• অারও

নির্বাচনী রাজনীতি কুমিল্লা-৭

আ.লীগে পরিবর্তনের আভাস শক্ত লড়াইয়ে এলডিপি জাপা

  সাইয়িদ মাহমুদ পারভেজ, কুমিল্লা

১৬ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০১৮, ০১:০২ | অনলাইন সংস্করণ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এরই মধ্যে সারা দেশের মতো কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় (কুমিল্লা-৭) বইছে ভোটের হাওয়া। সর্বত্রই আলোচনা বড় দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থিতা নিয়ে। অনেক আগে থেকেই আওয়ামী লীগের প্রার্থী পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা চলছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আওয়ামী লীগের নতুন প্রার্থী হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্তের নাম এসেছে। অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে বর্তমান সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো. আলী আশরাফ এ আসনে নৌকার হাল ধরে আছেন। ফলে আওয়ামী লীগের প্রার্থী প্রকৃতপক্ষে কে হবেন, তা নিয়েই ডালপালা মেলছে জল্পনা-কল্পনা। বিএনপিতে আছে যোগ্য প্রার্থী সংকট। সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি মো. খোরশেদ আলম সম্প্রতি মারা গেছেন। বিএনপির সংকটকে কাজে লাগিয়ে সুবিধা নিতে কৌশলী ভূমিকায় আছে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)। দলটির মহাসচিব ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা ড. রেদোয়ান আহমেদের জোটের প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন পাওয়ার আশা করছেন। আওয়ামী লীগে দ্বিধাবিভক্তি, বিএনপিতে প্রার্থী সংকট, এলডিপির কর্মীস্বল্পতাÑ এ তিন ইস্যুকে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার বিশেষ সুযোগ হিসেবে দেখছে জাতীয় পার্টি (জাপা-এরশাদ)। গত নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন জাপার লুৎফর রেজা খোকন। কিন্তু মহাজোট রক্ষার কারণে পরে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। এবারও তিনি মহাজোট কিংবা দল থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী।

আওয়ামী লীগ : স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত এবার আওয়ামী লীগের টিকিট পাচ্ছেনÑ এমন কথা জোর দিয়ে বলছেন তার অনুসারী নেতাকর্মীরা। নৌকা নিয়ে নির্বাচন করার ব্যাপারে শতভাগ আত্মবিশ্বাসী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত এ চিকিৎসক। তিনি নিয়মিত এলাকায় গণসংযোগ করে চলছেন। এরই মধ্যে বেশ ক’টি শোডাউনও করেছেন। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও ঝুঁকছেন তার দিকে। তবে আওয়ামী লীগের চারবারের সংসদ সদস্য ও সাবেক ডেপুটি স্পিকার অধ্যাপক মো. আলী আশরাফও মাঠে আছেন বেশ শক্তি নিয়ে। ১৯৭৩, ১৯৯৬, ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি নির্বাচিত হন। ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাজি রমিজ উদ্দিনকে পরাজিত করেন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক সম্পাদক হন। ২০০৮ সালেও নির্বাচিত হন। তিনি ছিলেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার। ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত ও আলী আশরাফ দুজনই মুক্তিযোদ্ধা।

২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনেও প্রাণ গোপালের প্রার্থিতা নিয়ে সরগরম ছিল চান্দিনা। এবার আর তার প্রার্থী হওয়াটা গুঞ্জনের মধ্যে নেই বলে মনে করেন অনুসারীরা। তারা প্রাণ গোপালের মনোনয়নের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। ১৯৯৬ সালের পর থেকে স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হন তিনি। বিভিন্ন দপ্তরে চাকরির সুবাদে থেকে তিনি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও তাদের সন্তানদের নানাভাবে মূল্যায়ন করায় স্থানীয় নেতাকর্মীরা তার ওপর দারুণ খুশি।

সময়ের ব্যবধানে আওয়ামী লীগের এ দুই নেতার মধ্যে এখন চলছে তীব্র মনস্তাত্ত্বিক লড়াই। প্রাণ গোপাল দত্ত ঢাকার ভোটার হলেও সম্প্রতি স্থানান্তর করে চান্দিনায় ভোটার হয়েছেন। তা ছাড়া কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে তাকে সহসভাপতি করা হয়েছে। প্রাণ গোপাল দত্ত সমর্থকদের দাবি, আওয়ামী লীগ তাকে মনোনয়ন দিলেও দলীয় ভোটের বাইরে বিপুল সংখ্যক সাধারণ ভোটারের সমর্থন পাবেন তিনি।

এলডিপি : এ আসন থেকে বিএনপিসহ একাধিক দলের মনোনয়ন নিয়ে চারবার সংসদ সদস্য ছিলেন ড. রেদোয়ান আহমেদ। ২০ দলীয় জোটে বিএনপিসহ পাঁচটি দলের অস্তিত্ব রয়েছে চান্দিনায়। রেদোয়ান আহমেদ এলডিপির মহাসচিব হওয়ায় মহাজোটের নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও রয়েছেন। জোটের প্রার্থী মনোনয়নে এলডিপিকে বিএনপি প্রাধান্য দেবে বলে জানান রেদোয়ান অনুসারীরা। ’৭৯ সালে বিএনপি থেকে, ’৮৬ সালে জাতীয় পার্টি থেকে, ’৯১ সালে স্বতন্ত্র ও ২০০১ সালে বিএনপি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন রেদোয়ান আহমেদ। ২০০১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হন তিনি। ২০০৬ সালে কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের সঙ্গে এলডিপি গঠন করেন ও মহাসচিবের দায়িত্ব পান।

বিএনপি : দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতি করে প্রথমে ইউপি চেয়ারম্যান, পরে উপজেলা চেয়ারম্যান হন খোরশেদ আলম। ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আলী আশরাফের চেয়ে ৫ হাজার ৫০৭ ভোট কম পেয়ে পরাজিত হন তিনি। ২০০৬ সালে এলডিপি গঠন করে রেদোয়ান আহমেদ বিএনপি ছাড়লে উপজেলা বিএনপির সভাপতি হন খোরশেদ আলম। এরপর এ দুই নেতার মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে। দুপক্ষের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনাও ঘটে। সম্প্রতি খোরশেদ আলমের মৃত্যু হয়।

জাতীয় পার্টি : এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি পৃথকভাবে নির্বাচন করলে মনোনয়ন চাইবেন কুমিল্লা উত্তর জেলা সভাপতি লুৎফর রেজা খোকন। গত নির্বাচনে মহাজোটের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি হওয়ায় তিনি মনোনয়নপত্র দাখিল করেও পরে প্রত্যাহার করেন। এবার জোটবদ্ধ নির্বাচন হলে সিনিয়র নেতা হিসেবে তিনি চান্দিনা থেকে মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা যায়।

আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় আরও আছেন মুক্তিযোদ্ধা শাহাজাদা মিয়া খোকা, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান মজুমদার রিপন, চান্দিনা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. মজিবুর রহমান ও কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের উপদপ্তর সম্পাদক নাজনীন আক্তার।

সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো. আলী আশরাফ দেশের বাইরে থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে তার পক্ষে চান্দিনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান তপন কুমার বকশী বলেন, আমরা আশাবাদী সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো. আলী আশরাফ এবারও দলীয় মনোনয়ন পাবেন। তিনি মনোনয়ন পেলে এ আসনে আওয়ামী লীগের জয় সহজ হবে।

অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আমার অবিচল আস্থা রয়েছে। আমি নমিনেশন চাইব। নমিনেশন দিলে নির্বাচন করব। তিনি আরও বলেন, আমার জন্মের আগ থেকেই চান্দিনায় আমাদের বসতবাড়ির পরিচয় ডাক্তার বাড়ি হিসেবে। নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করলে আমি ২০ দলীয় জোটের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রার্থীকেও পরাজিত করতে পারব।

এলডিপির রেদোয়ান আহমেদ বলেন, নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার ব্যাপারে আমি পরীক্ষিত লোক। যে কারো সঙ্গে আমি বিজয়ী হব। এলডিপির মহাসচিব হিসেবে আমি প্রত্যাশা করি, খালেদা জিয়া জোট থেকে মনোনয়নের ব্যাপারে আমাকে সুবিবেচনায় রাখবেন।

জাপার লুৎফর রেজা খোকন বলেন, গতবার মহাজোটের স্বার্থে ছাড় দেওয়ায় এবার আমি মনোনয়নের দাবিদার। মহাজোট কিংবা দলীয় বিবেচনায় হোক, আমি মনোনয়ন পাওয়ার দাবিদার। তিনি বলেন, মানুষ আওয়ামী লীগ ও বিএনপির উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তারা এখন পরিবর্তন চায়।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে