x

সদ্যপ্রাপ্ত

  •  বিকালের মধ্যেই বিদ্যুৎ বৃদ্ধির ঘোষণা আসছে: বিইআরসি

রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক

মুফতি হান্নানের গ্রেপ্তারের খবরে বিরক্ত হয়েছিলেন বাবর

  আদালত প্রতিবেদক

১৪ নভেম্বর ২০১৭, ২১:১৩ | অনলাইন সংস্করণ

হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আব্দুল হান্নানের গ্রেপ্তারের খবরে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর কিছুটা বিরক্ত হয়েছিলেন। এছাড়া ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলার বিষয়ে আর কোন পদক্ষেপ নিতেও নিষেধ করেছিলেন।

গতকাল মঙ্গলবার ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনার হত্যা ও বিস্ফোরক দুই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটির প্রধান কৌশলী সৈয়দ রেজাউর রহমান দশম দিনের যুক্তিতর্কে সাবেক র‌্যাবের মহা-পরিচালক আব্দুল আজিজ সরকারের জবানবন্দির আলোকে ট্রাইব্যুনালে এ তথ্য তুলে ধরেন।

ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নুরুদ্দিন এদিন রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে বুধবার পর্যন্ত যুক্তি উপস্থাপন মুলতবি করেন।

রাজধানীর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের  অস্থায়ী এজলাসে এ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন অনুষ্ঠিত হয়।

মঙ্গলবার বেলা ১২টায় কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর রাষ্ট্রপক্ষে যুক্ততর্কে ৭ জন সাক্ষী এবং একজন আসামীর জবানবন্দি আদালতে উপস্থাপন করে রেজাউর রহমান। এরা হলেন, সাক্ষী মোসাদ্দেক বিল্লা, কর্নেল অব. গোলাম রাব্বানী, র‌্যাবের সাবেক মহাপরিচালক আব্দুল আজিজ সরকার, মেজর অব. সৈয়দ মনিরুল ইসলাম, মো. তারেক আজম, মো. সাদেক হোসেন ও মো. মকবুল হোসেন এবং আসামি আবু জান্দাল।

প্রসিকিউটর সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, র‌্যাবের সাবেক মহাপরিচালক আব্দুল আজিজ সরকার ২০১১ সালের ৮ মার্চ তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জবানবন্দি দেন। এরপর একই জবানবন্দি পরদিন আদালতে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে প্রদান করেন। একইভাবে তিনি আদালতেও ওই জবানবন্দি প্রদান করেন। তার জবানবন্দিতে বলা হয়, ২০০৫ সালে বিভিন্ন সময় বোমা হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মুফতি হান্নানকে ওই বছর ১ অক্টোবর মেরুল বাড্ডা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।  তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে তৎকালীন আইজিপি আব্দুল কাইয়ুম এবং স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরকে অবহিত করি। বাবর সাহেব মুফতি হান্নানের গ্রেপ্তারের খবরে সন্তোষ্ট হন নাই বর কিছুটা বিরক্ত হন। তবে কোন মন্তব্য করেন নাই। কিছুটা বিরক্ত হয়েছিলেন। পরে মুফতি হান্নান টিএফআই সেলে জিজ্ঞাসাবাদে ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত মর্মে স্বীকার করলে তাও তৎকালীন অতিরিক্ত আইজিপি ও বাবর সাহেবকে অবহিত করে এবং এ বিষয়ে তদন্ত কর্র্মকর্তাদের আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়ার অনুরোধ জানাই। কিন্তু এর অনুকুলে কোন নির্দেশনা পাওয়া যায় নাই। বরং বাবর সাহেব ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলার বিষয়ে আর কোন পদক্ষেপ নিতেও নিষেধ করেন।

২১ আগষ্টের ওই নৃশংস হামলায় পৃথক দুটি মামলায় মোট আসামী ৫২ জন। মামলার আসামী বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বিএনপি নেতা সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ২৩ জন কারাগারে রয়েছে। এ মামলায় পুলিশের সাবেক আইজি আশরাফুল হুদা, শহুদুল হক ও খোদাবক্স চৌধুরী, লে.কমান্ডার (অব:) সাইফুল ইসলাম ডিউক এবং মামলার সাবেক তিন তদন্ত কর্মকর্তা- সিআইডি’র সাবেক এসপি রুহুল আমিন, সিআইডি’র সাবেক এএসপি আতিকুর রহমান ও আবদুর রশিদসহ মোট ৮ জন জামিনে রয়েছে। তারেক রহমান, বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরী, শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, মেজর জেনারেল  (এলপিআর) এটিএম আমিন, লে.কর্নেল (অব:) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দারসহ ১৮ জন এখনো পলাতক। এছাড়া ৩ জন আসামী জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, মুফতি হান্নান ও শরীফ সাইদুল আলম বিপুলের অন্য মামলায় মৃত্যুদন্ড কার্যকর হওয়ায় এ মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। পলাতক আসামীদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী রয়েছেন।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জনসভায় গ্রেনেড হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জনের নির্মম মৃত্যু হয়। গ্রেনেডের স্পিন্টারের আঘাতে আহত হন কয়েক শতাধিক। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও শ্রবনশক্তি হারান।

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে