শতাধিক গাছ কেটে রাস্তা সম্প্রসারণ

  সানাউল হক সানী

২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০১:০০ | অনলাইন সংস্করণ

গড মেড দ্য কান্ট্রি, অ্যান্ড ম্যান মেড দ্য টাউন- ইংলিশ কবি উইলিয়াম কুপারের এ কথার মতোই সৃষ্টিকর্তা যেন আপন হাতে তৈরি করেছেন অপরূপ বাংলাদেশ। সত্তর-আশির দশকেও রাজধানী ঢাকা ছিল বৃক্ষছায়ায় শোভিত শহর। তবে বিশ্বায়নের এই যুগে বদলে গেছে সব। ইট-পাথরের এ নগরীতে এখন বৃক্ষময় একটুকরো জায়গা পাওয়া দুষ্কর। আর রাস্তার পাশে সারি সারি গাছ তো নতুন প্রজন্মের কাছে রূপকথা। কেবল বনশ্রী থেকে মেরাদিয়া যাওয়ার রাস্তাটিই যেন ভিন্ন। পাশ দিয়ে বয়ে গেছে বিশাল খাল। তার পাশেই রেইনট্রি, মেহগনি, নারিকেল, কোথাও কোথাও হরেক রকমের ফল গাছ। বর্তমানে সেগুলোও নিকট অতীত; কেটে ফেলা হয়েছে রাস্তা সম্প্রসারণের নামে। ভরাট করা হচ্ছে খালের অংশবিশেষও।

হাতিরঝিলের সংযোগস্থল রামপুরা ব্রিজ থেকে শুরু করে প্রশস্ত খালটি মেরাদিয়া হাট হয়ে ত্রিমোহনীর কাছে মিশেছে বালু নদের সঙ্গে। একদিকে আফতাবনগর আবাসিক এলাকা, অন্যদিকে বনশ্রী। এ দুই এলাকায় বিভিন্ন প্রকল্প গড়তে গিয়েও দখল হয়ে যায় খালের দুপাশ। অথচ একসময় বনশ্রীসংলগ্ন মেরাদিয়া হাটটি ছিল পুরো ঢাকা শহরের কাঁচাবাজারের জন্য বিখ্যাত। ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকা থেকে নৌকাযোগে রামপুরা খাল দিয়ে মেরাদিয়া হাট এবং বর্তমান কারওয়ানবাজারে শাকসবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আসত। রাজধানীতে এখনো কয়েকটি খালের নামকাওয়াস্তে অস্তিত্ব থাকলেও কেবল এটিতেই ১২ মাস পানি থাকে। তবে সেই পানিতে তীব্র দুর্গন্ধ। আসলে ময়লার ভাগাড় বানিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীরা খালটি দখলে ব্যস্ত। এখন সেই হালে হাওয়া দিচ্ছে স্বয়ং সিটি করপোরেশন নিজেই।

গত বৃহস্পতিবার সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট। ভরাট করা হচ্ছে খালের একপাশ। একসময়ের বৃক্ষশোভিত এ রাস্তায় রাজ্যের শূন্যতা। কোনো গাছগাছালি নেই। সেগুলো কেটে ফেলে রাখা হয়েছে রাস্তার পাশেই। বনশ্রী সি ব্লক পর্যন্ত এমন দৃশ্য। তবে রাস্তা সংস্কারে এলাকাবাসী খুশি হলেও গাছ কাটায় ক্ষুব্ধ।

স্থানীয় ব্যবসায়ী শিকদার সেলিম আল মামুন আমাদের সময়কে বলেন, রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে ভালো কথা; কিন্তু গাছ কাটতে হবে কেন? খালের পাশ দিয়ে বনশ্রী থেকে মেরাদিয়া পর্যন্ত ছিল গাছের সারি। হরেক রকমের গাছে ভরপুর এ রাস্তাটি দিয়ে চলাচল করলে মন ভালো হয়ে যেত যে কোনো পথচারীর। বছরের পর বছর এ রাস্তাটি সংস্কারের অভাবে পড়ে ছিল। তখন সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তা ছাড়া রাস্তাটি যথেষ্ট বড় থাকার পরও কেনো সম্প্রসারণের নামে বৃক্ষ নিধন করা হয়েছে, তা কেউ বুঝতে পারছে না।

কলেজশিক্ষক রাফিউল স্মরণ বলেন, রাজধানীতে এমন বৃক্ষশোভিত রাস্তা আর একটি পাওয়া যাবে না। পাশেই রয়েছে একটি প্রশস্ত খাল। এখানে দৃষ্টিনন্দন কিছু করা যেত। কিন্তু গাছগুলো কেটে খালটিকে ভরাট করার উপক্রম। এমন দায়িত্বহীন কর্মকা-ের নির্দেশদাতাদের বিচারের আওতায় আনা উচিত।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে