যে কারণে বড় আন্দোলনে যায়নি বিএনপি

  নজরুল ইসলাম

১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১১:০৮ | অনলাইন সংস্করণ

চূড়ান্ত আন্দোলনের সময় এখনই নয়, তাই সাংগঠনিক শক্তি ক্ষয় না করে আরও কয়েক মাস অপেক্ষা করতে চায় বিএনপি। দলটি মনে করে, জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে নির্বাচনকালীন সরকারের দাবিতে আন্দোলনে যাওয়ার চূড়ান্ত সময়। সেই সময়কে বেছে নিতেই দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের সাজার পরও বিএনপি অহিংস আন্দোলনে আছে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলুর ভাষায়, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছি। কারণ আগামীতে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে নির্বাচনের জন্য আন্দোলন করব, অর্থাৎ আমাদের আন্দোলন হবে ‘নির্বাচনমুখী’।

দলের নীতিনির্ধারণী সূত্রের খবর, বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে এটা চূড়ান্তই বলা চলে। নির্বাচনকে ঘিরে তাদের সব প্রস্তুতি। আগামীতে আন্দোলন হলে সেটি হবে নির্বাচনের জন্য আন্দোলন। তাই সব ঠিক থাকলে আগামী আগস্টের আগে বড় ধরনের আন্দোলনে নামছে না বিএনপি। কারণ সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা হতে পারে। সে হিসাব করে আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিকল্পনা করছে দলটি।

সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান আমাদের সময়কে বলেন, নেত্রীর নির্দেশমতো তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছেন। বড় কোনো কর্মসূচি দেননি। এটি তাদের রাজনৈতিক কৌশল। তবে চাইলে যে তারা বড় ধরনের আন্দোলন করতে পারেন, তা বেগম জিয়া আদালত যাত্রাকালে মানুষের উপস্থিতিতি বলে দিচ্ছে।

দলের শীর্ষ পর্যায়ের অন্তত তিন নেতার সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, সাজা নিয়ে বড় ধরনের আন্দোলনে গেলে সরকার নাশকতার মামলা দিয়ে তাদের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করত। সিনিয়র নেতারা এসব মামলায় কারাগারে থাকত। হাজার হাজার নেতাকর্মীর অনেকে কারাগারে, অনেককে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে পালিয়ে থাকতে হতো। এতে বেকায়দায় থাকত বিএনপি। বিএনপিকে বেকায়দায় রেখে সরকার নির্বাচনে যেত, তখন বিএনপি নির্দলীয় সরকার নিয়ে আন্দোলন করতে পারত না। নির্বাচনের মাঠেও থাকত নির্জীব।

জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আমাদের সময়কে বলেন, দেশের মানুষ মনে করে আগামী নির্বাচনে অযোগ্য ও রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে ভিত্তিহীন মামলায় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আদালতকে ব্যবহার করে সাজা দেওয়া হয়েছে। এ মামলা আমরা আইনি এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মোকাবিলা করব।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা জানান, তাদের মূল টার্গেট নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। কারামুক্ত করে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ওই নির্বাচনে অংশ নিতে চায় দলটি। দলটির নেতারা মনে করেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের ওপর যথেষ্ট চাপ সৃষ্টি করতে না পারলে, কোনো দাবি আদায় করা সম্ভব নয়। এই নিয়ে পরামর্শ নিতে বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে বৈঠক করেন খালেদা জিয়া। নানা দিক বিশ্লেষণ করে বৃদ্ধিজীবীরা খালেদা জিয়াকে জনমত গঠনে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ও একা যুদ্ধ না করে সরকারের বাইরের গণতান্ত্রিক দলগুলো নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠনসহ নানা পরামর্শ দেন ওই বৈঠকে। বুদ্ধিজীবীদের পরামর্শ অনুযায়ী, ধারাবাহিকভাবে কয়েকদফা স্থায়ী কমিটি, নির্বাহী কমিটি ও ২০-দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন খালেদা জিয়া। সব বৈঠকেই খালেদা জিয়া দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর জোর দেন। সরকারের ফাঁদে পা না দেওয়া, সহিংসতায় না জড়ানো, কোনো ধরনের হঠকারী সিদ্ধান্ত না নিতে নেতাকর্মীদের কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন। নির্বাহী কমিটির সভায় বিএনপি চেয়ারপারসন তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। প্রথমত, সহিংসতা নয়। দ্বিতীয়ত, সরকার পরিবর্তন হবে ভোটের মাধ্যমে। এ জন্য তৃণমূলে দলকে আরও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তৃতীয়ত, মানুষ যাতে নিরাপদে ভোট দিতে পারে, সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

দলটির নেতারা জানান, এক-এগারোর সময় বিএনপি ভাঙার চক্রান্ত হয়েছিল। বিষয়টি চেয়ারপারসনের মাথায় ছিল। রায়ের সঙ্গে সঙ্গে যদি কঠোর কর্মসূচিতে যায় বিএনপি, তা হলে মূল টার্গেট নিরপেক্ষ সরকারের নির্বাচনের দাবি আদায়ই ব্যর্থ হয়ে যাবে। এই বিষয়টি উপলব্ধি করেই চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রায় ঘোষণা করলেও কঠোর না হয়ে শান্তিপূর্ণ ছিল বিএনপি।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা মনে করেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এখনো বেশ দূরে রয়েছে। এখন দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখে খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা ও তার সাজাকে পুঁজি করে শক্তি সঞ্চয় করতে হবে। সরকারের নানা অনিয়ম-দুর্নীতি মানুষের সামনে তুলে ধরতে হবে। দেশের বাইরেও বিদেশিদের সামনে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর সরকারের দমনপীড়নের বিষয়টি তুলে ধরতে হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে