তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যা, ৪ ছাত্রলীগ নেতা বহিষ্কার

  পাথরঘাটা প্রতিনিধি

১৩ নভেম্বর ২০১৭, ২১:০৯ | আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০১৭, ২১:১৩ | অনলাইন সংস্করণ

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে আরও দুই নেতাকে আটক করেছে ডিবি পুলিশ। তারা হলো, পাথরঘাটা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি রুহি আনান দানিয়াল (২২) ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন ছোট্ট (২১)। এ নিয়ে ওই ঘটনার অভিযোগে পাঁচ জন গ্রেপ্তার হলো।

গত ৯ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) রাতে পাথরঘাটা কলেজের নৈশ প্রহরী মো. জাহাঙ্গীরকে আটকের পর তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ি গত শুক্রবার রাতে প্রথমে পাথরঘাটা কলেজ শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মাহিদুল ইসলাম রায়হান (১৯) উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক মো. মাহমুদকে (১৮) আটক করে। পরে রোববার দুপুরে দিকে কলেজ ক্যাম্পাস থেকে সভাপতি রুহি আনান দানিয়াল ও সাদ্দাম হোসেন ছোট্টকে আটক করে ডিবি পুলিশ।

আজ সোমবার দানিয়াল ও সাদ্দামকে পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে রিমান্ডের জন্য হাজির করা হলে বিচারক মো. মঞ্জুরল ইসলাম প্রত্যেককে ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এদিকে তরুণীকে গণধর্ষণ ও হত্যার পর মরদেহ লুকানোর ঘটনায় জড়িত অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার চার ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের সুপারিশে সোমবার সকালে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ তাদের বহিষ্কার করে। এর আগে বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের সুপারিশ কেন্দ্রীয় কমিটি পাঠানো হয়। বহিস্কারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুবায়ের আদনান অনিক।

বরগুনার পুলিশ সুপার বিজয় বসাক সাংবাদিকদের বলেন, চলতি বছরের ১০ আগস্ট পাথরঘাটা কলেজের পশ্চিম পাশের পুকুর থেকে অজ্ঞাত এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকে এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে তদন্তে লেগে থাকে পুলিশ। পরে তথ্য পেয়ে গত শুক্রবার পাথরঘাটা কলেজের নৈশ প্রহরী মো. জাহাঙ্গীর হোসেনকে গভীর রাতে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যায় ডিবি পুলিশ। জাহাঙ্গীরের দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ি গত শনিবার রাতে ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদ ও রায়হানকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে রোববার বিকেলে পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় মাহমুদের জবানবন্দি নেওয়া হয়। রায়হান ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি না দেওয়ায় তার রিমান্ড চাইলে আদালত আগামী রোববার শুনানির জন্য দিন ধার্য রাখেন। জিজ্ঞাসাবাদে মাহমুদ ও জাহাঙ্গীর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানান এসপি।

পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম জিয়াউল হক বলেন, গতকাল রোববার বিকেলে ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদ ও মাহিদুল ইসলাম রায়হানকে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দির জন্য নিয়ে আসলে মাহমুদ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। মাহিদুল ইসলাম রায়হানকে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি না দেওয়ায় তাকে রিমান্ড চাইলে শুনানির জন্য আগামী দিন ধার্য করেন আদালত।

তিনি আরও বলেন, ৩ মাস চেষ্টার পর মামলার তদন্ত একটি পর্যায় এসে পৌছেছে। আশা করছি খুব শিগগিরই হত্যার রহস্য উম্মোচিত হবে।

প্রসঙ্গত ১০ আগস্ট দুপুরের পাথরঘাটা কলেজে পেছনের একটি পুকুরে এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ওইদিনই পাথরঘাটা থানায় অজ্ঞাত পরিচয়ে একটি হত্যা মামলা করা হয়। যার নম্বর ১২/১৭।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে