রাজনৈতিক আশ্রয় পেতে নিজ দেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে হয় : শাহরিয়ার

  অনলাইন ডেস্ক

২৪ এপ্রিল ২০১৮, ২২:৫২ | অনলাইন সংস্করণ

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ব্রিটেনে রাজনৈতিক আশ্রয় নেয়া এবং পাসপোর্ট জমা দেওয়ার কথা স্বীকার করে বিএনপি এখন নতুন বিতর্কের কাদার মধ্যে পড়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তিনি বলেছেন, ‘আমরা সবাই জানি যে একটা দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় পেতে হলে তার নিজ দেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে হয়।’

বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।

সম্প্রতি তারেক রহমান তার পাসপোর্ট জমা দেন যুক্তরাজ্যের হোম অফিসে। সেখানে তার পাসপোর্টের তথ্যসহ রয়েছে তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও তাদের কন্যা জাইমা রহমান এবং মইনুল ইসলামের নাম। তার এই পাসপোর্ট জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে চলছে নানারকম আলোচনা সমালোচনা। গতকাল সোমবার নিজ বাসায় এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাজ্যের হোম অফিস থেকে বাংলাদেশ দূতাবাসে পাঠানো একটি কাগজ প্রকাশ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। চিঠিতে প্রকাশ হয়েছে, যুক্তরাজ্যের হোম অফিসে পাসপোর্টগুলো তারা জমা দিয়েছিলেন। এরপর সেই পাসপোর্টগুলো বাংলাদেশ দূতাবাসে পাঠানোর কথা লেখা রয়েছে চিঠিতে।

প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের ভাষ্য নাগরিকত্ব ত্যাগের কারণেই তারেক রহমান স্ত্রী কন্যাসহ তাদের পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। তার কথার পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন উল্টো কথা। তিনি বলেছেন, পাসপোর্ট জমা দিয়ে ট্রাভেল পারমিট নিয়েছেন তারেক রহমান।

কিন্তু বিবিসি বাংলার কাছে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মির্জা ফখরুল জানিয়েছেন ২০১২ সালে তারেক রহমান ব্রিটেনে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছিলেন এবং এক বছরের মধ্যেই সেটি গৃহীত হয়। এ বিষয়ে শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘আমার ক্লেইমের মূল বিষয় নাগরিকত্ব ছিল না, ছিল পাসপোর্ট ফেরত দেয়া। কিন্তু বিএনপির নেতার কথাতেই এখন প্রমাণ হচ্ছে যে তিনি রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন। তাই নাগরিকত্বের কথাটি আমি এখন আরও জোরালোভাবে দাবি করবো।’ তিনি আরও বলেন, ‘আশ্রয়প্রার্থীরা রাষ্ট্রবিহীন বা স্টেটলেস থাকেন, তারা যে দেশের লোক সেদেশে বাঞ্ছিত নন, বা সেদেশে যেতে চান না, এই কারণে তারা পাসপোর্ট সমর্পণ বা হ্যান্ডওভার করেন। তারেক রহমান ঠিক তাই করেছেন।’

এক্ষেত্রে এখন প্রশ্ন ওঠে বর্তমানে তারেক রহমানের ঠিকানা বা পরিচয় কি? শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘তারেক রহমানের কাছে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রমাণ করার একটিই দলিল ছিল। সেটি হচ্ছে পাসপোর্ট। সেটি তিনি হোম অফিসে ফেরত দিয়েছেন। ব্যাপারটা বিএনপি গোপন করতে চাইছিল, কারণ তারা সত্য স্বীকার করতে চায় না।’

শারিয়ার আলম আরও বলেন, তিনি চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশি পাসপোর্টে ভিসা নিয়ে যুক্তরাজ্যে গিয়েছিলেন, কিন্তু এখন তিনি রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন। সেই পাসপোর্ট ভিসা আর তিনি ব্যবহার করছেন না। রাজনৈতিক আশ্রয় নিতে গেলেই তিনি যে দেশ থেকে গিয়েছেন সেই দেশের সব কিছু সারেন্ডার করতে হয়। সেই দেশের নাগরিক হিসেবে আপনি তা আর ক্লেইম করতে পারেন না। তারেক রহমান ঠিক তাই করেছেন।’

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে