মাদক নিয়ে বিরোধের জেরে গাজীপুরে জোড়া খুন

  গাজীপুর প্রতিনিধি

১৩ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৮:২২ | আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৮:৩৬ | অনলাইন সংস্করণ

নিহত আক্তার হোসেন ও আশিবুর রহমান
গাজীপুরের টঙ্গীর দত্তপাড়া এলাকায় দুই প্রবাসীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন একজনকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার রাতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের দাবি, এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়ে বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছে।

নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে দুই চাচাতো ভাই দুবাই প্রবাসী আক্তার হোসেন ও আশিবুর রহমান মোবাইলে ফোন পেয়ে বাড়ি থেকে বের হন। সন্ধ্যা ৭টার দিকে দত্তপাড়ার বায়তুল রহমান জামে মসজিদের পাশে একটি নির্মাণাধীন ভবনে দুর্বৃত্তরা তাদেরকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
 
আজ বুধবার বিকেলে মরদেহ দু’টি শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়না তদন্তের পর বাড়িতে নিয়ে যায় স্বজনরা।

নিহত আক্তারের বাবা মুজিবুর রহমান কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, আক্তারের ২১ দিন বয়সী এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। আক্তার আমার একমাত্র ছেলে। আজ আমার বুক খালি হয়ে গেছে। এখন আমার কী হবে! বিকেলে আক্তার আমার সঙ্গে বাজার করতে গিয়েছিল। বাজার নিয়ে সে বাড়ি আসে। এরপর মোবাইল ফোনে তার ভাইয়ের মারার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় আক্তার। এসময় দুর্বৃত্তরা তাকেও খুন করে। মৃত আক্তার ও আশিবুরের সাথে কারও বিরোধ ছিলনা বলে দাবি করেন তিনি।

এসময় নিহতের সন্তানদের জড়িয়ে ধরে আহাজারি করছিলেন আক্তারের মা।

আশিবুর রহমানের বাবা হাবিবুর রহমান জানান, ৭ মাস আগে ইতালি থেকে দেশে ফিরেন আশিবুর রহমান। মঙ্গলবার মোবাইলে ফোন পেয়ে শ্বশুর বাড়ি থেকে আশিবুর নির্মাণাধীন ওই ভবনে আসে। এরপরই সন্ত্রাসীরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে খুন করে। তিনি জোড়া খুনের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানে প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।
 
গাজীপুর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, নিহত আশিবুর রহমানের সঙ্গে স্থানীয় জিতু গ্রুপের দ্বন্দ্ব ছিল। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও মাদক নিয়েই মূলত তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব বাঁধে এবং দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাও ছিল।

পুলিশ সুপার বলেন, আমরা জোড়া খুনের ক্লু বের করতে সক্ষম হয়েছি। হত্যাকাণ্ডের পর জিজ্ঞাসাবাদে সোলায়মান নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। জিতুসহ অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে। মামলা দায়েরসহ অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে