হ্যাটট্রিকের অপেক্ষায় মান্নান বিএনপি-জোটে টানাটানি

  বিন্দু তালুকদার, সুনামগঞ্জ ও গোবিন্দ দেব, জগন্নাথপুর

০৯ মার্চ ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ০৯ মার্চ ২০১৮, ০১:০১ | অনলাইন সংস্করণ

জগন্নাথপুর-দক্ষিণ সুনামগঞ্জ নিয়ে সুনামগঞ্জ-৩ আসন। যুক্তরাজ্যপ্রবাসী অধ্যুষিত আসন এটি। নির্বাচনী রাজনীতিতে যুক্তরাজ্যপ্রবাসীদের গুরুত্বও রয়েছে এই এলাকায়। এই আসনে একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে একাধিক শক্তিশালী নেতা মাঠে নেমেছেন। তাদের মধ্যে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী দুই নেতা রয়েছেন। এ আসনে আরেকবার দলীয় মনোনয়ন পেয়ে এমপি হওয়ার হ্যাটট্রিক করতে চান আওয়ামী লীগ নেতা অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এএমএান্নান। অন্যদিকে প্রার্থিতা নিয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটে আছে টানাটানি। বিএনপির নেতারা এবার জোটের কোনো শরিকককে ছাড় দিতে চান না। দলীয় মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে দলটিকে অভ্যন্তরীণ কোন্দলও আছে।

সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদ এই আসনের এমপি ছিলেন। তার মৃত্যুর পর ২০০৫ সালের উপনির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন চারদলীয় জোটের শরিক জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী। উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আওয়ামী লীগ নেতা এমএ মান্নান। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীকে এমপি নির্বাচিত হন তিনি। এর পর ২০১৪ সালের নির্বাচনেও দলীয় মনোনয়নে এমপি নির্বাচিত হন তিনি। বর্তমানে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে। তবে জমিয়তের অঙ্গ সংগঠন যুব জমিয়তের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মাওলানা ইমরান আহমদও এই আসনে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী।

প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান বেশ আগ থেকেই জোরেশোরে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছেন। এলাকায় নিয়মিত গণসংযোগ করছেন তিনি। নির্বাচনী এলাকার দুটি উপজেলায় উন্নয়ন কর্মকা- বাড়িয়েছেন। এবারও নৌকার মনোনয়ন ও নির্বাচনে বিজয়ী হবেন বলে আশাবাদী তিনি। স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, এমএ মান্নান আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবেন এবং হ্যাটট্রিক করবেন।

এদিকে ২০১৪ সালের নির্বাচনে এই আসনে দলের মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন প্রয়াত জাতীয় নেতা আব্দুস সামাদ আজাদের ছেলে আওয়ামী লীগ নেতা আজিজুস সামাদ আজাদ ডন। তিনিও আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইবেন বলে জানিয়েছেন। নির্বাচনী এলাকায় প্রচার ও গণসংযোগ করছেন তিনি।

পাশাপাশি যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী আবুল কালামও দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী বলে জানিয়েছেন।

এই আসনে বিএনপি থেকে একাধিক নেতা মনোনয়ন চান। এ নিয়ে দুই উপজেলায়ই অভ্যন্তরীণ কোন্দল দীর্ঘদিনের। দলটির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি লে. কর্নেল (অব) আলী আহমদ, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফারুক আহমদ, জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মালেক খান, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আনছার উদ্দিন ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম কয়ছর আহমদ।

মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী জানান, তিনি ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী হচ্ছেন, এটা প্রায় নিশ্চিত। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আমাকে মাঠে কাজ করতে বলেছেন। আমি মাঠে কাজ করছি।

যুব জমিয়তের মাওলানা ইমরান আহমদ বলেন, ‘দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশেই আমি প্রচারে আছি। আমি আগামী নির্বাচনে অংশ করতে চাই, সে লক্ষ্যে মাঠে কাজ করছি।’

বিএনপির লে. কর্নেল (অব) আলী আহমদ বলেন, ‘আমার প্রত্যাশা দল ও জোট আমাকেই মনোনয়ন দেবে। দলের চেয়ারপারসনের নির্দেশে আমি এলাকায় নিয়মিত গণসংযোগ করছি।’

ফারুক আহমদ বলেন, ‘বারবার এই আসনে জোটের প্রার্থী দেওয়ায় বিএনপি সাংগঠনিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমাদের দাবি, এই আসনে এবার বিএনপি থেকে প্রার্থী দেওয়া হোক। শরিক দল থেকে প্রার্থী করলে বিজয়ী হওয়া কঠিন হবে।

আওয়ামী লীগ নেতা আজিজুস সামাদ আজাদ ডন বলেন, দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশেই আমি নির্বাচনী এলাকায় কাজ করছি। আমি আশাবাদী দল আমাকে মনোনয়ন দেবে।

প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, ‘আমি দলীয় সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার অনুগত বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রগতিশীল একজন রাজনৈতিক কর্মী। আগামী সংসদ নির্বাচনের জন্য আমি প্রস্তুত। নির্বাচনী এলাকায় আমি নিয়মিত ঘুরছি এবং কাজ করছি। আমার বিশ্বাস, দলের নেত্রী এবং কেন্দ্রীয় নেতারা আমাকে কাজ করার সুযোগ দেবেন। আওয়ামী লীগসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা আমার সঙ্গে আছেন।’

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে