x

সদ্যপ্রাপ্ত

  •  বিকালের মধ্যেই বিদ্যুৎ বৃদ্ধির ঘোষণা আসছে: বিইআরসি

সংসদে আনিত প্রস্তাবে এমপি’রা

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ মানুষের প্রেরণার উৎস

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৪ নভেম্বর ২০১৭, ২১:৩৬ | আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০১৭, ২১:৩৭ | অনলাইন সংস্করণ

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ পৃথিবীর ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম ভাষণ। ১৮ মিনিটে ১১২৩ শব্দের এই ভাষণ আজ বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। একইভাবে বাংলাদেশের সংবিধানের অংশ। শোষন, নিপীড়ণ ও বৈষম্যের হাত থেকে রক্ষায় এই ভাষণ নিরস্ত্র বাঙালী জাতিকে স্বশস্ত্র জাতিতে পরিণত করেছিল। নয় মাস মুক্তিযুদ্ধেও মাধ্যমে পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন জাতি রাষ্ট্র সৃষ্টি করেছিল। এই ভাষণ ছিল অনুপ্রেরণার উৎস। সেদিন এই ভাষণ যেমন এদেশের মেহনতি মানুষকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উৎসাহিত করেছিল। তেমনিভাবে এই ভাষণ বিশ্বের নির্যাতিত নিপীড়িত মানুষের প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। আজও এইভাষণ বিশ্বের সকল মুক্তিকামী স্বাধীনতাকামী মানুষের প্রেরণার উৎস। এই ভাষণ কালজয়ী ও অবস্মরণীয়।

জাতিসংঘের বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চে দেওয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণটি ইউনেস্কোর মেমোরী অব দ্যা ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিষ্টার এ অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় জাতীয় সংসদে আনিত প্রস্তাবে ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় সংসদ সদস্যরা এসব কথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে মঙ্গলবার সংসদের তৃতীয় দিনে কার্যপ্রণালীর ১৪৭ (১) বিধিতে এ বিষয়ে সাধারণ আলোচনার প্রস্তাব আনেন  প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। প্রস্তাবে বলা হয়, সংসদের অভিমত এই যে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বিশ^ প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে ইউনেস্কোর মেমোরী অব দ্যা ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিষ্টার এ অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় দেশে ও জাতির সাথে আমরা গর্বিত এবং এজন্য ইউনেস্কোসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে জাতীয় সংসদ ধন্যবাদ জানাচ্ছে। এই প্রস্তাবের ওপর প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেতাসহ প্রায় ৬০জন সংসদ সস্যের আলোচনা করার কথা রয়েছে। রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত প্রায় ৩৫ জন সংসদ সদস্য আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। তারা বলেন, বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণে এদেশের নির্যাতিত নিপড়ীত জনগণের চিত্র তুলে ধরেছিলেন। একইসঙ্গে তিনি এই ভাষণে মুক্তির পথও দেখিয়েছিলেন। এই ভাষণ ছিল অনুপ্রেরণার উৎস। সেদিন এই ভাষণ যেমন এদেশের মেহনতি মানুষকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উৎসাহিত করেছিল। আজ এই ভাষণ বিশে^র নির্যাতিত নিপীড়িত মানুষের প্রেরণার উৎসে পরিণত হয়েছে। বৈষম্যহীন সমাজ নিমার্ণ করতে বহু আন্দোলন সংগ্রাম হয়েছে। কিন্তু সফল হয়েছিলেন একমাত্র বঙ্গবন্ধু। এই স্বীকৃতি এই সত্যকেই প্রতিষ্ঠিত করেছে। বক্তারা ৭ মার্চকে জাতীয় দিবস ঘোষণার দাবি জানান।

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, পৃথিবীর অন্য কোনো ভাষণ এতবার উচ্চারিত হয়নি। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভাষণ আজ তা প্রমানিত হয়েছে। ইউনোস্কোর এ স্বীকৃতি ছিল অত্যন্ত প্রত্যাশিত। বঙ্গবন্ধুর অলিখিত ১৮ মিনিটের এ ভাষণ বাঙালি জাতিকে জাতীয় মুক্তির  মোহনায় দাঁড় করিয়েছিল। এটি ছিল মুক্তিযুদ্ধের সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা। বঙ্গবন্ধুর দীপ্ত কণ্ঠের ঘোষণা ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম’ কেবল বাঙালি জাতিকে আলোড়িত করেনি বরং বিশ্ব বিকেককেও নাড়া দিয়েছে। ইউনোস্কোর এ স্বীকৃতি তারই প্রমাণ। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কমিটিতে ১৫ জন বিশেষজ্ঞ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে পাওয়া নতুন নতুন প্রস্তাবের ঐতিহাসিক দলিল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের  ঐতিহাসিক ভাষণকে এ স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। তিনি বলেন, জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনোস্কো গত ৩০ অক্টোবর প্যারিসে সংস্থার কার্যালয়ে  এই সিদ্ধান্তের কথা জানান ইউনোস্কোর মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রস্তাবগুলো দুবছর ধরে নানা পর্যালোচনার পর ইউনোস্কোর উপদেষ্টা কমিটি তাদের মনোনয়ন চূড়ান্ত করে। এসময় বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে আসা ৭৮টি দলিলকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়।  এ নিয়ে ডকুমেন্ট দাড়াল ৪২৭টি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মন নাসিম বলেন, বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণ বাঙালীর স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। বাঙালীকে মুক্তি যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়তে উৎসাহিত করেছে। কিন্তু দু:খজনকভাবে বিএনপি জামায়াত এই ভাষণ রেওি-টিভিতে নিষিদ্ধ করেছিল। বিএনপি-জামায়াত জোটের প্রতি ইংগিত করে আরো বলেন, এই দানবের দল আবার ক্ষমতায় এলেই বঙ্গবন্ধুর আবার ভাষণ নিষিদ্ধ হবে। তাই দানবীয় শক্তিকে পরাজিত করতে হবে।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণে এদেশের নির্যাতিত নিপড়ীত জনগণের চিত্র তুলে ধরেছিলেন। একইসঙ্গে তিনি এই ভাষণে মুক্তির পথও দেখিয়েছিলেন। এই ভাষণ ছিল অনুপ্রেরণার উৎস। সেদিন এই ভাষণ যেমন এদেশের মেহনতি মানুষকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উৎসাহিত করেছিল। আজ এই ভাষণ বিশে^র নির্যাতিত নিপীড়িত মানুষের প্রেরণার উৎসে পরিণত হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, এই ভাষণের আবেদন, প্রভাব, পটভ’মি ইউনেস্কোর কাছে শ্রেষ্ঠ বিবেচিত হওয়ায় এই ভাষনটি বিশ^ ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, আজও এইভাষণ বিশে^র সকল মুক্তিকামী স্বাধীনতাকামী মানুষের প্রেরণার উৎস।

সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপুমনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এই ভাষণ পৃথিবীর ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম ভাষণ। ১৮ মিনিটের ১১২৩ শব্দের এই ভাষণ আজ বিশ^ ঐতিহ্যের অংশ। বৈষম্যহীন সমাজ নিমার্ণ করতে বহু আন্দোলন সংগ্রাম হয়েছে। কিন্তু সফল হয়েছিলেন একমাত্র বঙ্গবন্ধু।

আরো বক্তব্য রাখেন সাবেক মন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক প্রতিমন্ত্রী শামছুল হক টুকু, সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ, জাসদের নির্বাহী সভাপতি মঈন উদ্দীন খান বাদল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আহমেদ পলক, উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়, জাতীয় পার্টির সদস্য ফখরুল ইমাম, পীর ফজলুর রহমান, স্বতন্ত্র সদস্য তাহজীব আলম সিদ্দিকী, ডা. রুস্তম আলী ফরাজী, বিএনএফের আবুল কালাম আজাদ, আওয়ামী লীগের ইসরাফিল আলম, মৃণাল কান্তি দাস, মনিরুল ইসলাম, ফজিলাতুন্নেছা বাপ্পী, সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি, নূরুন্নবী চৌধুরী শাওন, সানজিদা চৌধুরী প্রমূখ।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে