শুরু হয়নি মাতৃভাষায় পাঠদান

  এন এ জাকির, বান্দরবান

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০১:০৭ | অনলাইন সংস্করণ

পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর নিজস্ব ভাষা সংরক্ষণের লক্ষ্যে ২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো সরকার মাতৃভাষায় পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন করে। প্রাথমিকভাবে বান্দরবানে চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা নৃগোষ্ঠীর পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ণ করে বছরের শুরুতেই শিশুদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। কিন্তু ওইসব ভাষায় প্রশিক্ষিত ও দক্ষ শিক্ষক না থাকায় এখন পর্যন্ত বিদ্যালয়গুলোয় চালু হয়নি নিজ নিজ মাতৃভাষায় পাঠদান কার্যক্রম।

২০১০ সালে শিক্ষানীতিতে সরকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী শিশুদের মাতৃভাষায় শিক্ষার স্বীকৃতি প্রদান করে। পাহাড়ে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিশুরা যাতে নিজেদের ভাষা শিখতে পারে, সে লক্ষ্যে নিজ মাতৃভাষায় পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন ২০১৭ সালে এসে বাস্তবায়িত হয়। গত শিক্ষাবর্ষে তিন পার্বত্য জেলার সবকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা শিশুদের প্রথমবারের মতো দেওয়া হয় প্রাথমিক স্তরের বই। এ বছর নতুন যোগ হয়েছে প্রথম শ্রেণির বইও। বান্দরবান জেলায় ৭ উপজেলায় ৩৪৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরে চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪ হাজার ৮১১। বছরের শুরুতেই এদের সবার হাতে বই তুলে দেওয়া হলেও শিক্ষকের অভাবে শুরু হয়নি মাতৃভাষায় পাঠদান কার্যক্রম। এতে হতাশ অভিভাবকরা।

রোয়াংছড়ি উপজেলার বাসিন্দা থোয়াইনুমং মারমা বলেন, সরকার বই দিয়েছে দুই মাস হয়ে গেছে। কিন্তু বিদ্যালয়ে এখনো সেই বই পড়ানো শুরু হয়নি। পড়তে না পারলে বই দিয়ে কোনো লাভ নেই। গত বছরও বই দিয়েছে, কিন্তু শিক্ষক না থাকায় মাতৃভাষায় শিশুদের পড়ানো হয়নি। এতে আমাদের শিশুরা মাতৃভাষা প্রায় ভুলতে বসেছে।

কালাঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দীন বলেন, বিদ্যালয়ে ওইসব মাতৃভাষায় প্রশিক্ষিত শিক্ষক না থাকায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিশুদের মাতৃভাষায় শিক্ষাদান সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, আগে থেকে শিক্ষকদের কোনো প্রশিক্ষণ না থাকায় তারাও শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে পারছেন না। তাই মাতৃভাষায় শিক্ষাদানের জন্য নিজ নিজ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা জরুরি। এদিকে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষক বান্দরবান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উসিংনু মারমা বলেন, যথাসময়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা না করায় মাতৃভাষায় পাঠদান শুরু করতে পারিনি। এ ছাড়া ক্লাস রুটিন সমন্বয়ের বিষয়েও সিদ্ধান্তহীনতায় রয়েছেন তারা।

ভারপ্রাপ্ত জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রিটন কুমার বড়–য়া বলেন, কয়েকটি স্কুলে মাতৃভাষা পাঠদান কার্যক্রম চলছে। তবে নিজ মাতৃভাষার ওপর প্রশিক্ষিত শিক্ষক না থাকায় সবকটি স্কুলে পাঠদান কার্যক্রম সম্ভব হচ্ছে না। আমরা বিষয়টি জেলা পরিষদে জানিয়েছি। প্রশিক্ষণের পর পরই পুরোদমে চালু করা যাবে মাতৃভাষায় পাঠদান কার্যক্রম।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে