বিডিআর বিদ্রোহের ৯ বছর আজ

এখনো বিচারাধীন বিস্ফোরক মামলা

  নিজস্ব প্রতিবেদক

২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:৪২ | অনলাইন সংস্করণ

আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি। পিলখানায় ভয়াবহ বিডিআর (তৎকালীন) বিদ্রোহ ও নারকীয় হত্যাকা-ের ৯ বছর। ২০০৯ সালের এই দিনে তৎকালীন বিডিআরের কিছু বিপথগামী জওয়ান বিদ্রোহের নামে ভয়াবহ এই হত্যাকা- চালান। টানা এক দিন এক রাত শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি মোকাবিলা করে ২৬ ফেব্রুয়ারি বিদ্রোহ নিয়ন্ত্রণে আনে সরকার। এ সময়ের মধ্যে বিদ্রোহীরা ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করে। নিহতদের লাশ গুম করতে পিলখানার ভেতরে গণকবরও দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় এরই মধ্যে বাহিনীর নিজস্ব আইনে দায়ের করা মামলার বিচার শেষ হয়েছে। আর পিলখানা ট্র্যাজেডির ঘটনায় গত বছর ১৩৯ আসামির মৃত্যুদ- বহাল রেখে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। এখন রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপির অপেক্ষা। বিচারিক আদালতে এই মামলায় রায় এসেছিল ২০১৩ সালে। আর অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলার বিচার চলছে ধীরগতিতে।

বিদ্রোহের ঘটনায় স্বজনহারাদের কান্না থামেনি আজও। দুঃসহ সেই দিনের স্মৃতি তাড়া করে ফেরে মৃত্যুর হাত থেকে ফিরে আসা কর্মকর্তা ও স্বজনদের। সেই দুঃসময় কাটিয়ে ফের ঘুরে দাঁড়িয়েছে বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি)। সাফল্যের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে বাহিনীটি।

বিদ্রোহের পর বিডিআর আইন, নাম, পোশাক, পতাকা ও মনোগ্রামসহ অনেক কিছুতেই পরিবর্তন আনা হয়। তবে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলার বিচার কার্যক্রমে গতি নেই। মাসে এক-দুদিন করে চলে কার্যক্রম। ৬৫৪ সাক্ষীর মধ্যে ৯ বছরে মাত্র ৫০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করতে পেরেছেন বিচারক। আগামী ১৮ মার্চ এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য রাখা হয়েছে। চলতি মাসের ১৮ তারিখে সাক্ষ্যগ্রহণের কথা থাকলেও ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. কামরুল হোসেন মোল্লা বকশিবাজারের অস্থায়ী এজলাসে না আসায় সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি।

পিলখানার ঘটনায় বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, মাসে দুই দিন করে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। বর্তমানে ৫০ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। সাক্ষ্যগ্রহণে ধীরগতি থাকলেও চলতি বছরই এই মামলার বিচার কার্যক্রম সমাপ্ত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম বলেন, হত্যামামলার বিচার দ্রুত শেষ হয়েছে। অথচ এই মামলার বিচার এখনো শেষ হয়নি। দির্ঘদিনেও বিচার শেষ না হওয়ায় ন্যায়বিচার না পাওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে হত্যামামলায় ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর ঢাকার তৃতীয় দায়রা জজ আদালত ১৫২ আসামিকে মৃত্যুদ- দেওয়ার পাশাপাশি ১৫৯ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদ- দিয়ে রায় দেন। এর পর গত ২৭ নভেম্বর এ মামলার ডেথ রেফারেন্স ও জেল আপিল নিষ্পত্তি করে ১৩৯ আসামিকে মৃত্যুদ- ও ১৮৫ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদ- দিয়ে রায় দেন। রায়ে ২২৮ আসামিকে ৩ থেকে ১০ বছরের কারাদ- দেওয়া হয়। রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি পেলে আপিল বিভাগে আপিল করবে বলে জানিয়েছে আসামিপক্ষ। রাষ্ট্রপক্ষও পূর্ণাঙ্গ রায় পেলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবে।

বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি লোকের সাজা হয় অধিনায়কদের সামারি ট্রায়ালে। এতে মোট ১১ হাজার ২৬৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। তাদের মধ্যে ১০ হাজার ৯৭৩ জনের বিভিন্ন ধরনের সাজা হয়। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে ৮ হাজার ৭৫৯ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়। বাকিরা প্রশাসনিক দ- শেষে আবার চাকরিতে যোগদান করেন। দ্বিতীয় পর্যায়ে বিশেষ আদালত গঠন করে ৬ হাজার ৪৬ জওয়ানকে বিচারের মুখোমুখি করা হয়। এসব মামলায় ৫ হাজার ৯২৬ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ- হয়। তাদের প্রত্যেককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। আর বেকসুর খালাসপ্রাপ্ত ১১৫ জন চাকরি ফিরে পেয়েছেন।

বিজিবির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এই দিনটি শাহাদতবার্ষিকী হিসেবে পালন করবে। এদিন বিজিবির সব রিজিয়ন, সেক্টর ও ইউনিটের ব্যবস্থাপনায় বাদ ফজর কোরআন খতম এবং বিজিবির সব মসজিদে নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল করা হবে। সেনাবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় আজ সকাল ৯টায় বনানী সামরিক কবরস্থানে রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, তিন বাহিনীর প্রধানরা, স্বরাষ্ট্র সচিব, বিজিবির মহাপরিচালক স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।

আগামীকাল সোমবার বাদ আসর পিলখানায় বীরউত্তম ফজলুর রহমান মিলনায়তনে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এতে উপস্থিত থাকবেন।

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পিলখানায় বিডিআরের জওয়ানরা ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। সেদিন পিলখানার এই বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশের ৫৭টি ইউনিটে। টানা এক দিন এক রাত শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি মোকাবিলা করে ২৬ ফেব্রুয়ারি বিদ্রোহ নিয়ন্ত্রণে আসে। বিডিআর হত্যাকা-ে দুভাবে বিচার করা হয়। একটি হলো বাহিনীর নিজস্ব আইনে, অন্যটি ফৌজদারি আইনে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে