পাকিস্তান সফরের অভিজ্ঞতা গোপন করায় কাকরাইল মসজিদে লঙ্কাকাণ্ড

দিল্লির মারকাজের মুরব্বিকে ঘিরে সুরা সদস্যদের মধ্যে মতানৈক্য

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৪ নভেম্বর ২০১৭, ২৩:৫১ | অনলাইন সংস্করণ

তাবলীগ জামাতের বাংলাদেশের প্রধান কেন্দ্র কাকরাইল মসজিদে বিভক্ত দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও ভাঙচূরের ঘটনা ঘটেছে। পাকিস্তানে তাবলিগ-জামাতের এক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ মজলিশের এক সদস্য সফরের অভিজ্ঞতা ও বার্তা গোপন করা ছাড়াও তাবলিগের মতাদর্শগত বিরোধের সূত্র ধরে মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে এই লঙ্কাকা- ঘটে। তাবলিগ-জামাতের দিল্লির এক মারকাজের মুরব্বিকে ঘিরে সুরা সদস্যদের মধ্যে মতানৈক্যের সংকট নিরসনে উলামা মাশায়েখ পরামর্শ সভা চলাকালে গতকালের এই মারামারিতে ৩জন আঘাত পেলেও কেউ হতাহত হয়নি। পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।   

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই কাকরাইল মসজিদের তাবলিগ-জামাতের দুই দ্রুপ একে অন্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে আসছে। প্রায় চার বছর ধরে চলা এই বিরোধের জেরে গতকাল হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তাবলিগ-জামাতের বিরোধ নিয়ে এর আগেও এই দুই পরে মধ্যে মামলা-পাল্টা মামলা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল তাদের নিয়ে কয়েক দফা বৈঠকও করেও সরাহায় আসতে পারেননি।

জানা গেছে, গত সপ্তাহে পাকিস্তানে তাবলিগ-জামাতের এক আয়োজনে বাংলাদেশের তাবলিগ-জামাতের মজলিশে শূরা সদস্য ও ফায়সাল (আমির) সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম ও হাফেজ মাওলানা জুবায়েরের যাওয়ার কথা ছিল। শেষ মুহূর্তে জুবায়ের জামাতে অংশ গ্রহণ করেন। সেখানে তাবলীগের আরেক মুরব্বী আহমেদ লাকশাহর সঙ্গে দেখা করেন তিনি। আহমেদ লাকশাহ বাংলাদেশের তাবলীগ জামাতের জন্য জুবায়েরের কাছে একটি বার্তা দিয়েছিলেন। কিন্তু দেশে ফেরার পর মাওলানা জুবায়ের সে বার্তা বাংলাদেশি মুরব্বিদের জানাননি। অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করতে বললেও জুবায়ের তা করেননি। পরে সুরা সদস্যরা অন্য মাধ্যমে বার্তাটির বিষয়ে অবগত হন। এ নিয়ে মতবিরোধ জোড়ালো হয় দু’পরে মধ্যে। মতবিরোধের সমাধানে মঙ্গলবার সকালে কাকরাইল মসজিদে মাসোয়ারা (বৈঠক) ছিল সুরা সদস্যদের। এ সময় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনাও হয়। কিন্তু পূর্বের নানা বিরোধকে কেন্দ্র করে মসজিদের মধ্যেই গতকাল তাবলিগের দুই গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়ে পরেন।

এদিকে তাবলিগ-জামাতের দিল্লির মারকাজের মুরব্বি মাওলানা সা’দকে ঘিরেও সম্প্রতি দুই পরে মধ্যে মতানৈক্য সৃষ্টি হয়। এক প আগামী ইজতেমায় তাকে বাংলাদেশে আনার প,ে অন্য প আসতে দিতে নারাজ। এ সংকট নিরসনে উলামা মাশায়েখ একাধিকবার পরামর্শ সভা করলেও বিষয়টির সুরাহা হয়নি। গত ১৪ নভেম্বর উত্তরার ১৪ নম্বর সেক্টরের ১১ নম্বর রোডের আয়েশা মসজিদে এ ইস্যুতে একটি সভাও হয়। সভায় হেফাজতপন্থী আলেমরা অংশ নেন। সেখানে হেফাজতপন্থী আলেমরা মাওলানা সাদকে বাংলাদেশে আসতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- হেফাজত ইসলামের নায়েবে আমির নূর হোসাইন কাসেমী, মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, মাওলানা আব্দুল কুদ্দস, মাওলানা সাজিদুর রহমান প্রমুখ। সভায় হেফাজতের ইসলাম বাংলাদেশের আমির শাহ আহমদ শফীর উপস্থিত হওয়ার কথা থাকলেও অসুস্থতার জন্য তিনি আসতে পারেননি। তার পে ছেলে মাওলানা আনাস বক্তব্য রাখেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী তাবলিগ-জামাতের এক সাথী জানান, বাংলাদেশ তাবলিগ-জামাত পরিচালনা কমিটির সুরা সদস্য ১১ জন। এর মধ্যে সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম ও হাফেজ মাওলানা জুবায়েরের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্ব ও গ্রুপিং দীর্ঘদিনের। তারা একে অপরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও তুলেছেন। তিন-চার বছর ধরেই এই দলাদলি চলছে। এর আগে মাসোয়ারায় ঝামেলা হওয়ায় কোনও বৈঠক হত না। সঙ্কট নিরসনে সর্বশেষ মঙ্গলবার সকালে বৈঠক শুরু হয়। এ সময় ওয়াসিফুল ও জুবায়ের গ্রুপ একে অন্যের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করতে থাকেন। তখন দুই পই সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে। প্রথমে ধাক্কাধাক্কি, এরপর হাতাহাতি হয় তাদের মধ্যে। এ সময় কওমী মাদ্রাসার শিার্থীরা জুবায়ের গ্রুপের প হয়ে লাঠিসোটা নিয়ে ওয়াসিফুল গ্রুপকে ধাওয়া করলে পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মাসোয়ারা কসহ মসজিদের ভেতরের কয়েকটি ক ভাঙচুর করা হয় বলেও তাবলিগ-জামাতের ওই সাথী জানান।

অনেক চেষ্টার পরও সংঘর্ষের বিষয়ে তাবলিগ-জামাতের মজলিশে শূরা সদস্য ও ফায়সাল (আমির) সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম ও হাফেজ মাওলানা জুবায়েরের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে তাদের বক্তব্য মেলেনি।

রাতে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রমনা থানার ওসি কাজী মইনুল ইসলাম জানান, তাবলিগ-জামাতের সদস্যদের মধ্যে মতবিরোধের জেরে গতকাল দু’পরে মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি আপাত সুরাহা করা হয়েছে। যে কোনও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে