পাইলট অবসাদগ্রস্ত ছিলেন না, দাবি ইউএস-বাংলার

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৪ মার্চ ২০১৮, ১৮:২৯ | আপডেট : ১৪ মার্চ ২০১৮, ২২:৩৫ | অনলাইন সংস্করণ

নেপালের কাঠমান্ডুতে বিধ্বস্ত ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের পাইলট আবিদ সুলতান

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের পাইলট অবসাদগ্রস্ত ছিলেন না বলে দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক (মার্কেটিং সাপোর্ট অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস) কামরুল ইসলাম।  

তিনি বলেন, ‘প্লেন বিধ্বস্ত হওয়ার কারণ নিয়ে কিছু লোক বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন যে, পাইলটের গাফিলতি ছিল কিংবা তিনি অবসাদগ্রস্ত ছিলেন, কিন্তু এটা ঠিক নয়।’

আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর বারিধারায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন কামরুল ইসলাম।

মহাব্যবস্থাপক বলেন, ‘একজন পাইলট ১৪ ঘণ্টা ডিউটি আওয়ারের মধ্যে ১১ ঘণ্টা ফ্লাই করতে পারেন, এটাই নিয়মে আছে। বিধ্বস্ত প্লেনের পাইলট আবিদ সুলতান কাঠমান্ডুতে ফ্লাই করার আগে ৪৫ মিনিটের ছোট ছোট ফ্লাই করেছেন। তার ফ্লাই করার আরও সময় ছিল।’

কামরুল ইসলাম বলেন, ‘ডিএনএ টেস্টের মতো একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নেপাল সরকার মরদেহ হস্তান্তর করতে চাইছে। মরদেহ যেন সহজে হস্তান্তর করা হয়, সেজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করছি আমরা।’

তিনি বলেন, ‘এটাকে আমরা দুর্যোগ হিসেবে দেখছি। আপনারা জানেন নেপালের ভূমিকম্পের সময় বাংলাদেশই প্রথম সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল। এ দুর্যোগকে গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তার সিঙ্গাপুর সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরে এসেছেন। ’

প্রধানমন্ত্রী যদি নেপালের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন, তাহলে এর একটা সহজ সুরাহা হবে বলে আশা প্রকাশ করে এয়ারলাইন্সটির মহাব্যবস্থাপক বলেন, ’এরইমধ্যে আমাদের বিমান পরিবহনমন্ত্রী নেপাল রয়েছেন। তার মাধ্যমে উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।’

কামরুল ইসলাম বলেন, ‘মরদেহ আনতে কত সময় লাগবে, তা নির্ভর করছে নেপাল সরকারের ওপর। তাই ব্ল্যাকবক্স (ফ্লাইট ডাটা রেকর্ডার) উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে সবকিছু সংরক্ষিত আছে। ব্ল্যাকবক্সের তথ্য এলেই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতার কারণে অপপ্রচার চালানো হতে পারে।  প্রতিবছর দেশের বাইরের এয়ারলাইন্সগুলো অনেক টাকা নিয়ে যাচ্ছে। বিভ্রান্তি না ছড়িয়ে দেশীয় এয়ারলাইন্সকে আপনারা রক্ষা করুন, দেশীয় এয়ারলাইন্সের পাশে দাঁড়ান।’

গত ১২ মার্চ দুপুরে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণকালে বিধ্বস্ত হয় বিএস২১১ ফ্লাইট। এতে এখন পর্যন্ত পাইলট, কো-পাইলটসহ ৫১ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। অবতরণের সময় এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) টাওয়ার ও পাইলটের কথোপকথনের একটি অডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। সেটি বিশ্লেষণ করে পর্যবেক্ষকরা দুষছেন রানওয়ে নিয়ে এটিসির দু’রকমের নির্দেশনাকে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে