• অারও

গণতন্ত্রের কফিনে শেষ পেরেক

  নিজস্ব প্রতিবেদক

২০ মার্চ ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২০ মার্চ ২০১৮, ০০:৪৫ | অনলাইন সংস্করণ

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ক্ষোভের সঙ্গে বলছি, সর্বোচ্চ আদালতে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিতাদেশে সরকারের ইচ্ছাই প্রতিফলিত হয়েছে। খালেদা জিয়া ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। দেশনেত্রীকে এভাবে বন্দি করে রাখার একটাই উদ্দেশ্য গণতন্ত্রকে চূড়ান্তভাবে কবর দিয়ে দেওয়া। কফিনের শেষ প্যারেকটি মেরে দেওয়া।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ বিএনপি চেয়ারপারসনের জামিন ৮ মে পর্যন্ত স্থগিত রাখার আদেশ দেওয়ার আড়াই ঘণ্টা পর গতকাল নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি উল্লিখিত প্রতিক্রিয়া দেন। মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার বিচার বিভাগের ওপর ভর করে, তাদের ব্যবহার করে এভাবে মানুষের অধিকারগুলো হরণ করে নিচ্ছে। আমরা এই অন্যায়-অত্যাচার, এই বিচার বিভাগকে ব্যবহার করার তীব্র প্রতিবাদ করছি, নিন্দা জানাচ্ছি। খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য দেশের সব রাজনৈতিক গণতান্ত্রিক দল, সামাজিক সংগঠন, গণতন্ত্রকামী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল। সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম, খায়রুল কবির খোকন, আবদুস সালাম আজাদ প্রমুখ।

খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে সরকার কৌশলের আশ্রয় নিয়েছেÑ অভিযোগ করে তিনি। বলেন, এভাবে ক্রমান্বয়ে যেতে থাকবে এবং তাকে (খালেদা জিয়া) আটকে রাখা হবে। আমরা দুর্ভাগ্যক্রমে প্রথম থেকে লক্ষ করেছি, খালেদা জিয়াকে জামিন ও তাকে কারাগার থেকে বের করে আনার যে আইনি প্রক্রিয়া, সে আইনি প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত সচেতনভাবে সরকার বাধা দিচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আপনারা যারা রবিবার আদালতে গেছেন, তারা দেখেছেন যে কীভাবে আদালতের ভেতরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে পুরোপুরি ঘিরে রেখেছে। এমনকি প্রধান বিচারপতির এজলাসের বাইরে পর্যন্ত। কিছু কিছু লোককে ভেতরে ঢুকতে দেখেছি আর্মস বেল্টসহ। এটা আমরা দেখেছি। আমার মনে হয় পৃথিবীর কোনো দেশে এ রকম নজির নেই। এ অবস্থায় এই দেশ চলে গেছে।

খুলনায় দলের ধর্মবিষয়ক সহসম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবুকে তিন দিন আগ তুলে নেওয়ার পর এখনো তার খোঁজ নেই বলে অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল। দেশের নিম্ন আদালতগুলো জামিন দিচ্ছে নাÑ অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে ৩০ জানুয়ারি গ্রেপ্তার করা হলেও তার জামিনের ব্যবস্থা করা যাচ্ছে না। কারণ নিম্ন আদালতকে বলে দিয়েছে শুনানি পরে হবে। এখন আইন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে নিম্ন আদালত চলছে। তারা বলে দিচ্ছে এক মাস বা দুই মাস পরে শুনানি হবে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে