রোববারই খালেদা জামিন পাবেন, আশা মওদুদের

  নিজস্ব প্রতিবেদক

২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৮:৪১ | আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ২০:৫৭ | অনলাইন সংস্করণ

জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে শুক্রবার ‘বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পরিষদের’ উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন মওদুদ আহমদ। ছবি: ফোকাস বাংলা
উচ্চ আদালতে আগামী রোববারই বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন মঞ্জুর হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।

আজ শুক্রবার সকালে এক আলোচনা সভায় মওদুদ এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে ‘বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পরিষদের’ উদ্যোগে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মওদুদ আহমদ বলেন, ‘আগামী রোববার তার (খালেদা জিয়া) জামিনের আবেদনের শুনানি হবে। তিনি (খালেদা জিয়া) জামিন পাওয়ার অধিকারী। আমাদের জুডিশিয়ারি নিয়মনীতি ও ন্যায় বিচারের যে আমাদের কাঠামো আছে, সেই কাঠামো অনুযায়ী আমি বিশ্বাস করি, ইনশাল্লাহ আগামী রোববারেই খালেদা জিয়ার জামিন মঞ্জুর হবে।’

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির ব্যাপারীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান রুহুল আলম চৌধুরী, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, নির্বাহী কমিটির সদস্য রফিক শিকদার, ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা শওকত আমীন, এনডিপির মঞ্জুর হোসেন ঈসা প্রমুখ।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য আরও বলেন, ‘আমি মনে করি, একদিনের বিলম্ব আমাদের প্লাস পয়েন্ট, একদিন বিলম্ব আওয়ামী লীগের মাইনাস পয়েন্ট।’

সাবেক আইনমন্ত্রী মওদুদ আহমদ বলেন, ‘নানা রকমের কুটকৌশলে মামলার রায়ের সার্টিফাইড কপি দিতে বিলম্ব করেছে। যাই হোক এখন আমরা বৃহস্পতিবার আপিল ফাইল করেছি। আপিল গৃহীত হয়ে গেছে। এটা এখন স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় শুনানি হবে।’

মওদুদ অভিযোগ করে বলেন, ‘আপনারা জানেন, আমাদের নেত্রীর কারাগারে খুব কষ্ট হচ্ছে। একটা নির্জন কারাগারে তাকে রাখা হয়েছে- এটা সংবিধান পরিপন্থী। সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদে বলে যে, একজন আসামির বিচার হবে পাবলিক ট্রায়ালে, এটা তার মৌলিক অধিকার। এটা কোনো ক্যামেরা ট্রায়াল হবে না। যে জায়গায় আমাদের নেত্রীর ট্রায়াল হয়েছে তা কখনোই পাবলিক ট্রায়াল বলা যাবে না। একটা মারাত্মক রকমের নিরাপত্তা বেষ্টনীতে এই বিচারকার্য পরিচালনা করা হয়েছে।’

চেয়ারপারসনের মুক্তির দাবিতে আন্দোলন প্রসঙ্গে মওদুদ বলেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের আন্দোলন করতে হবে, কোনো ধরনের হঠকারীতা চলবে না। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে এই যে গত ১০ দিন যাবত বিভিন্ন কর্মসূচি করছি, সরকার তাতে খুব বেশি খুশি না। তারা ভেবেছে যে, ৮ ফেব্রুয়ারি (খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের দিন) বোধহয় এই বিএনপির হাজার হাজার নেতা-কর্মী রাস্তায় নেমে ভাঙচুর করবে, পেট্রল পাম্প জ্বালাবে। তারা (সরকার) প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের যেটা ব্যর্থ হয়ে গেছে। আমরা এবার দেখাবো যে, একটা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমেও একটা সরকারকে বাধ্য করা যায় দাবি মেনে নিতে।’

আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনী প্রচারণার প্রতি ইঙ্গিত করে মওদুদ আহমদ বলেন, একদল নৌকায় ভোট চাচ্ছে। আরেক দলের নেত্রীকে কারাগারে রাখা হয়েছে। তাহলে দেশে কী ধরণের গণতন্ত্র আছে বুঝতে পারছেন? আওয়ামী লীগ আমাদেরকে জনসভা করতে দেয় না। অথচ তারা (আওয়ামী লীগ) জনসভা করছে। বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে এক্ষেত্রে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ইনশাল্লাহ আমাদের নেত্রী জেলখানা থেকে বেরুনোর পর আমরাও তাকে (খালেদা জিয়া) নিয়ে যাবো। এবার কোনো আপত্তি আমরা শুনবো না। আওয়ামী লীগ যদি সভা করে নৌকায় ভোট চাইতে পারে তাহলে বিএনপিও জনসভা করে ধানের শীষে ভোট চাইতে পারে। এ্ই  অধিকার তারা (সরকার) যদি আমাদের না দেয়, তাহলে আমরা বুঝব, আগামী নির্বাচনও একদলীয়ভাবে করার পরিকল্পনা করছেন। সেটা এ দেশের মাটিতে আর কখনো সম্ভবপর হবে না, সেই ধরনের একদলীয় নির্বাচন হবে না, করতে দেওয়া হবে না।’

খালেদা জিয়া কারাবন্দিত্ব অবস্থায় দল ঐক্যবদ্ধ রয়েছে উল্লেখ করে মওদুদ আহমদ বলেন, ‘আমাদের নেত্রী ইনশাল্লাহ বেরিয়ে আসবে। বিএনপি যে একটা ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক দল, এবং ২০ দল যে ঐক্যবদ্ধ জোট -সেটা আমরা প্রমাণ করেছি। আমরা সবাই এক সাথে কাজ করছি। এখানে কোন রকমের অন্যকোনো সুযোগ নাই। ভাঙাভাঙির কথা বলে লাভ নেই। বিএনপিকে ১০ বছরে কেউ ভাঙতে পারেনি, এখনো পারবে নাকি ? এখন তো যুদ্ধের সময়, বিপদের সময় আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’

 

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে