প্রশ্ন ফাঁস

‘শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ সমাধান নয়’

  সিলেট প্রতিনিধি

১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ২০:০০ | অনলাইন সংস্করণ

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ বা পরীক্ষার আগে ইন্টারনেট বন্ধ রাখা কোনটাই প্রশ্ন ফাঁসের সঠিক সমাধান নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল। তিনি বলেছেন, ‘মূল কারণ উদঘাটন করে এর সমাধান করাটাই সব চেয়ে বেশি প্রয়োজন।’

আজ বুধবার সকালে সিলেটের মিরের ময়দানে বিশ্ব বেতার দিবস অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

জাফর ইকবাল বলেন, ‘আগে স্বীকার করতে হবে যে প্রশ্ন ফাঁস হয়। এরকমটা চলতে পারে না। আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের জীবন ধ্বংস করে দিচ্ছি। বিষয়টা স্বীকার করে নিলে এটি বন্ধ করা সহজ হবে। বলতে হবে যে, প্রশ্নপত্র ফাঁস করতে দিবই না।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মানসিকতা হচ্ছে, প্রশ্ন ফাঁস হবেই। সেটি যেন ছড়িয়ে না যায় সেটি রোধ করা। এভাবে ভাবলে সমাধান হবে না’

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক বলেন, ‘এভাবে প্রশ্ন ফাঁস চলতে থাকলে এদেশে শিক্ষার কোনো গুরুত্ব থাকবে না। সরকারকে এগুলো বন্ধ করতে হবে। প্রশ্নফাঁস নিয়ে আমি শহীদ মিনারে বৃষ্টিতে ভিজে আন্দোলন করেছি, তখন প্রশ্ন ফাঁসের কথা স্বীকারও করা হয়নি। এখন স্বীকার করা হচ্ছে। কিন্তু কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না ইন্টারনেট বন্ধ করা হচ্ছে।’

জাফর ইকবাল বলেন, ‘সংসদে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি উঠেছে। কিন্তু আমি মনে করি, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ কোনো সমাধান নয়। কিভাবে প্রশ্ন ফাঁস রোধ করা যায়, সে বিষয়ে ভাবতে হবে, দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। যারা প্রশ্ন ফাঁসের সাথে জড়িত তাদের শাস্তি দিতে হবে। ইন্টারনেট বন্ধের কথা না ভেবে প্রয়োজনে বিজি প্রেসে প্রশ্ন না ছাপিয়ে বিকল্প উপায়ে প্রশ্ন ছাপানোর ব্যবস্থা নিতে হবে।’

গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এসএসসি পরীক্ষার প্রতিটি বিষয়ে পরীক্ষা শুরুর আগেই প্রশ্ন এসেছে সামাজিক মাধ্যমে। পরীক্ষা শুরুর ২৪ মিনিট থেকে দেড় ঘণ্টা আগে প্রশ্নগুলো আপলোড করা হয় ফেসবুক, হোয়াটস অ্যাপসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে। যারা সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন আপলোড করেছে, তারা রীতিমতো মোবাইল ফোন নম্বর দিয়ে যোগাযোগের আহ্বান জানিয়ে আসছে। এমনকি তাদেরকে কিছু করা যাবে না বলেও সামাজিক মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ দিচ্ছে তারা। এই অবস্থায় পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস রোধে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে বাধা দিতে পরীক্ষা শুরুর সময় আড়াই ঘণ্টা ইন্টারনেট বন্ধ রাখার উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার। পরে তা বাতিল করা হয়েছে।

গত ৪ ফেব্রুয়ারি তদন্ত কমিটি গঠনের পাশাপাশি প্রশ্ন ফাঁসকারীদের ধরতে পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত শিক্ষক, শিক্ষার্থী, পরীক্ষার্থী, ব্যাংকার, অভিভাবকসহ গ্রেপ্তার হয়েছে অর্ধশতকের বেশি।

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে