সংসদে প্রধানমন্ত্রী

৭ই মার্চের ভাষণে দেশের মানুষ উজ্জীবিত হয়েছিল

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৫ নভেম্বর ২০১৭, ১১:৩৭ | আপডেট : ১৫ নভেম্বর ২০১৭, ১২:৪৫ | অনলাইন সংস্করণ

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের মাধ্যমে জাতি উজ্জীবিত হয়েছিল বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  তিনি বলেন, আজকে এই ভাষণের স্বীকৃতি প্রমাণ করে, এটা কেবল একটি ভাষণ নয়, শোষিত-নির্যাতিত মানুষের অধিকার আদায়ের দিগদর্শন। এই ভাষণ নির্যাতিত মানুষের শক্তি যোগায়, এই ভাষণ শোষিত মানুষের অবলম্বন।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে আনিত এ সংক্রান্ত নোটিশের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, বাঙালিরা নিপীড়িত ছিল, তাদের মনে বেদনা ছিল। তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। বঙ্গবন্ধু তার ভাষণে বাঙালি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সেই আন্দোলনে যে পাকিস্তানিরা বাধা দিচ্ছিল, তা বুঝিয়েছিলেন। তিনি (বঙ্গবন্ধু) ১৯৪৮ সালে যে সংগ্রাম শুরু করেছিলেন, সেই সংগ্রামের পথ ধরে ৭ই মার্চের ভাষণ ছিল চূড়ান্ত মুহূর্ত। বাংলার মানুষ কী চায়, তা ভাষণে তুলে এনেছিলেন তিনি। তিনি বাঙালি জাতির জন্য কী করতে চান, সেটাও ওই ভাষণে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। ভাষণে তিনি অসহযোগ আন্দোলনে কী কী করতে হবে, তার নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। সেইসঙ্গে গরিব মানুষের যেন কষ্ট না হয়, সেজন্য কোন কোন ক্ষেত্রগুলো মুক্ত থাকবে, তা বলেছেন।

তিনি বলেন, মুক্তিকামী মানুষ যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করেছে। এই ভাষণের প্রতিটি লাইন যতবার পড়া যায়, ততবারই মনে হয়, এটা আবার নতুন করে পড়ছি। প্রতিটি বাক্যই যেন একটি করে কোটেশন। প্রতিটি বাক্যই এ দেশের মুক্তিকামী মানুষের জন্য প্রযোজ্য। এখনও কিন্তু মুক্তির সেই সংগ্রাম অব্যাহত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। তিনি অর্থনৈতিক মুক্তির পথে পা বাড়িয়েছিলেন, কিন্তু তা সম্পন্ন করতে পারেননি। আমাদের দায়িত্ব সেটাই পালন করা। জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার পর এই ভাষণ বাংলাদেশে নিষিদ্ধ হয়ে গেলো। যেখানে পাকিস্তানি সামরিক শাসক এই ভাষণ বন্ধ করতে পারেনি, সেখানে ৭৫-এর পর বাংলাদেশে সেই ভাষণ নিষিদ্ধ করে দেয়া হলো। তবে মুজিব সৈনিকদের কেউ থামিয়ে রাখতে পারেনি। পৃথিবীতে মনে হয় কোন ভাষণ নেই যে প্রতিটি জেলা-উপজেলা-ওয়ার্ডে বারবার বেজেছে। কত হাজারবার যে এটা বেজেছে, তার হিসাব করাও কঠিন। মানুষ ৪৬ বছরে ধরে শুনছে এই ভাষণ। কিন্তু এটা এখনও পুরনো হয়নি।

তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন প্রচার করা হতো এই ভাষণ। এটা মুক্তিযোদ্ধাদের প্রেরণা যোগাতো। আমরা যারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কাছে বন্দি ছিলাম। এই ভাষণটা শোনার জন্য আমরা অপেক্ষা করে থাকতাম। চাতক পাখির মতো বসে থাকতাম, কখন এটা শুনবো। এটা ছিল আমাদের বেঁচে থাকার অবলম্বন।

২০১০ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এটি ইউনেস্কোর ঐতিহ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্তির জন্য উদ্যোগ নেয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এর সঙ্গে সম্পৃক্ত পররাষ্ট্র ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, দূতাবাসসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ধন্যবাদ জানান। ইউনেস্কোর মহাসচিব ইরিনা বোকাবোকেও ধন্যবাদ জানান তিনি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে