ইউরোপীয় ইউনিয়নকে ইসির জবাব

খালেদা জিয়াকে নিয়ে কিছু করার নেই

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ২০:৪১ | আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ২২:২৫ | অনলাইন সংস্করণ

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে জানতে চেয়েছে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের (ইইউ) প্রতিনিধি দল। জবাবে বিষয়টি আদালতের দিকে ঠেলে দিয়ে ইসি জানিয়েছে, তাদের কিছু করা নেই। বিষয়টি এখন আদালতের ওপর নির্ভর করছে।

আজ বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার সঙ্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রতিনিধি দলের এক বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচন ব্যবস্থার খুঁটিনাটি বিষয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে। সবার অংশগ্রহণে আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে ‘স্বাধীন ও বিশ্বস্ত’ নির্বাচন কমিশন দেখতে চায় ইইউ।

বৈঠক শেষে প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকা জ্যঁ ল্যামবার্ট সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চায় ইইউ। এজন্য নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে হবে।

জ্যঁ ল্যামবার্ট বলেন, স্বাধীন ও বিশ্বস্ত নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচনের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এটা আগামী নির্বাচনের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ, যেন সর্বোচ্চ সংখ্যক ভোটাররা তাদের জনপ্রতিনিধিকে নির্বাচিত করতে পারে। এই লক্ষ্যে যেন সব রাজনৈতিক দল নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারে সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ইইউ অবগত কিনা এবং এই পরিস্থিতিতে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন সম্ভব কিনা, এমন প্রশ্নে জ্যঁ ল্যামবার্ট খোলাসা করে কিছু বলেননি। বিষয়টি আদালতের বিবেচ্য বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, মামলার বিষয়টি আদালত নিষ্পত্তি করবে। পরে নির্বাচন কমিশনে আসলে সেটা তাদের সিদ্ধান্ত। তবে কোনো রাজনৈতিক দলের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত একান্ত ওই দলের।

বৈঠক বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়নি। তারা সুনির্দিষ্ট কোনো ফোকাসের মধ্যে নাই। তারা কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞেস করেছেন। কোনো পরামর্শ দেননি।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘এ বিষয়ে (খালেদা জিয়ার নির্বাচনে অংশগ্রহণ) প্রতিনিধি দলের (ইইউ) একজন জানতে চেয়েছিলেন। সিইসি তাদেরকে বলেছেন, এটি আদালতের বিষয়। আদালত যদি অ্যালাও (অনুমতি)করেন তাহলে ইসির কিছু করার নেই। আর যদি অ্যালাও নাও করে, তাহলেও ইসির কোনো ভূমিকা থাকবে না। কমিশন সংবিধান ও আইন অনুযায়ী সবকিছু করবে।’

ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব বলেন, ‘ইইউ বলেছে, নির্বাচন কমিশন সংবিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবে সেটাই তারা প্রত্যাশা করেছে। আমরা বলেছি যে, সংবিধান ও আইন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা করবে।’

হেলালুদ্দীন আরও বলেন, ‘প্রতিনিধি দল মূলত আমাদের নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। নির্বাচনী খরচের সার্বিক তথ্যও জানতে চেয়েছেন। নির্বাচনে খরচের টাকা কে বহন করে? আমরা বলেছি, নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী তা সরকার বহন করে থাকে।’

হেলালুদ্দীন বলেন, ‘তারা আগামী সংসদ এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পর্কে জানতে চেয়েছিল। সিইসি তাদেরকে বলেছেন, রাষ্ট্রপতি পদে সংসদ সদস্যরা ভোট দেন। এবার যেহেতু একজন প্রার্থী ছিলেন। তাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে।’

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বা নির্বাচনে সহিংসতার বিষয়ে কোনো কথা হয়েছে কি—না বা কোনো বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছে কি না জানতে চাইলে সচিব বলেন, ‘এ বিষয়ে কোনো কথা হয়নি।’

বৈঠকে প্রবাসী ভোটার নিয়েও আলোচনা হয়েছে জানিয়ে ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব বলেন, ‘প্রবাসে যারা বসবাস করে তাদের কীভাবে ভোটার করা যায় তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ভোটার তালিকা কীভাবে তৈরি করা হয় সে বিষয়টিও ইইউ প্রতিনিধি দলকে অবগত করা হয়েছে। আমরা জানিয়েছি, আমাদের ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা আছে এবং জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে মূলত ভোটাররা ভোট দিয়ে থাকে।’

প্রায় ৪৫ মিনিটের ওই বৈঠকে জ্যঁ ল্যামবার্ডের নেতৃত্বে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের পার্লামেন্টারি ডেলিগেশনের আট সদস্য অংশ নেন। সিইসির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ ও যুগ্ম-সচিব (চলতি দায়িত্ব) এসএম আসাদুজ্জামান।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে