কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবা বন্ধ

প্রতিদিন সেবাবঞ্চিত সাড়ে ৫ লাখ মানুষ

  দুলাল হোসেন

২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০১:১১ | অনলাইন সংস্করণ

চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে আন্দোলন করছেন কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত সাড়ে ১৩ হাজার কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি)। বাংলাদেশ সিএইচসিপি অ্যাসোসিয়েশন দাবি আদায় বাস্তবায়ন কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আন্দোলনকারীরা গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কাজ বন্ধ রেখে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন। এদিকে ক্লিনিক বন্ধ থাকায় প্রতিদিন সেবাবঞ্চিত হচ্ছে সাড়ে ৫ লাখেরও বেশি মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে চলা আন্দোলনের কারণে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর প্রায় এক কোটির বেশি মানুষ সেবাবঞ্চিত হয়েছেন।

আন্দোলন কর্মসুচির অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহাখালীর বিএমআরসি ভবনে কমিউনিটি হেলথ ক্লিনিকের প্রকল্প (প্রধান) কার্যালয় সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত অবরোধ করে রাখেন সিএইচসিপিরা। এ সময় সেখানে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অফিসে প্রবেশ কিংবা বের হতে দেওয়া হয়নি। এতে প্রকল্প অফিসের সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ থাকে।

জানা গেছে, ১৯৯৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গ্রামীণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার লক্ষ্যে কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম শুরু করে। ২০০১ সালে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ করে দেয়। এর পর ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ আবার চালু করে। সারা দেশে সাড়ে ১৪ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করা হয়। প্রতিটি ক্লিনিকে একজন করে সিএইচসিপি নিয়োগ দেওয়া হয়। যারা শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত সপ্তাহে ছয়দিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবা দেন। কমিউনিটি ক্লিনিকে সাধারণত প্রাথমিক সেবা প্রদান করা হয়। ৩০ ধরনের ওষুধ দেওয়া হয় বিনামূল্যে। বর্তমানে ১৩ হাজার ৫০০ ক্লিনিক চালু আছে। প্রতিটি ক্লিনিকে দিনে ৩৫ থেকে ৪০ জন মানুষ স্বাস্থ্যসেবা নেয়। সেই হিসেবে সাড়ে ১৩ হাজার ক্লিনিকে প্রতিদিন ৫ থেকে সাড়ে ৫ লাখ মানুষ সেবা পায়। কিন্তু কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ রেখে আন্দোলন করায় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তারা।

জানা গেছে, গত ২৭ জানুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন সিএইচসিপিরা। এ সময়ের মধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের ঘোষণা না আসায় গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে আমরণ অনশনে যান ক্লিনিকের কর্মীরা। কিন্তু সরকারিভাবে চাকরি রাজস্ব খাতে নেওয়ার ঘোষণা না দিয়ে গত ২০ ফেব্রুয়ারিতে ট্রাস্ট গঠনের নিমিত্তে চার সদস্যের টিম গঠন করা হয়। এতে চলমান কর্মসূচি অনেকটা ক্ষোভে রূপ নেয়। এরই অংশ হিসেবে তারা গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহাখালীর বিএমআরসি ভবনস্থ কমিউনিটি ক্লিনিকের প্রকল্প পরিচালকের (প্রধান) কার্যালয় অবরোধ করে রাখেন।

সিএইচসিপি দাবি আদায় বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য মো. সুমন মাতবর বলেন, চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে গত ১৫ জানুয়ারি থেকে সব ধরনের অনলাইন রিপোর্টিং এবং হার্ডকপি সরবরাহ করা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর পর ২০ থেকে ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত তিন দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অবস্থান কর্মসূচি পালন এবং ২৩ জানুয়ারি জেলা সিভিল সার্জন অফিসের সামনে অবস্থান কর্মসূচি করা হয়। ওই সময়ের মধ্যে সরকার দাবি মেনে না নেওয়ায় ২৭ জানুয়ারি ঢাকা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়। চাকরি রাজস্ব খাতে নেওয়ার বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সিএইচসিপিরা আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন শুরু করেন।

আন্দোলনরত সিএইচসিপিরা বলেন, চাকরি রাজস্বকরণ করা হবে এমন আশায় থেকে থেকে অনেকের সরকারি চাকরির বয়স শেষ গেছে, অনেকের শেষের পথে। আমাদের প্রায় ১৪ হাজার সিএইচসিপি ও আমাদের পরিবার এখন হতাশায় নিমজ্জিত। আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। এখন আর পেছনে ফেরার পথ নেই। ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি দেব। প্রয়োজনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অবরোধ করে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেছেন, সিএইচসিপিদের সঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বৈঠকে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি-দাওয়ার বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে। তারা সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে আন্দোলন প্রত্যাহার করেছিল এবং অনেক সিএইচসিপি ফিরেও গেছে। কিন্তু পরবর্তীতে কিছু সিএইচসিপি সে কথা রাখেনি। তারা সিদ্ধান্ত না মেনে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে। তাদের দাবি চাকরি রাজস্বকরণ করতে হলে সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে করতে হবে। তারা যেন ক্লিনিকে ফিরে যায়, সে ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে