রায়ের পর অঝোরে কাঁদলেন রিজভী, কাঁদলেন অন্যরাও

  নিজস্ব প্রতিবেদক

০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৪:৫৮ | আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৭:০২ | অনলাইন সংস্করণ

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া তারেক রহমানসহ মামলার বাকি পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড এবং দুই কোটি ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

রায় ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়া জানাতে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী।

সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় অন্যায় ও প্রতিহিংসামূলকভাবে, যেটির আশঙ্কার কথা আমরা আগেই বলেছি, সেটাই চরিতার্থ হতে দেখেছি। আমরা প্রতিশোধ, প্রতিহিংসার ভয়ংকর স্বরূপটি দেখতে পেলাম এই বিচারের রায়ের মধ্য দিয়ে। প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত আক্রোশের প্রতিফলন দেখলাম।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে রিজভী আরও বলেন, ‘একজন বিধবা নারী, সন্তান ছাড়া একজন নারী। এক সন্তান অসুস্থ অবস্থায় বিদেশে অবস্থান করছেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে নয় বছরের নিষ্ঠুর নির্যাতনে ক্ষতবিক্ষত করার পরও অসাধারণ দৃঢ়শক্তি এবং জনগণের প্রতি ভালোবাসা এবং অঙ্গীকারে অনন্য প্রত্যয় দীপ্ত মানুষ বেগম খালেদা জিয়া। তাকে ভয়ংকরভাবে পর্যুদস্ত করার জন্য এক নীলনকশা দীর্ঘদিন ধরে এই সরকার এবং সরকারের যারা মুরব্বি তারা করে এসেছে। কারণ খালেদা জিয়া থাকলে সার্বভৌমত্ব থাকবে, গণতন্ত্র থাকবে, বেগম খালেদা জিয়া স্বাধীনতার কথা বলে। মাটি মানুষের সঙ্গে অনন্যভাবে জড়িত এক নেত্রীর নাম বেগম খালেদা জিয়া। এ কারণে তার প্রতি যত প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা, ক্ষোভ ভোটারবিহীন সরকারের।’

এ সময় কথা বলতে বলতে হঠাৎ কান্নায় ভেঙে পড়েন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী। সঙ্গে সঙ্গে কার্যালয়ে উপস্থিত অন্য নেতারাও কান্নায় ভেঙে পড়েন।

রিজভী বলেন, পৃথিবীর কোনো দেশেই সন্তানহারা, বিধবা নারীকে সাজা দেওয়ার নজির নেই। এটি যেন এক দীর্ঘ প্রতিহিংসা।

অভিযোগ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আরও বলেন, এই রায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিহিংসার রায়। গণতন্ত্রকে ধুয়ে-মুছে একক কতৃত্ববাদী শাসন করবে, একদলীয় শাসন দীর্ঘায়িত করার জন্য, প্রতিপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করার জন্যই এই রায়। 

আজ বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে পুরান ঢাকার বকশিবাজারে স্থাপিত বিশেষ আদালতের বিচার আকতারুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন।

এর আগে দুপুর দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে আদালতে পৌঁছান বিএনপির চেয়ারপারসন।এর আগে বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে গুলশানের বাসা থেকে বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসায় স্থাপিত বিশেষ আদালতের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি।

খালেদা জিয়ার গাড়িবহর আদালতে যাওয়ার পথে রাজধানীর মগবাজারের ছাত্রদল ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী এবং কাকরাইলে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে