মাছের ঘেরে শিক্ষার্থীর ইট বাধা লাশ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

২৩ জানুয়ারি ২০১৮, ২৩:৪৬ | অনলাইন সংস্করণ

অপহরণের ৩ দিন পর কোমরে ইট বাধা অবস্থায় স্কুলছাত্র জিসানের লাশ উদ্ধার
রাজধানীর খিলগাঁও থেকে অপহরণের ৩ দিন পর এক স্কুলছাত্রের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার নাম মো. জিসান হোসেন (১৩)। সোমবার বিকেলে বাড্ডার আফতাবনগর এলাকায় জনৈক আলমগীরের মাছের ঘেরে কোমরে ইট বাধা অবস্থায় ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ পাওয়া যায়। মঙ্গলবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে শিশুটির বাবা মোফাজ্জল হোসেন ছেলের লাশ শনাক্ত করেন।

জানা গেছে, যেই ঘের থেকে জিসানের মরদেহ উদ্ধার করা হয় সেই ঘেরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা মোট ৬ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, অপহরণকারীরা জিসানের মুক্তিপণ বাবদ তার বাবার কাছে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলো। এই বিষয়ে খিলগাঁও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়। অপহৃত জিসানের সন্ধান পেতে তদন্ত করছিল খিলগাঁও থানা পুলিশ।

জিসানের বাবা মোফাজ্জল হোসেন জানান, খিলগাঁও সিপাহীবাগের ২৫২/৩ নম্বর বাসায় সপরিবারে থাকেন তিনি। জিসান স্থানীয় ইন্টারন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের ৭ম শ্রেনীর ছাত্র ছিল। ২ ভাই ২ বোনের মধ্যে জিসান ৩য়। মোফাজ্জল হোসেন খিলগাঁও সিপাহীবাগ নতুন রাস্তায় অবস্থিত একটি রিকশা গ্যারেজের মালিক। তার স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস জিয়াছমিন গৃহিনী। গত শুক্রবার দুপুরে দাওয়াত খেতে যাওয়ার কথা বলে জিসান বাসা থেকে বেরিয়ে যায়। এরপর একবার তাদের রিকশার গ্যারেজের সামনে জিসানকে দেখা গেলেও পরবর্তিতে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। শুক্রবার সর্বশেষ তার অবস্থান ছিল খিলগাঁও চৌরাস্তায়।

তিনি আরও জানান, নিখোঁজ হওয়ার দিনই জিসানের মোবাইল থেকে তার বাবার মোবাইলে ফোন করে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে দুর্বৃত্তরা। ঘটনার পরদিন এই বিষয়ে খিলগাঁও থানায় একটি জিডি করেন মোফাজ্জল হোসেন। পরবর্তিতে অপহরণকারীরা জিসানের বাবাকে একটি মোবাইল ম্যাসেজ পাঠায়ে। তাতে লেখা রয়েছেÑ‘ছেলেকে জীবিত দেখতে চাইলে থানা পুলিশের ঝামেলা কইরেন না, তাতে আপনার খরজ (খরচ) ও হবে। আপনি পুলিশকে জানাইছেন আমার কানে খবর আসছে। ৭ দিন সময় দিলাম, খুঁজে বের কর।’ এরপর জিসানের মোবাইল ফোনটি বন্ধ করে দেয় অপহরণকারীরা। এই বিষয়টিও পুলিশকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ জিসানকে উদ্ধার করতে পারেনি। আজ সন্ধ্যায় খবর পেয়ে ঢামেক মর্গে গিয়ে ছেলের (জিসান) মরদেহ শনাক্ত করেন মোফাজ্জল হোসেন। ছেলের হত্যাকারীর ফাঁসি দাবি করেন তিনি।

খিলগাঁও থানার ওসি মশিউর রহমান জানান, অপহৃত ওই কিশোরকে উদ্ধারের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছিলো। এর মধ্যেই পাশের থানা এলাকা থেকে এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধারের খবর আসে। এদিকে জিসানের বাবা নিখোঁজ ছেলের বর্ণনায় জানিয়েছেন, বাসা থেকে বের হওয়ার সময় তার ছেলের পরনে ছিল লাল পাঞ্জাবি ও জিন্সের প্যান্ট। আজ বিকেলে ঢামেক মর্গে লাশ দেখার পর জিসানের বাবার দেয়া ছেলের বর্ণনা মিলে যাওয়ায় মোফাজ্জল হোসেনকে খবর দেয়া হয়। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে মর্গে গিয়ে ছেলের লাশ শনাক্ত করেন তিনি।

বাড্ডা থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে সোমবার দুপুরে বাড্ডার আফতাব নগরের একটি ঝিল থেকে এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করা হয়। এসময় লাশের শরীর ইট দিয়ে বাঁধা ছিল। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢামেক মর্গে পাঠানো হয়। আজ ওই কিশোরের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে