ঘরে বসেও মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে: রওশন

  নিজস্ব প্রতিবেদক

২৩ নভেম্বর ২০১৭, ২১:২৪ | আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০১৭, ২১:৩২ | অনলাইন সংস্করণ

সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ বলেছেন, ঘরে বসেও মানুষ খুন হচ্ছে। ঘরে বসে মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। কারা দেখবে? তাদের নিরাপত্তা দেবে কে? বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের ১৮তম অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।

হঠাৎ করে মানুষের গুম হয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে রওশন এরশাদ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছে মানুষ। মুক্তিপণ আদায় করা হচ্ছে। আমি যা বলছি পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য থেকে বলছি। এসব কোনো বানানো কথা নয়। ৫ বছরের নিখোঁজ হয়েছে ৫১৯ জন মানুষ। তারা কিভাবে নিখোঁজ হলো? কদিন আগে অনিরুদ্ধ রায় ফিরে আসল। সে কোথায় ছিল? কে তাদের নিয়ে গেল? অন্যরা ফিরল না। তাহলে বোঝা যাচ্ছে ঘরে বসে মানুষ খুন হচ্ছে। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এই নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব কার-এটাই আমার প্রশ্ন। কাজেই এ বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখা দরকার।

মাদক প্রসারে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, মাদক থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হবে। ইয়াবার পর এখন ক্যাটামিন নামে নতুন মাদক এসেছে। নাকের সামনে স্প্রে করে নেশা করার নতুন পদ্ধতি।

তরুণ প্রজন্মকে রক্ষার জন্য রাত দশটার পর হোয়াটস অ্যাপ, ভাইভার, ম্যাসেঞ্জার এসব বন্ধ করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে রওশন এরশাদ বলেন, সৌদি আরবে এসব নাই। চীনেও নাই। স্মার্টফোন থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হবে। তিরি বলেন, সারারাত ধরে স্মার্ট ফোন দেখে। ব্লু হোয়েলে আত্মহত্যা করেছে। এ বিষয়ে সতর্ক হতে হবে। বাচ্চাদের বাঁচাতে হবে।

বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের দেওয়া বইয়ের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, এসব নিম্নমানের বই কতদিন টিকবে? নিম্ন মানের ছাপা। ছবি হাতের ঘষায় উঠে যাচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, কোটি কোটি লোক বেকার। আমার দেশব্যাপী ব্যবসার প্রসার ঘটাতে পারিনি। মানুষের কাজ নেই। কিন্তু কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করতে হবে। তাহলেই আমরা উন্নয়নের মহাসড়কে উঠতে পারব।

তিনি আরও বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে যন্ত্রর্নিভর হয়ে পড়ছে মানুষ। বর্তমান প্রজন্ম মেতে আছে তাদের স্মার্টফোন আর ভিডিও গেমে। তবে এ গেম প্রযুক্তিও আধুনিক হয়েছে। সাধারণ ভিডিও গেমের বদলে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে উঠেছে অনলাইন গেম। অবাক করার মতো বিষয় হলেও এটাই সত্যি, গেম খেলতে খেলতে একসময় আত্মহত্যা করতেও হৃদয় কাঁপছে না তাদের।

রওশন এরশাদ বলেন, বিশ্বে মাতৃমৃত্যুর ৯৯ শতাংশ উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ঘটে থাকে এবং এক শতাংশ উন্নত দেশগুলোতে। উন্নত দেশগুলোর এই উল্লেখযোগ্য সাফল্যের পেছনে রয়েছে অসংক্রামক রোগসহ জটিল রোগে আক্রান্ত গর্ভবতীদের চিকিৎসা সেবায় ম্যাটারনাল ফিটাল মেডিসিন বিভাগ। যা বাংলাদেশে ফিটো-ম্যাটারনাল মেডিসিন নামে পরিচিত। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগে আসা গর্ভবতী রোগীদের মধ্যে শতকরা ৮০ জনই উচ্চ ঝুঁকি সম্পন্ন। এই বিভাগে দুই বছর আগে ফিটো-ম্যাটারনাল মেডিসিন ইউনিট খোলা হয়েছে। কিন্তু এই ইউনিটে কোনো বিশেষজ্ঞ নেই। এ বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য বিবেচনা করছি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে