‘দেশবিনাশী’ প্রকল্প বাতিলের দাবিতে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার ডাক

  অনলাইন ডেস্ক

১৪ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৮:০৬ | অনলাইন সংস্করণ

আগামী ১৬ ডিসেম্বর (শনিবার) মহান বিজয় দিবসে ‘দেশবিনাশী’ সব প্রকল্প বাতিলের দাবিতে দেশ ও বিদেশে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘প্রাণ, প্রকৃতি ও মানুষের পক্ষে জনগণ’ নামে একটি ইভেন্ট খোলা হয়। সেখান থেকে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

বাতিলের দাবি জানানো প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো- রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। এরই মধ্যে দেশ-বিদেশে এই কর্মসূচি পালনে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে বলে আয়োজকরা জানিয়েছে।

ফেসবুক ইভেন্টটির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকার বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের নামে রামপাল, রূপপুরসহ সারাদেশে যেভাবে কয়লা ও পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বসানোর পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে তাতে কেবল ভারত, রাশিয়াসহ বিভিন্ন বিদেশি কোম্পানি ও দেশীয় লুটেরা গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষাই করা হবে। এগুলো বাস্তবায়িত হলে সুন্দরবনসহ দেশের আকাশ-বাতাস, নদী-মাটি-পানি ভয়াবহ দূষণের কবলে পড়ে পুরো দেশটাই একটা বিষাক্ত ভাগাড়ে পরিণত হবে। সারা বিশ্বের উদাহরণ ও স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের মতামত সে কথাই বলে। যেখানে বাংলাদেশের কোনো অভিজ্ঞতা নেই সেখানে রূপপুরের মতো বিপজ্জনক একটা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সামান্যতম দুর্ঘটনা হলে দেশ পরিণত হতে পারে এক মহাশ্মশানে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সোনার বাংলার সামনে যদি মহাশ্মশান হওয়ার হুমকি থাকে তাহলে আমাদের পুরো জাতীয় সঙ্গীতই অর্থহীন হয়ে পড়ে। আর এ কারণেই প্রাণ, প্রকৃতি ও মানুষের পক্ষে জনগণের উদ্যোগে ১৬ ডিসেম্বর জাতীয় সঙ্গীতকে সমুন্নত রাখতে ও দেশবিনাশী অন্যান্য প্রকল্প বাতিলের দাবিতে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া হবে।

এই কর্মসূচি আহ্বানকারীদের সূত্রে জানা গেছে, এই স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগে সাড়া দিতে সারাদেশের বিভিন্ন জেলায় এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরাও জাতীয় সঙ্গীত গাইবেন। কেন্দ্রীয়ভাবে এই দাবিতে জাতীয় সঙ্গীত গাইতে ১৬ ডিসেম্বর বিকাল সাড়ে তিনটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে জড়ো হবেন শিল্পী, শিক্ষক, সাংবাদিক, শিক্ষার্থী, নাট্যকর্মী, লেখক, কবি, আইনজীবী, শ্রমিকসহ নানা পেশার মানুষ।

একই দাবিতে নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, সিলেট শহর, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ, দিনাজপুর, ফুলবাড়ি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, ঢাকার তেজগাঁও, মুগদাপাড়া, জুরাইনসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় জাতীয় সঙ্গীত গাইবে শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

অন্যদিকে ওইদিন যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ইতালি, ফ্রান্স, নরওয়ে, কানাডা, সিঙ্গাপুর, ভারত, চীন, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসী বাংলাদেশিরা জাতীয় সঙ্গীত গাইবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে