নির্বাচনী রাজনীতি -কুমিল্লা ১০

বিএনপির দুই ভূঁইয়ার মাঝে আ. লীগের একক প্রার্থী

  সাইয়িদ মাহমুদ পারভেজ, কুমিল্লা

২৫ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০১৮, ০১:৫৯ | অনলাইন সংস্করণ

আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের (লোটাস কামাল) আসন কুমিল্লা-১০। সে কারণে আসনটির প্রতি সব দলের নজর একটু বেশি। নাঙ্গলকোট, সদর দক্ষিণ ও নবগঠিত লালমাই উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসন এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় নির্বাচনী এলাকা। এর উত্তরে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন, দক্ষিণে নোয়াখালী, পূর্বে ভারত এবং পশ্চিমে লাকসাম ও বরুড়া উপজেলা।

নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগ কোন্দল থেকে মোটামুটি মুক্ত থাকলেও দলীয় কোন্দলে জর্জরিত বিএনপি। বিএনপির ‘দুই ভূঁইয়ার টানাটানিতে’ তাদের অবস্থা এখন অনেকটা সংকটাপন্ন।

২০০৮ সালের নির্বাচনে এ আসন থেকে মুস্তফা কামাল বিজয়ী হন। ২০১৪ সালেও নির্বাচিত হন তিনি।

নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগে প্রকাশ্যে দ্বন্দ্ব না থাকলেও দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও বঞ্চিত নেতাকর্মীদের মধ্যে আছে বঞ্চনার ক্ষোভ-দুঃখবোধ। জামায়াত বা বিএনপি থেকে যোগ দেওয়া নেতাকর্মীদের তাৎক্ষণিকভাবে সুযোগ-সুবিধা দেওয়াই এ ক্ষোভের কারণ বলে দাবি করেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা। তাদের মতে, হাইব্রিড আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী কুমিল্লায় এ আসনেই বেশি। আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েই ইউপি চেয়ারম্যান, স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন কমিটির সভাপতি হয়েছেন কেউ কেউ। একাদশ সংসদ নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মুস্তফা কামালের মনোনয়ন প্রায় নিশ্চিত বলে জানা যায়। তবে ত্যাগী নেতাকর্মীদের ক্ষোভ-দুঃখকে কাজে লাগিয়ে মনোনয়ন পেতে সক্রিয় কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, সুসময়ের পাখিরা সুযোগ নিতেই দলে ভিড়ে, সুযোগ শেষ হলে তারা মধু নিয়ে সরে পড়ে। দলের ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করলে দল ভেতর থেকে শক্তিশালী হবে।

আগামী নির্বাচনে বিএনপি থেকে সাবেক সাংসদ আলহাজ আবদুল গফুর ভূঁইয়া এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া নির্বাচনে অংশ নিতে আলাদাভাবে মাঠে রয়েছেন। তিন উপজেলাতেই এ দুই নেতাকে ঘিরে অভ্যন্তরীণ কোন্দল বেশ চাঙ্গা। দুই নেতার বিরোধ এতটাই যে, কেউ কারো মুখ দেখতেও রাজি নন।

আ হ ম মুস্তফা কামাল (লোটাস কামাল) এফসিএ ২০০৮ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর একেবারেই উন্নয়নবঞ্চিত নাঙ্গলকোট উপজেলায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। হয়েছে শতভাগ বিদ্যুতায়ন। এ ছাড়া নাঙ্গলকোট পৌরসভাকে ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীত করে প্রায় ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দে পৌর এলাকার রাস্তাঘাটের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। মুস্তফা কামালের নেতৃত্বগুণে এ আসনের সব উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র, ভাইস চেয়ারম্যানসহ সব ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্য আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত।

নাঙ্গলকোট উপজেলা চেয়ারম্যান শামছুদ্দিন কালু বলেন, আগে যারা এ আসনে নির্বাচিত হয়েছেন, কেউ নাঙ্গলকোটের উন্নয়নে এমনভাবে কাজ করেনি। একমাত্র পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল (লোটাস কামাল) এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। ফলে নাঙ্গলকোট দেশের মডেল উপজেলায় রূপান্তরিত হয়েছে।

এদিকে বিএনপির আবদুল গফুর ভূঁইয়া ১৯৯৮ সাল থেকে কুমিল্লা-১০ আসনে দলের হাল ধরে আছেন। ২০০১ সালে নাঙ্গলকোট আসন থেকে তিনি এমপি নির্বাচিত হন। ১/১১ সরকারের সময় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। সেই সুযোগে উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া দলে নিজস্ব বলয় গড়ে তোলেন। তখন থেকে স্থানীয় বিএনপিতে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। দুই ভূঁইয়ার দ্বন্দ্বে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে একাধিকবার হামলা পাল্টাহামলার ঘটনা ঘটে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পান মোবাশ্বের ভূঁইয়া।

নানা সূত্রে জানা যায়, বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নাঙ্গলকোট উপজেলাতেই বেশি। সদর দক্ষিণ উপজেলা ও নবগঠিত লালমাই উপজেলায় দুই ভূঁইয়ার তৎপরতা খুব একটা নেই। যদিও এ দুটি উপজেলায় মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া সমর্থিত বিএনপির কমিটি রয়েছে।

আবদুল গফুর ভূঁইয়া জানান, আগামী নির্বাচনে রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিবেশ না থাকলে এবং জনগণ ভোট দিতে পারলে বিএনপিকে ভোট দেবে মানুষ। আর দলীয় মনোনয়ন পেলে এ আসনে দলমত নির্বিশেষে মানুষ তাকেই বিজয়ী করবে বলে মনে করেন তিনি। দলীয় গ্রুপিং সম্পর্কে তিনি বলেন, ১/১১ সরকারের আমলে যখন রাজনীতিবিদরা দিশাহারা, তখন আমাদের কিছু জনবিচ্ছিন্ন ও সুবিধাবাদী নেতা কমিটি ভাগিয়ে আনলেও মাঠে তাদের তেমন অবস্থান নেই।

অন্যদিকে বিএনপির নেতা মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া বলেন, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-১০ ও কুমিল্লা-১১ আসনে প্রার্থী হয়েছিলাম। পরবর্তী বিগত ৯ বছর দলের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। আন্দোলন-সংগ্রামসহ দলীয় সব কর্মসূচি কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী পালন করতে গিয়ে ১০টি মামলার আসামি হয়ে একাধিকবার কারাবরণ করেছি। বর্তমানে দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠে আছি। নির্বাচনী এলাকার সবগুলো উপজেলা, পৌরসভা, ৩২ ইউনিয়নে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলসহ ও সব অঙ্গসংগঠনের কমিটি আছে। আগামী নির্বাচনে দল মূল্যায়ন করলে বিজয় উপহার দিতে পারব ইনশাল্লাহ।

বিএনপির আরেক নেতা মনিরুল হক চৌধুরী জানান, তিনি কুমিল্লা ১০ ও কুমিল্লা-৬ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন চাইবেন। দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচন করবেন।

জামায়াতের নেতাকর্মীরা জানান, অর্থনীতিবিদ ড. দেলোয়ার হোসেন ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত তাদের সম্ভাব্য প্রার্থী। ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনের ক্ষেত্রে তারা ২০-দলীয় জোটের কাছে এ আসনটি চাইবেন। তবে এলাকায় এই প্রার্থীদের তেমন পরিচিতি নেই বললেই চলে।

এ আসনে জাতীয় পার্টির (এরশাদ) মনোনয়নপ্রত্যাশী নাঙ্গলকোট উপজেলা সভাপতি আলী আহম্মদ মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন।

২০-দলীয় জোটের শরিক লেবার পার্টির কেন্দ্রীয় মহাসচিব হামদুল্লাহ আল মেহেদী নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে জোট যাকে মনোনয়ন দেবে, তার জন্যই কাজ করবেন বলেও জানান তিনি।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে