লঞ্চডুবিতে ক্ষতিগ্রস্তদের ১৭ কোটি টাকা দেওয়ার নির্দেশ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৪ মার্চ ২০১৮, ২১:৩০ | আপডেট : ১৪ মার্চ ২০১৮, ২১:৩২ | অনলাইন সংস্করণ

২০০৩ সালে চাঁদপুরের মেঘনা নদীর মোহনায় এমবি নাসরিন-১ লঞ্চডুবিতে ক্ষতিগ্রস্ত ১২১ পরিবারকে ১৭ কোটি ১১ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে। রায়ে ৬০ দিনের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয়েছে।

আজ বুধবার রায় প্রদানকারী বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল করিম ও বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেনের স্বাক্ষরের পর ১৩৩ পৃষ্ঠার এ রায় হাইকোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। রায়ে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি জানাতে ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বিচারিক আদালতকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত বছরের ৫ জুন চাঁদপুরের মেঘনা নদীর মোহনায় এমবি নাসরিন-১ লঞ্চডুবিতে ক্ষতিগ্রস্ত ১২১ পরিবারকে ১৭ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখেন হাইকোর্ট। ওইদিন আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন  অ্যাডভোকেট আব্দুল বাসেত মজুমদার ও ইশরাত হাসান। বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) পক্ষে ছিলেন ড. কামাল হোসেন, কামরুল হক সিদ্দিকী ও সুব্রত চৌধুরী প্রমুখ আইনজীবী।

২০০৩ সালের ৮ জুলাই চাঁদপুরের মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর মোহনায় এমবি নাসরিন-১ লঞ্চডুবিতে  নিহত হন ১১০ জন, নিখোঁজ হন ১৯৯। এ ঘটনায় করা মামলায় লঞ্চটির নকশা তদারকি দলের (সুপারভাইজার প্যানেল) দুই সদস্যের এক লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে এক বছর করে কারাদণ্ড হয়। অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল অধ্যাদেশ, ১৯৭৬ (ইনল্যান্ড শিপিং অর্ডিন্যান্স) অনুযায়ী গঠিত নৌ আদালতে এ রায় হয়। এরপর একই বছর চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক লঞ্চডুবিতে ক্ষতিগ্রস্ত ৪০০ জনের তালিকা প্রকাশ করেন। সেই তালিকা অনুযায়ী নৌ-দুর্যোগ ট্রাস্টি বোর্ড নিহত ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারকে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ প্রদান করে। যার পরিমাণ ৭০ লাখ টাকার উপরে।

নিহত ব্যক্তিদের দেওয়া ক্ষতিপূরণ অপ্রতুল দাবি করে ২০০৪ সালে ঢাকার তৃতীয় জেলা জজ আদালতে নিহত ১২১ জনের পরিবারের পক্ষে ক্ষতিপূরণ মামলা দায়ের করে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট)। মামলায় ২৮ কোটি ৯৩ লাখ ৯৪ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়। মামলায় নৌ-সচিব, সমুদ্র পরিবহন কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালক, বিআইডব্লিউটির চেয়ারম্যানসহ ২১ জনকে বিবাদী করা হয়।

২০১২ সালে সেই মামলা বদলি হয়ে ঢাকার ৭ম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণ হয়। পরে ২০১৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকার ৭ম যুগ্ম জেলা জজ আদালত রায় দেন। রায়ে ১৭ কোটি ১১ লাখ টাকা ৬০ দিনের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের দিতে বিবাদীদের প্রতি নির্দেশ দেন আদালত। নিম্ন আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে বিআইডব্লিউটিএসহ বিবাদীরা ২০১৬ সালের ২৪ অক্টোবর হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন দায়ের করেন। ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে গত বছরের ৫ জুন নিম্ন আদালতের দেওয়ার রায় বহাল রাখেন হাইকোর্ট।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে