তারেকের নাগরিকত্ব ইস্যু নিয়ে ফখরুল

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর প্রকাশিত নথির ১৩ ভুল রহস্যজনক

  নিজস্ব প্রতিবেদক

২৪ এপ্রিল ২০১৮, ১৮:২৩ | আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০১৮, ১৯:৩৭ | অনলাইন সংস্করণ

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘সরকার ও সরকারি দলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বক্তৃতা ও বিবৃতিতে এটা স্পষ্টতই প্রমাণিত হয় যে, দেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জীবন নিরাপদ নয়।’

তিনি বলেন, ‘এই অবস্থায় বিশ্বের অসংখ্য রাজনীতিবিদ, সরকার বিরোধী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মতোই তারেক রহমান যুক্তরাজ্যে সাময়িকভাবে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন। দেশটির প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার পাসপোর্ট জমা রেখে তাকে ট্রাভেল পারমিট দেওয়া হয়েছে।’ তারেক রহমানের বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ইস্যুতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলমের প্রকাশিত নথিতে ১৩টি বড় ভুল- এটা রহস্যজনক বলেও মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।

আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

দলটির মহাসচিব বলেন, ‘জন্মসূত্রে বাংলাদেশী নাগরিক তারেক রহমান। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম তারেক রহমানের নাগরিকত্ব বিষয়ে যে অদ্ভুত, যুক্তিহীন ও বেআইনি মন্তব্য করেছেন-আমরা তার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি।’

এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তারেক রহমান নাগরিকত্ব ছেড়ে দেওয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং ভবিষ্যতে নিঃসন্দেহ তিনি সরকারের নেতৃত্ব দেবেন।’

ফখরুল বলেন, ‘কী কী কারণে একজন নাগরিক জন্মসূত্রে প্রাপ্ত নাগরিকত্ব হারাতে পারেন-এটাও যিনি জানেন না-এ ধরনের অনির্বাচিত সরকারের মন্ত্রী পদে থাকা জাতির জন্য লজ্জাজনক।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর প্রকাশিত নথি ও তার বক্তব্যের প্রকৃত সত্যতা জানতে ব্রিটিশ হাইকমিশনে জানতে যাওয়া হয়েছে। এ নথিতে ১৩ ভুল রয়েছে উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, ‘নথির শুরুতেই ডিপার্টমেন্টের নাম ভুল লেখা হয়েছে। চিঠিতে লেখা আছে, ‘বাংলাদেশ অ্যাম্বাসি’। কিন্তু হবে ‘হাইকমিশন অব বাংলাদেশ। এতে বড় করে টেলিফোন নম্বর ও ফ্যাক্স নম্বর দেওয়া আছে, যেটা ‘আনকমন’ ও ‘অস্বাভাবিক’। ব্রিটিশ চিঠির মধ্যে এগুলো থাকে না। ‘ডিয়ার স্যার’ লেখার পরিবর্তে ‘ডিয়ার স্যারস’ লেখা আছে। চিঠির ওপরে চারটি পাসপোর্টের কথা বলা হলেও নিচের দিকে আবার একটি পাসপোর্টের কথা বলা হয়েছে। চিঠির  শেষাংশে ‘ফেইথফুলি’র এফ বড় হাতের অক্ষর দিয়ে  লেখা হয়েছে। ব্রিটিশরা এটা কখনোই লিখবে না। যিনি সই করেছেন, তার কোনো নাম নেই। এসব বিবেচনায় চিঠি নিয়ে যথেষ্ট রহস্য রয়েছে। কি বিচিত্র এই সরকার। কি দুর্বল তাদের অপকৌশল।’

সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমানের আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘বৃটিশ আইনের ১৭ ধারায় মোতাবেক উল্লেখ আছে যে, পাসপোর্ট অথবা গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট কারো কাছে যাবে না। শুধুমাত্র যিনি হোল্ডার তার কাছে যাবে। অন্য কোনো থার্ড পার্টির কাছে যাবে না। অতত্রব পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী যে দাবি করছেন যে তারেক রহমানের পাসপোর্ট বাংলাদেশ হাইকমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে। এটা রহস্যজনক ও সন্দেহজনক। আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট যে, বৃটিশ আইন অনুযায়ী তারেক রহমানের পাসপোর্টটা বাংলাদেশ হাইকমিশনের যাওয়ার কথা নয়।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন—বিএনপির সিনিয়র নেতা মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, বরকতউল্লাহ বুলু, আবদুল আউয়াল মিন্টু, রুহুল কবির রিজভী, খায়রুল কবির খোকন প্রমুখ।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে