নির্বাচনী- রাজনীতি কুমিল্লা - ৫

আওয়ামী লীগের ভরসা মতিন খসরু দুই ধারায় বিভক্ত বিএনপি

  সাইয়িদ মাহমুদ পারভেজ, কুমিল্লা

২৬ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০১৮, ১০:০২ | অনলাইন সংস্করণ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও মাঠের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারা প্রচারের পাশাপাশি কেন্দ্রে লবিং করছেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রায় চূড়ান্ত হয়ে আছে বলে জানা যায়। তবে মনোনয়ন প্রশ্নে দুই ধারায় বিভক্ত বিএনপি। এ আসনের বর্তমান এমপি আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতা, সাবেক আইনমন্ত্রী ও দলের সভাপতিম-লীর সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু। তিনি এর আগে তিনবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। এবারও তার মনোনয়ন প্রায় নিশ্চিত। তবে দলের আরেক নেতা মনোনয়নপ্রত্যাশী। এবারও জয়ের আশা করছেন বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়ার আওয়ামী লীগ নেতারা।

স্বাধীনতাপরবর্তী সময়ে এ আসনে দুবার বিজয়ী হয় বিএনপি। নির্বাচনী এলাকায় ২০১০ সালে দলকে গোছানোর দায়িত্ব পান চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদ। দলের মূলধারা এখনো তার সঙ্গেই আছে। তার দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বী চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো. ইউনুসও আছেন বেশ শক্ত অবস্থানে। এ দুই নেতা ছাড়া দলে আরও মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন। তবে মনোনয়ন লড়াই শেষ পর্যন্ত শওকত ও ইউনুসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে বলে মনে করেন নেতাকর্মীরা।

ভারত সীমান্তঘেঁষা দুই উপজেলার ১৬ ইউনিয়ন নিয়ে কুমিল্লা-৫ আসন। স্বাধীনতাপরবর্তী দশটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাঁচবার জিতেছে আওয়ামী লীগ। এ ছাড়া দুবার বিএনপি, একবার করে জাতীয় পার্টি ও জাতীয় লীগ বিজয়ী হয়েছে। আর একবার স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। আবদুল মতিন খসরু ’৯১ সালের ৫ মে, ’৯৬ সালের ১২ জুন, ২০০৮ সালের নবম ও সর্বশেষ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে জয়ী হন। অধ্যাপক মো. ইউনুস ’৭৩ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে, ’৮৬ সালে স্বতন্ত্র হিসেবে ’৮৮ সালে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে ও ২০০১ সালে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন। ’৭৯ সালের দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে অ্যাডভোকেট মো. মফিজুল ইসলাম জাতীয় লীগ থেকে ও ’৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনে মুজিবুর রহমান মজু বিএনপি থেকে নির্বাচিত হন।

’৯৬ সালের নির্বাচনে বিজয়ী আবদুল মতিন খসরু আওয়ামী লীগ সরকারের আইনমন্ত্রী ছিলেন। সে সময় দুই উপজেলায় উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন করেছেন। ’৮৬ সাল থেকে পরবর্তী সবকটি নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়ে আসছেন। আবদুল মতিন খসরু বলেন, বিগত ১০ বছরে এলাকার অনেক উন্নয়ন করেছি। আশা করি জনগণ নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে আবার ক্ষমতায় বসাবে।

দলের অপর মনোনয়নপ্রত্যাশী কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের প্রথম যুগ্ম সম্পাদক ও বুড়িচং উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. সাজ্জাদ হোসেন স্বপন। তিনি বলেন, দলীয় মনোনয়ন চাইব। মনোনয়ন পেলে নির্বাচন করব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তারুণ্যনির্ভর যে রাজনীতি চান, তা আমি উপহার দিতে পারব ইনশাল্লাহ।

২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বিএনপি সরকারের আমলে সাংসদ ছিলেন অধ্যাপক মো. ইউনুস। ২০০৮ সালে বিএনপি প্রথমে দলীয় প্রার্থী হিসেবে তার নাম ঘোষণা করে। কিন্তু মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেননি। পরে কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি শিল্পপতি এএসএম আলাউদ্দিন ভূঁইয়াকে প্রার্থী করে বিএনপি। স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ১/১১ কিংবা ৫ জানুয়ারি নির্বাচন প্রতিরোধ, কোনো আন্দোলনে অধ্যাপক ইউনুসকে পাশে পায়নি তারা।

২০১০ সালে দুই উপজেলায় বিএনপির সাংগঠনিক সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় সাংবাদিক নেতা ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার আছাদ নগরের বাসিন্দা শওকত মাহমুদকে। সেই থেকে আজ পর্যন্ত এ আসনে বিএনপিকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। শওকত মাহমুদ বলেন, গত ৮ বছরে বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলোকে ঢেলে সাজিয়েছি। আন্দোলন-সংগ্রামে আমাদের নেতাকর্মীরা সক্রিয়। দুই উপজেলার সিনিয়র নেতাদের নিয়ে আমাদের আন্দোলন-সংগ্রাম চলবে। নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারলে বিজয় কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না বলেও মনে করেন শওকত মাহমুদ।

অধ্যাপক মো. ইউনুস বলেন, বিএনপি নির্বাচনে গেলে আমিই মনোনয়ন পাব। কারণ তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সবসময় আমার যোগাযোগ রয়েছে।

কৃষক দলের নেতা এএসএম আলাউদ্দিন ভূঁইয়া একাদশ নির্বাচনেও দলীয় মনোনয়ন চাইবেন। তিনি বলেন, মনোনয়ন না পেলে জোট বা দল থেকে যাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে, তার পক্ষেই কাজ করব।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে