'আমি নিজের মত গাড়ি চালাই, কেউরে বেইল দেই না'

  সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি

২৩ জানুয়ারি ২০১৮, ১৯:৪৫ | আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০১৮, ২১:২৮ | অনলাইন সংস্করণ

নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া থেকে সিদ্ধিরগঞ্জে যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম হলো মিনিবাস, টেম্পু ও লেগুনা। বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স, রুটপারমিট ও ফিটনেস সার্টিফিকেট ছাড়াই পরিবহনগুলো বছরের পর বছর চলাচল করছে এই সড়কে। পরিবহনগুলোর চালকরও বৈধ নন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোররা বসে থাকে চালকের আসনে।

 চাষাড়া থেকে আদমজী-শীমরাইল সড়কের অধিকাংশই লেগুনার দখলে। যার বেশির ভাগ চালক অদক্ষ ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক কিশোর। অনেক সময় দেখা যায় চালকের সহকারী হিসেবে কাজ করতে করতে নিজেই চালকের আসনে বসে পড়ছে তারা। ‘ওস্তাদে’র কাছ থেকে নামে মাত্র ড্রাইভিং শিখে কোন প্রকার লাইসেন্স ছাড়াই চালকের আসনে বসে পড়ছে। এদিকে এই পরিবহনগুলোর মালিক-শ্রমিকরা কোন নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই এসব অদক্ষ চালকদের হাতে নিজেদের গাড়ি তুলে দিচ্ছেন।

এই গণপরিবহনগুলো চলাচলে মানা হচ্ছে না কোন নিয়মকানুন। পাশাপাশি এসব কিশোর চালকের সহকারী হিসেবে শিশুদের কাজ করতে দেখা যাচ্ছে। এদিকে অদক্ষ হাতে বেপোরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর কারণে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে অনেক যাত্রী। এমনটাই বলছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞরা।  

কথা হয় মাইনুদ্দিন (১৩) নামে এক কিশোর চালকের সঙ্গে। সে তার ওস্তাদের কাছে ড্রাইভিং শিখেই লেগুনা চালাচ্ছে বেশ কদিন ধরে। সিদ্ধিরগঞ্জের দুই নম্বর ঢাকেশ্বরী এলাকার লেগুনার এই চালককে ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে কিনা বা পুলিশ কিছু বলে কিনা জানতে চাইলে আমাদের সময়কে বলে, ‘পুলিশ কখনও কিছু কয় না। অনেক সময় গাড়ি থামায়া পরে আবার ছাইড়া দেয়। আমি নিজের মত গাড়ি চালাই, কেউরে বেইল দেই না।’

এদিকে নিজেদের অদক্ষতার কথা মানতে নারাজ মাইনুদ্দিনের মত কিশোর চালকদের ওস্তাদরা। তারা জানাচ্ছেন ভিন্ন কথা। এমন একজনের নাম আলমগীর। তিনি আমাদের সময়কে বলেন, ‘অভিজ্ঞ সিনিয়রদের না দিয়ে কম বয়স্কদের দিয়ে বেশি আয় করার জন্য গাড়ির মালিকরা কিশোরদের দিয়ে গাড়ি চালায়।’

এদিকে গাড়ির স্টিয়ারিংয়ের হাল ধরার প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে নেই চালকদের শিশু সহকারীরাও। এসব কিশোর ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক পরিবহন শ্রমিকরা প্রথমে আসক্ত হচ্ছে ধূমপানে এবং পরবর্তীতে তারা বিভিন্ন মাদকেও আসক্ত হয়ে যাচ্ছে। এই মাদকাসক্ত অবস্থায় গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে প্রায় সময় ঘটছে দূর্ঘটনা। সব জেনেও বাধ্য হয়েই এই সব গণপরিবহনে উঠছে যাত্রীরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুস সাত্তার মিয়া বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরেও এসেছে। সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে অনেক পরিবহনেই অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু-কিশোর শ্রমিক। যা কিনা একটি রিস্কি বিষয়। আমরা এ বিষয়ে খুব শিগগিরই ব্যবস্থা গ্রহণ করব। অপ্রাপ্ত বয়স্ক লাইসেন্সবিহীন কোনো চালক দেখলে আমরা তার বিরুদ্ধে এবং গাড়ির মালিকের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব। তবে এক্ষেত্রে বিআরটিএ’র সহযোগীতা প্রয়োজন। কেননা, এই বিষয়টি সম্পূর্ণ বিআরটিএ নিয়ন্ত্রণ করে।‘

এ সব অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে নারায়ণগঞ্জ বাংলাদেশ সড়ক ও পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সহকারী পরিচালক মো. আবদুল খালেক আমাদের সময়কে বলেন, ‘ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন গাড়িচালকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন সাজা এবং জরিমানা করে করে থাকি। পাশাপাশি ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হয়। ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন গাড়ি চালকদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাজা হচ্ছে চার মাসের কারাদণ্ড। অপরাধভেদে অনেককে জরিমানাও করা হয়।’

আবদুল খালেক আরও বলেন, ‘স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন যদি এ বিষয়ে একটু নজরদারী করে তবে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। সম্প্রতি ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু নতুন নীতিমালা প্রণয়নের প্রস্তুতি চলছে। খসড়া কিছু নীতিমালাও নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই নীতিমালার মধ্যে সবচেয়ে প্রধান যে বিষয়টি রয়েছে তা হলো-কমপক্ষে অষ্টম শ্রেণি পাস না হলে কাউকে ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়া হবে না।’

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে