চীনা কনসোর্টিয়ামের প্রস্তাবনায় কী আছে

  আবু আলী

২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:৪০ | অনলাইন সংস্করণ

কৌশলগত অংশীদার করতে চীনের শেনচেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের কনসোর্টিয়ামের প্রস্তাবেই চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালনা পর্ষদ। ইতোমধ্যে এ কনসোর্টিয়ামকে কৌশলগত অংশীদার করতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছে ডিএসই। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অনুমোদন পেলেই ডিএসইর ওই শেয়ার শেনচেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জে বিক্রি করা হবে।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সাইফুর রহমান আমাদের সময়কে বলেন, আমরা ডিএসইর প্রস্তাব পেয়েছি। প্রস্তাব পর্যালোচনা করতে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এর আগে দেশের প্রধান পুঁজিবাজারের কৌশলগত অংশীদার হওয়ার ব্যাপারে এ কনসোর্টিয়ামের পাশাপাশি ভারতের ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ, ফ্রন্টিয়ার বাংলাদেশ ও নাসডাক কনসোর্টিয়ামও আগ্রহ প্রকাশ করে দর প্রস্তাব করেছিল। কিন্তু দরপ্রস্তাবে পিছিয়ে পড়ে এ কনসোর্টিয়াম। পরবর্তীতে তারা ডিএসইর কৌশলগত অংশীদার হতে জোর প্রচেষ্টা চালায়। তবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শেষে ডিএসইর কৌশলগত অংশীদার হতে চলেছে চীনা কনসোর্টিয়ামই।

কী আছে চীন ও ভারতের কনসোর্টিয়ামের প্রস্তাবে : চীনের দুই স্টক এক্সচেঞ্জের কনসোর্টিয়াম ডিএসইর প্রতিটি শেয়ারের দাম প্রস্তাব করেছে ২২ টাকা। আর ভারতের ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ নেতৃত্বাধীন কনসোর্টিয়াম প্রতিটি শেয়ারের দাম দিতে চেয়েছে ১৫ টাকা। চীনের কনসোর্টিয়াম ডিএসইর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বের প্রস্তাব দিয়েছে এবং শেয়ার বিক্রি করে চলে যাওয়ার কোনো শর্ত দেয়নি। অপর কনসোর্টিয়াম কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে আসার পাঁচ বছরের মধ্যে আইপিওর মাধ্যমে নিজেদের শেয়ার বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছে, যা ডিমিউচুয়ালাইজেশন আইন ২০১৩-এর পরিপন্থী।

শেনচেন ও সাংহাই কনসোর্টিয়াম প্রয়োজনীয় সব অভ্যন্তরীণ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পেয়েছে। কিন্তু ভারতের ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ এখনো সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সেচেঞ্জ বোর্ড অব ইন্ডিয়া (সেবি) এবং রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন পায়নি।

ডিমিউচুয়ালাইজেশন স্কিম অনুযায়ী, শেনচেন ও সাংহাই কনসোর্টিয়াম ডিএসইর পর্ষদে একটি আসন চেয়েছে। আর ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের নেতৃত্বাধীন কনসোর্টিয়াম ডিমিউচুয়ালাইজেশন স্কিমের শর্ত লঙ্ঘন করে ডিএসইর পর্ষদে দুটি আসনের শর্ত জুড়ে দিয়েছে।

বাজারে নতুন পণ্য আনতে দুটি কনসোর্টিয়াম একই ধরনের প্রস্তাব দিয়েছে। তবে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ প্রস্তাবিত সহায়তার জন্য ডিএসইর সঙ্গে নির্দিষ্ট শর্তের ভিত্তিতে একটি ব্যবসায়িক চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে।

এদিকে শেনচেন ও সাংহাই নির্দিষ্ট কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে শেয়ার কেনার প্রস্তাব দিয়েছে। আর ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের নেতৃত্বাধীন কনসোর্টিয়াম শেয়ার কেনার প্রস্তাব দিয়েছে আলাদা ও স্বাধীনভাবে। পাশাপাশি প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে এসেও ডিএসইর শেয়ার ক্রয়ের বিষয়ে ফ্রন্টিয়ার বাংলাদেশ নিশ্চিত করেনি। আর ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ সরাসরি শেয়ার কেনার বদলে সাবসিডিয়ারি কোম্পানি ‘এনএসই স্ট্র্যাটেজিক ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন লিমিটেড’ নামে বিনিয়োগ করার প্রস্তাব দিয়েছে। সে ক্ষেত্রে ভারতের ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ ডিএসইর কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে বিবেচিত হবে না। এ কনসোর্টিয়ামের অপর সদস্য নাসডাক ডিএসইর কোনো শেয়ার কিনবে না।

কারিগরি সহায়তার ক্ষেত্রেও চীন এগিয়ে। শেনচেন ও সাংহাই কনসোর্টিয়াম কারিগরি সহায়তার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আটটি প্রস্তাব দিয়েছে। এসব কারিগরি প্রযুক্তির জন্য ১০ বছরের লাইসেন্স এবং নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত তিন বছরের ফ্রি ট্রেনিং ও কনসাল্টিং সার্ভিস প্রদানের প্রস্তাব দিয়েছে। দরপ্রস্তাব অনুযায়ী ডিএসইকে দেওয়া এ প্রযুক্তিগত সহায়তার আর্থিক মূল্য ৩ কোটি ৭১ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার। অন্যদিকে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ প্রযুক্তি সহায়তার বিষয়ে কোনো প্রযুক্তি সিস্টেম না দিয়ে শুধু পরামর্শ এবং অভিজ্ঞতা শেয়ারের প্রস্তাব দিয়েছে। পাশাপাশি প্রস্তাবিত অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য ডিএসইর সঙ্গে নির্দিষ্ট শর্তের ভিত্তিতে একটি ব্যবাসায়িক চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে।

আবার বাজারে নতুন প্রোডাক্ট চালুর ব্যাপারে দুই কনসোর্টিয়াম একই প্রস্তাব দিয়েছে। তবে চীনা কনসোর্টিয়াম কোনো ধরনের শর্ত দেয়নি। অন্যদিকে ভারতীয় কনসোর্টিয়াম নির্দিষ্ট শর্তের ভিত্তিতে ব্যবসায়িক চুক্তির প্রস্তাব করেছে।

প্রসঙ্গত, ২০১০ সালে পুঁজিবাজার ধসের পর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা থেকে মালিকানা আলাদা করার জন্য ডিমিউচুয়ালাইজেশন অ্যাক্ট-২০১৩ করা হয়। কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি ছাড়াও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের দিক বিবেচনায় কৌশলগত অংশীদার নেওয়ার এবং তাদের জন্য মোট শেয়ারের ২৫ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়। আর সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো বা ব্রোকারেজ মালিকরা স্টক এক্সচেঞ্জটির ৪০ শতাংশ শেয়ারের মালিকানায় থাকবেন। বাকি ৩৫ শতাংশ শেয়ার পরবর্তীতে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করতে হবে।

পরে কৌশলগত বিনিয়োগকারী নেওয়ার জন্য ২০১৫ সালে এক বছর সময় দিয়ে চিঠি ইস্যু করে বিএসইসি। ৬ মাস করে আরও দুবার সময় বাড়িয়েছে কমিশন, যা মার্চ মাসের ৮ তারিখ শেষ হচ্ছে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে