যুদ্ধাপরাধীদের মদদের মানহানি মামলা

খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন পুনরায় ফেরত

  আদালত প্রতিবেদক

১৪ মার্চ ২০১৮, ২০:০৭ | আপডেট : ১৪ মার্চ ২০১৮, ২০:৪৩ | অনলাইন সংস্করণ

পুরোনো ছবি
যুদ্ধাপরাধীদের মদদ দেওয়ার অভিযোগে মানহানির একটি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন বাদিকে পুনরায় ফেরত দিয়েছে আদালত।

আজ বুধবার মামলাটির বাদি বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকী ওই আবেদন করেন। ঢাকা মহানগর হাকিম আহসান হাবীব শুনানি শেষে ওই আবেদন গ্রহণ না করে ফেরত দেন।

তবে আদালত আগামী ১৫ এপ্রিল গুলশান থানা পুলিশকে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা গেল কি না এ সম্পর্কে প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করেন।

এর আগে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি একই আবেদন করেছিলেন বাদি এবি সিদ্দিকী। তবে ওই দিন আদালত তা ফেরত দেয়।

২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। ওই দিন আদালত তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) এবিএম মশিউর রহমান তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত। তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারী মশিউর রহমান মানহানির অভিযোগে অভিযুক্ত করে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

এর পর আদালত ওই প্রতিবেদন আমলে নিয়ে ওই বছর ২২ মার্চ খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির হতে সমন জারী করে। সমন জারি হওয়ার পর খালেদা জিয়া আদালতে হাজির না হওয়ায় ওই বছর ১২ অক্টোবর সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে গুলশান থানাকে তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেয়।

কিন্তু গুলশান থানা পুলিশ ওই আদেশ বাস্তবায়ন না করায় বুধবার ধার্য তারিখে জিয়া অরফানেজ মামলায় কারাগারে থাকা খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।

পুলিশের দাখিলকৃত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করলে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মন্ত্রী পরিষদ গঠন করেন। ওই মন্ত্রী পরিষদে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের যারা প্রকাশ্য এবং আত্মস্বীকৃতিরূপে পাকিস্তানের দোসর হিসেবে নিজেদের পরিচয় প্রতিষ্ঠা করেছিল, সেই জামায়াতে ইসলামী, ছাত্র শিবির, আলবদর, আলসামস কমিটির সদস্যদের নিয়ে মন্ত্রী ও এমপি বানান।

পরবর্তীতে ওই ব্যাক্তিদের মধ্যে অনেকেই আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে মৃত্যুদণ্ডসহ বিভিন্ন দণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। তার মধ্যে খালেদা জিয়ার সরকারের মন্ত্রীত্বপ্রাপ্ত মতিউর রহমান নিজামী এবং আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের মুত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। কিন্তু তারা ক্ষমতায় থাকাকালীন মন্ত্রীত্বের সুবিধা নিয়ে স্বাধন বাংলাদেশের মানচিত্র এবং জাতীয় পতাকা তাদের বাড়ি এবং গাড়িতে ব্যবহার করেছেন।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া স্বাধীনতা বিরোধী ব্যাক্তিদের তার মন্ত্রী সভায় মন্ত্রীত্ব প্রদান করে ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত পতাকাকে ওই স্বাধীনতা বিরোধীদের গাড়িতে তুলে দিয়ে সত্যিকারের দেশ প্রেমিক জনগণের মর্যাদা ভুলুণ্ঠিত করেছেন। তাই তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৫০০ ধানার মানহানির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। অন্যদিকে প্রচলিত আইনে মৃত ব্যাক্তির বিচারের সুযোগ না থাকায় সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে অব্যাহতির প্রদানের সুপারিশ করা হলো।

মামলায় বলা হয়, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যা করার পর মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ৭ নভেম্বর সিপাহী বিপ্লবের মাধ্যমে সামরিক সরকারের দায়িত্ব দখল করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেছেন। ১৯৮১ সালের ১৭ মে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসলে তাকে হুমকি তার বাবার বাড়িতে প্রবেশ করতে দেন নাই। এ ছাড়া খালেদা জিয়া ২০০১ সালে ক্ষমতা গ্রহণ করে স্বাধীনতা বিরোধী আলবদর রাজাকারদের হাতে মন্ত্রীত্ব তুলে দেন। যার মাধ্যমে স্বীকৃত স্বাধীনতা বিরোধীদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়ে দেশের মানচিত্র এবং জাতীয় পতাকা মানহানি ঘটিয়েছেন।

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে