ঢাকার বিদ্যুৎ লাইন মাটির নিচে নেওয়া শুরু

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ২২:০১ | অনলাইন সংস্করণ

রাজধানীর বিদ্যুৎ সাব-স্টেসনমসহ সব ধরনের লাইন মাটির নিচে নেয়ার কথা জানিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন,‘ধানমণ্ডি এলাকার বিদ্যুৎ লাইন আমরা মাটির নিচে নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু করেছি। ধীরে ধীরে ডিপিডিসি (ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউসন কোম্পানি) ও ডেসকোর (ঢাকা ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি) পুরো এলাকার যে সব সাব-স্টেশন মাটির নিচে চলে যাবে। একইসঙ্গে সব বিদ্যুৎ লাইনও।’

বুধবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনিত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, চলতি বছরেই রংপুর অঞ্চলে গ্যাসের পাইপ লাইনের কাজ শুরু হবে। নির্বাচনের আগেই রংপুরে গ্যাস যাবে।

নসরুল বলেন, ‘ভোলায় নতুন গ্যাসকূপ পাওয়া গেছে। ভোলায় ৭০০ বিলিয়ন কিউবিক ফিট গ্যাস পাওয়া যাবে। সেই গ্যাসের প্রেসার হবে ৫ হাজার ৬০০ পিএসআই। যা এ যাবতকালে দেশের গ্যাসের যে প্রেসার রয়েছে, তার মধ্যে সর্বোচ্চ।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ২০৪০ সালের মধ্য উন্নত বিশ্বের দেশে পরিণত হতে বিদ্যুৎ জ্বালানী খাতে বিনিয়োগ লাগবে ৭১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। বর্তমানে ২১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের কাজ চলছে। আগামি ২০৪০ সালে বিদ্যুতের চাহিদা দাঁড়াবে ৬০ হাজার মেগাওয়াট।’

তিনি জানান, সরকারের উপর আস্থা থাকায় ইউরোপ ও জাপান বিনিয়োগে আগ্রহী প্রকাশ করেছে। এরইমধ্যে  ইউরোপ থেকে বিদুৎ জ্বালানিতে বিনিয়োগ পেয়েছি প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার। আমাদের স্বাধীনতার ৪৫ বছরে ইতিহাসে এই সর্ব প্রথম ইউরোপের দেশগুলো বর্তমান সরকারের প্রতি আস্থা দেখিয়ে বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। জার্মানির সিমন্স কোম্পানি সাড়ে ৩০০ মেগাওয়াট বিদুৎ উৎপাদনের চুক্তি করেছে। চীনের সঙ্গে ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে চুক্তি হয়েছে। এই বছরই চীনের অর্থ আসা শুরু করবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মহেশখালীতে সমুদ্রের তলদেশ থেকে দুটি পাইপ লাইনের মাধ্যমে তেল আনার জন্য কাজ শুরু হয়েছে। আগামি দুই বছরের মাথায় বাংলাদেশের সমস্ত তেল ক্রুডওয়েল, ফিনিশ ওয়েল সব গভীর সমুদ্রের পাইপ লাইনের মাধ্যমে আসবে । বর্তমানে একটি জাহাজ খালাস করতে প্রায় ১২দিন সময় লাগে। এই পাইপ লাইন হলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে একটি জাহাজার খালাস করা সম্ভব হবে। এতে প্রতিবছর সরকারে সাশ্রয় হবে ১০০ মিলিয়ন ডলার।’

পরে আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধী দলের সদস্য ফখরুল ইমাম বলেন, ‘প্রতিমন্ত্রী অনেক আশার কথা শুনিয়েছেন কিন্তু এখনো নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ আমরা পাই না। এখনো লোডশেডিং হয় যদিও প্রতিমন্ত্রী স্বীকার করেন না।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিদ্যুতের কেন্দ্রগুলো কলঙ্কের প্রতীক হয়ে থাকবে। রামপাল, রূপপুর থেকে শুরু করে বিদ্যুতের যে বড় বড় প্রজেক্ট হচ্ছে, সেগুলো ৫-১০ বছর পরে আর চলবে না।’

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে