলী, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ অরলিন্স ইউনিভার্সিটির ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্টের অধ্যাপক ড. কবির হাসান ও সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্ট-এর চেয়ারম্যান নিয়াজ রহিম বক্তব্য রাখেন।

আইডিবি গ্রুপের ইসলামিক রিসার্চ এন্ড ট্রেইনিং ইনস্টিটিউট, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড ও সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্টের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মশালায় বাংলাদেশ, ব্রুনাই, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, সৌদিআরব, মালয়েশিয়া, নিউজিল্যান্ড, নাইজেরিয়া, থাইল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে গবেষক, পন্ডিত ও বিশেষজ্ঞগণ অংশগ্রহণ করছেন। কাল কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে