প্রবাসী পাত্র পেয়ে বাল্যবিবাহের চেষ্টা, ঠেকালেন ইউএনও

  চকরিয়া প্রতিনিধি

২৬ জানুয়ারি ২০১৮, ১৭:৩৩ | আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০১৮, ১৯:০৬ | অনলাইন সংস্করণ

স্থানীয় মাদ্রাসার নবম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল কোবরা। বয়স মাত্র ১৫ বছর। দরিদ্র বাবা-মা প্রবাসী পাত্র পেয়ে সরকার নির্ধারিত বয়সের আগেই ঠিক করেছিলেন মেয়ের বিয়ে। বিয়ের দিন-ক্ষণ ঠিক করা হয়েছিল আজ শুক্রবার। মেয়ের বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় কৈয়ারবিল এলাকায়।

তবে শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি এ বাল্যবিবাহের চেষ্টা। উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও-ভূমি) খোন্দকার মো. নুরুদ্দীন মোহাম্মদ শিবলীর হস্তক্ষেপে বন্ধ হয়েছে জান্নাতুলের বিয়ে।  

নুরুদ্দীন মোহাম্মদ শিবলী জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে বিয়ের খবর পান তিনি। পরে রাত ৯টার দিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খোন্দকার মো. ইখতিয়ার উদ্দিন আরাফাতকে পুলিশসহ জান্নাতুলের বাড়ি কৈয়ারবিলে পাঠান।

ইউএনও আরও জানান, জান্নাতুলের বাড়ি যাওয়ার পর পাত্রীর বয়স নির্ধারণ করতে তার বাবা দেলোয়ার হোসেনের তথ্য চান আরাফাত। তখন তিনি (দেলোয়ার) একটি নকল জন্মনিবন্ধন সনদ দেখান। সেখানে জান্নাতুলের বয়স দেখানো হয় ১৯ বছর। ওই সনদ দেখে সন্দেহ হলে জাতীয় পরিচয়পত্র চান আরাফাত। তবের দেলোয়ার হোসেন তা দেখাতে পারেননি।

এর পর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) কার্যালয়ের বালাম বই ও মাদ্রাসায় জমা দেয়া জন্ম সনদ দেখে জান্নাতুলের বয়স নির্ধারণ হয় ১৫ বছর। পরে ইউপি কার্যালয়ে গিয়ে তার বাবা দেলোয়ারের কাছ থেকে মেয়ের বয়স ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে না দেওয়ার অঙ্গীকার নেয়া হয়।

এর আগে যেন জান্নাতুলের না হয় তা নজরদারী  করতে স্থানীয় চেয়ারম্যান মক্কি ইকবালকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান ইউএনও নুরুদ্দীন। 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে