গুমের ঘটনা তদন্তে স্বাধীন কমিশনের দাবি আসকের

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৪ নভেম্বর ২০১৭, ২৩:৪৯ | অনলাইন সংস্করণ

জোরপূর্বক অন্তর্ধান বা গুমের ঘটনা অস্বীকার না করে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। মঙ্গলবার আসকের নির্বাহী পরিচালক শীপা হাফিজা স্বারিত এক বিবৃতিতে গত আড়াই মাসে ১০ জন গুমের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, গত ২২ আগস্ট থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত ১০ জন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তির নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে।  

এতে আরও বলা হয়, আসক মনে করে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিচারহীনতার এ সংস্কৃতি চলতে পারে না। তাই আইন ও সালিশ কেন্দ্র এ ধরনের ঘৃণ্য অপরাধ বন্ধে রাষ্ট্রের শক্তিশালী ভূমিকা দাবি করছে। একইসঙ্গে, সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জোরপূর্বক অন্তর্ধানের বিষয়টিকে অস্বীকার না করে একটি স্বাধীন কমিশন গঠনের মাধ্যমে এসব ঘটনার স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক তদন্ত নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২৬ আগস্ট কানাডার ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ইশরাক আহমেদ ফাহিম রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে নিখোঁজ হন। বিভিন্ন গণমাধ্যমসূত্রে জানা যায়, তিনি ঈদের ছুটি শেষে কানাডায় ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিক উৎপল দাসকেও গত ১০ অক্টোবর থেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। গত ৭ নভেম্বর নিখোঁজ হন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক ড. মোবাশ্বার হাসান। সেদিন তিনি তার বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেননি। এরপর ৮ নভেম্বর নিখোঁজ হন তানভীর ইয়াসিন করিম নামের একজন প্রকাশক। জানা যায়, ঢাকার গুলশান থেকে সাদা পোশাকে কিছু লোক তাকে তুলে নিয়ে যায়।

বিবৃতিতে আসক বলে, জোরপূর্বক অন্তর্ধান বা গুমের সংখ্যা এই আলোচিত ঘটনাগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার কর্মীদের দাবি সত্ত্বেও দেশের আইনে জোরপূর্বক অন্তর্ধানের বিষয়টিকে এখন পর্যন্ত আলাদাভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়নি। রাষ্ট্রের কোনও প্রকার সংশ্লিষ্টতাকে অস্বীকার করে এই ভয়াবহ অপরাধটিকে এখনও ‘অপহরণ’ এর আওতায় সংজ্ঞায়িত করা হয়। কিন্তু এেেত্রও রাষ্ট্রের দায়িত্ব রয়েছে নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা প্রদান করে এর সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে বিচার নিশ্চিত করা। এ ধরনের ঘটনা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ হিসেবে বিবেচ্য। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই, আক্রান্ত ব্যক্তিকে নিরাপত্তা বাহিনী বা আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনী পরিচয়ে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে নিরাপত্তা বাহিনী বা আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনী সব সময়েই এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। যদিও অপহৃত বা গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনকে নিরাপত্তা বাহিনী বা আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনী পরে আদালতে সোপর্দ করেছে এবং তারা জীবিত রয়েছেন। কিন্তু অধিকাংশেরই কোনও হদিস পাওয়া যায়নি। কিছু েেত্র আঘাতের চিহ্নসহ অপহৃত বা গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের লাশ পাওয়া গেছে। দেশে ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের বারবার আশঙ্কা প্রকাশ সত্ত্বেও জোরপূর্বক অন্তর্ধান বা গুমের এ ধারা অব্যাহত রয়েছে।

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে