• অারও

সাকরাইন উৎসব

ঘুড়ি আর আতশবাজিতে রঙিন পুরান ঢাকার আকাশ

  জবি প্রতিবেদক

১৪ জানুয়ারি ২০১৮, ২০:০৭ | আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০১৮, ২০:২৮ | অনলাইন সংস্করণ

পৌষের শেষে মাঘ মাসের প্রথম দিনে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সাকরাইন উৎসব পালিত হয়েছে। নীল আকাশজুড়ে নানান রঙ আর বাহারের ঘুড়িতে ছেয়ে যায় রাজধানীর পুরান ঢাকার বায়ান্ন রাস্তা আর তিপ্পান্ন গলির অধিকাংশ বাড়ির খোলা ছাদ। প্রচণ্ড শীত এতটুকুও ম্লান করতে পারেনি উৎসবের আনন্দকে।

প্রতি বছর পৌষ মাসের শেষ দিনে পালন করা হয় পৌষ সংক্রান্তি উৎসব বা আদি ঢাকাইয়াদের ঐতিহ্যের সাকরাইন উৎসব। ভোরবেলা কুয়াশার আবছায়াতেই ছাদে ছাদে শুরু হয় ঘুড়ি ওড়ানোর উন্মাদনা। ছোট বড় সকলের অংশগ্রহণে মুখরিত হয়ে ওঠে প্রতিটি বাড়ির ছাদ। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে উৎসবের জৌলুস। আর শীতের বিকেলে ঘুড়ির কাটা-কাটি খেলা উত্তাপ ছড়ায়।  সন্ধ্যায় থাকে আধুনিক সাউন্ড সিস্টেমের সঙ্গে আগুন নিয়ে খেলা আর আতশবাজির আলো।  

জানা যায়, পৌষ মাসের শেষ দিন সাকরাইনে নতুন ধানের চালের পিঠাপুলি খেয়ে, ঘুড়ি উড়িয়ে আনন্দ উৎসব করার রেওয়াজ বহু পুরনো। ঢাকায় এই উৎসব হচ্ছে প্রায় ৪০০ বছর ধরে। বাংলাদেশের পুরনো ঢাকায় ঘুড়ি ওড়ানো বিনোদন শুরু হয়েছিল মুঘল আমলে। বলা হয়ে থাকে, ১৭৪০ সালে নবাব নাজিম মহম্মদ খাঁ এই ঘুড়ি উৎসবের সূচনা করেন। সেই থেকে এই উৎসব পালিত হয়ে আসছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে পৌষসংক্রান্তির এই উৎসব পালনের রীতি চালু আছে। নেপালে একে বলে মাঘি, থাইল্যান্ডে সংক্রান, লাওসে পি মা লাও, মিয়ানমারে থিং ইয়ান, কম্বোডিয়ায় মহাসংক্রান এবং ভারতে মকরসংক্রান্তি। পশ্চিম ভারতের গুজরাটেও পালিত হয় এই উৎসব। উত্তর ভারতীয় এ ঘুড়ি উৎসবটিকে স্থানীয়রা 'সাকরাইন' নামে অভিহিত করে। সেখানে মানুষ সুন্দর সুন্দর ঘুড়ির মাধ্যমে সূর্যদেবতার কাছে নিজেদের ইচ্ছা ও আকুতি প্রেরণ করেন।

অতীতে সাকরাইনে পুরান ঢাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে জামাইদের নাটাই, বাহারি ঘুড়ি উপহার দেওয়া এবং পিঠার ডালা পাঠানো ছিলো অবশ্য পালনীয় অনুসঙ্গ। ডালা হিসেবে আসা ঘুড়ি, পিঠা আর অন্যান্য খাবার বিলি করা হতো আত্নীয়-স্বজন এবং পাড়া-প্রতিবেশীদের মাঝে। একটা নীরব প্রতিযোগিতা চলতো কার শ্বশুরবাড়ি হতে কত বড় ডালা এসেছে। আজ এই সব চমৎকার আচারগুলো বিলুপ্ত হতে চলেছে। পুরান ঢাকার আদি বসবাসকারী সকল মানুষ আজও এই ঐতিহ্যগুলোর স্মৃতি রোমন্থন করেন।

তবে সাকারাইন উৎসব এখন আর শুধু ঢাকাইয়াদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সাকরাইন পুরান ঢাকায় বসবাসকারী সকল মানুষের উৎসবে পরিণত হয়েছে এমনকি ঢাকার বাইরেও।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে