চ্যাম্পিয়ন জীবন বলী

  চট্টগ্রাম ব্যুরো

২৬ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০১৮, ০০:৪৭ | অনলাইন সংস্করণ

চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠের ঐতিহাসিক জব্বারের বলী খেলার ১০৯তম আসরে এবার চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়েছে চকরিয়ার তারেকুল ইসলাম ওরফে জীবন বলী। গতকাল বুধবার বিকালে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ে কুমিল্লার শাহজালাল বলী ও চকরিয়ার জীবন বলী মল্লযুদ্ধে নামেন। কিন্তু কেউ কাউকে হারাতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত রেফারি ও বিচারকরা জীবন বলীকেই বিজয়ী ঘোষণা করেন। বিচারকদের এ ঘোষণায় দর্শকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা গেছে।

এ ছাড়া তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানিয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বী বলী শাহজালালের সমর্থকরা। ২০১০ সাল থেকে জব্বারের বলী খেলায় যৌথ চ্যাম্পিয়ন প্রথা তুলে দেওয়া হয়। ফলে কেউ কাউকে হারাতে না পারলে বিচারকদের দৃষ্টিতে যিনি সেরা বলে বিবেচিত হন, তাকেই জয়ী ঘোষণা করা হয়। গতকাল বিকালে জীবন বলীকে জয়ী আখ্যা দিয়ে ঘোষণা মঞ্চ থেকে বলা হয়, শাহজালাল বলী বেশ কিছু ফাউল করেছেন। তাই সার্বিক বিচারে জীবন বলীকেই জয়ী ঘোষণা করা হলো। তবে মাঠে উপস্থিত হাজার হাজার দর্শক প্রধান দুই বলীর একে অপরকে পরাজয়ের মাধ্যমে শক্তি পরীক্ষা শেষ করার দাবি জানান। কিন্তু বিচারকরা তা অগ্রাহ্য করেন। দুই বলী ২৫ মিনিট মল্লযুদ্ধ চালিয়ে যান।

গতকাল ছিল জব্বারের বলী খেলা ও বৈশাখী মেলার ১০৯তম আসর। খেলায় ৮৬ বলী হাজির হন। তবে নিয়ম অনুযায়ী চ্যাম্পিয়ন বাউটে চারজন বলী খেলার জন্য মনোনীত হন। তারা হলেন মহেশখালীর মোহাম্মদ হোসেন, কুমিল্লার শাহজালাল, কক্সবাজার জেলার উখিয়ার জয়নাল আবেদিন ও চকরিয়ার তারেকুল ইসলাম ওরফে জীবন। এতে শাহজালালের কাছে মোহাম্মমদ হোসেন এবং জীবনের কাছে জয়নাল পরাজিত হন। শেষে মূল যুদ্ধে অবতীর্ণ হন জীবন ও শাহজালাল। এবারও রেফারির দায়িত্ব পালন করেন নগরীর এনায়েত বাজার ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আবদুল মালেক। চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাছিরউদ্দীন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।

এর আগে টানা ১২ বার চ্যাম্পিয়ন হন কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার দিদার বলী। গতবছর সর্বশেষ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর দিদার বলী জব্বারের বলী খেলায় আর না খেলার ঘোষণা দিয়ে বলেছিলেন, আমি যাতে আর না খেলি, সেজন্য আয়োজকদের চাপ আছে।

তবে জব্বারের বলী খেলা ও বৈশাখী মেলা আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান, আন্দরকিল্লা ওয়ার্ড কাউন্সিলর জহরলাল হাজারী বলেন, পুরো কার্যক্রমই সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা করা হয়। এবারও তাই হয়েছে। তিনি বলেন, তীব্র গরমে খেলতে গিয়ে বলীরা ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলেন। তাই তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা খেলতে দেওয়া সম্ভব নয়।

নগরীর বদরপাতি এলাকার স্বনামধন্য ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার ১৯০৯ সালে বৈশাখ মাসের ১২ তারিখ লালদীঘি মাঠে সর্বপ্রথম এই বলী খেলার আয়োজন করেন। তিনি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে এলাকার যুব সমাজকে উদ্বুদ্ধ করতেই মূলত এই মেলার আয়োজন করেছিলেন। সেই থেকে প্রতিবছর এ মেলার আয়োজন হয়। পরবর্তীতে এটি চট্টগ্রামসহ সারাদেশের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য ঐতিহ্যে পরিণত হয়। বলী খেলা ঘিরে লালদীঘির আশপাশের অন্তত দুই বর্গকিলোমিটার এলাকায় বসে তিন দিনের বৈশাখী মেলা। মেলায় ঘর সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যই পাওয়া যায়। মেলায় সারাদেশ থেকে আসা লোকজনের সুবিধার জন্য আন্দরকিল্লা থেকে কোতোয়ালি মোড় পর্যন্ত সব সড়কে যান চলাচল গতকাল সকাল থেকে আজ বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে