এমপি সামাদকে ‘বেয়াদব, পরশ্রীকাতর’ বললেন আ.লীগ নেতারা

  সিলেট প্রতিনিধি

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ২০:৫৩ | অনলাইন সংস্করণ

সিলেট-৩ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য (এমপি) মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীকে ‘বেয়াদব, প্রতিহিংসাপরায়ণ, আভিজাত্যের অহমিকায় অন্ধ, পরশ্রীকাতর’ উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন আওয়ামী লীগের নেতারা।

আজ  বুধবার বেলা ২টায় সিলেট নগরীর একটি হোটেলে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা আওয়ামী লীগের ব্যানারে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সম্মেলনে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো.রইছ আলীর লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন যুগ্ম সম্পাদক সাহেদ হোসেন।সংবাদ সম্মেলনে নেতারা অভিযোগ করেন, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সামাদ দলের ভেতর বসে দলেরই ক্ষতি করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তারা আরও  বলেছেন, ‘বিএনপি-জামাতকে ভেতর থেকে সমর্থন দিয়ে এলাকার জনপ্রতিনিধি করা হচ্ছে। এই এমপির জন্য দক্ষিণ সুরমার অধিকাংশ স্থানীয় নির্বাচনে নৌকার পরাজয় হয়েছে।’

এমপি সামাদের বিরুদ্ধে আরও  অভিযোগ করেন নেতাকর্মীরা। তারা বলেন, ২০১৬ সালের ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের বিরুদ্ধে সাংসদ মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী ন্যক্কারজনক ভূমিকা রাখেন। এমপি নিজের লোকদের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়ে প্রকাশ্যে তারই বিরোধিতা করায়।যার কারণে ৭ ইউনিয়নের ৫টিতে নৌকার প্রার্থীর পরাজয় হয়।’

বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর পক্ষে সাংসদের সাফাই গাওয়ার অভিযোগও তোলা হয় সংবাদ সম্মেলনে। এ সময় এমপি সামাদের এক সভার বক্তব্যের উদ্ধৃতি টেনে বলা হয়, ‘এম ইলিয়াস আলীর মতো জাঁদরেল এমপিই আমাদের প্রয়োজন।’

দক্ষিণ সুরমা উপজেলার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. রইছ আলী এমটি সামাদের আরেকটি জনসভার উদ্ধৃতি টেনে বলেন, “ফেঞ্চুগঞ্জে এমপি সামাদ বলেছিলেন,‘নবনির্মিত শাহজালাল (রহঃ) সার কারখানা আমি পুড়িয়ে ধ্বংস করে দেবো। আমি যেমন গড়তে জানি তেমন ধ্বংস করতে পারি।’ তার এই বক্তব্য উপস্থিত দলীয় নেতাকর্মীদের বিস্মিত করেছে। কত বড় কুলাঙ্গার হলে নিজ দেশে এতো বড় একটি প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের কথা মুখে আনতে পারেন তিনি।’’

রইছ আলী আরও বলেন, ‘সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলাকে অন্যায়ভাবে উন্নয়ন বঞ্চিত করছেন সাংসদ মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর সিলেট আগমন উপলক্ষে গত ২৭ জানুয়ারি উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় তিনি নিজেকে প্রধান অতিথি উল্লেখ করে বর্ধিত সভার মঞ্চে জোরপূর্বক ব্যানার টানিয়ে দেন। এর প্রতিবাদ করায় নিরীহ নেতাকর্মীদের উপর তার ভাড়াটে গুণ্ডারা হামলা চালায়।’

উপজেলার সিলাম ইউনিয়নের নবারুন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে সামাদের অশোভন আচরণ ও শিক্ষককে প্রকাশ্যে চপেটাঘাত করেছেন বলেও অভিযোগ করেন রইছ আলী। সম্প্রতি একটি পথসভায় দলীয় আরেক নেতাকে এমপি কান ধরে উঠবস করান। অনেক নেতাকর্মীকে তিনি নানাভাবে নাযেহাল করেছেন যা অত্যন্ত অপমানজনক বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বিগত চৌদ্দ বছর ধরে উপজেলা সম্মেলন নিয়ে এমপির টালবাহানায় সম্মেলন পিছিয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন রইছ আলী।

এ সময় দক্ষিণ সুরমা উপজেলার আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সাহেদ হোসেন বলেন, ‘তিনি দ্বিতীয় টার্মে নির্বাচিত হয়ে বিগত ৪ বছরে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার উন্নয়নে সুদূরপ্রসারী কোনো ভূমিকা রাখতে পারেননি। উপজেলার রাস্তাঘাটের অবস্থা খুবই করুণ। বিভিন্ন বিদ্যালয়ে আসবাবপত্র সংকট বিরাজ করছে। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কোন উন্নতি হয়নি।’ দক্ষিণ সুরমার প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণের ফলেই এ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সাহেদ আরও বলেন, ‘একজন ব্যর্থ ব্যক্তিকে আমরা জনপ্রতিনিধি হিসাবে দেখতে চাই না। আগামী নির্বাচনে কোন পাকিস্তানি দালাল, রাজাকার ও শান্তি কমিটির সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সন্তানদের নৌকা প্রতীক দেওয়া হবে না।’ এসময় দলীয় সভানেত্রীর কাছে এই বক্তব্যের বাস্তবায়ন দাবি করে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সম্পৃক্ত কোন ব্যক্তিকে আগামীতে মনোনয়ন প্রদানের জন্য অনুরোধ জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ সুরমা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আব্দুস সালাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শায়েদ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল মতিন, বন ও পরিবেশ সম্পাদক বশির আলী, আওয়ামী লীগ নেতা আকবর আলী, তপন চন্দ্র পাল, এম এ রব, মোগলাবাজার ইউপি চেয়ারম্যান ফকরুল ইসলাম শায়েস্তা, বোরহান উদ্দিন, মতিউর রহমান, জালাল উদ্দিন, আতাউর রহমান, মনোয়ার হোসেন মনু, লোকমান আহমেদ ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান সানি।

 

 

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে