স্কুলছাত্রী ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা, পলাতক দুলাভাই

  বকশীগঞ্জ প্রতিনিধি

২৬ এপ্রিল ২০১৮, ১৪:২৩ | অনলাইন সংস্করণ

জামালপুরের বকশীগঞ্জে দুলাভাইয়ের খপ্পরে পড়ে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে নবম শ্রেণির স্কুলছাত্রী শ্যালিকা। এ ঘটনায় আক্কাছ আলী নামে ওই দুলাভাই পলাতক রয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার নিলক্ষিয়া ইউয়িনের বিনোদের চর গ্রামে।

জানা গেছে, প্রায় ৩ বছর আগে প্রতিবেশী শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার ভেলুয়া টুংড়াপাড়া গ্রামের মৃত সাদেক আলীর ছেলে আক্কাছ আলীর সঙ্গে বকশীগঞ্জ উপজেলার নিলক্ষিয়া ইউনিয়নের বিনোদের চর গ্রামের আবদুর রহমানের মেয়ে রেজেনা বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর আক্কাছ আলী বিনোদের চর বাজারে একটি দোকান দেয় এবং শ্বশুর বাড়িতেই বসবাস করতে থাকে।

এক সময় চাচাতো শালিকা ও জানকিপুর ইসলামীয়া আলিম মাদ্রাসার নবম শ্রেণির ছাত্রীর প্রতি তার কুনজর পরে। পরে লম্পট আক্কাছ আলী বিভিন্ন সময় তাকে কুপ্রস্তাব দেয়। এক পর্যায়ে বিভিন্ন লোভ লালসা দেখিয়ে এক বছর আগে ওই ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। সেই সম্পর্ক শারীরিক সম্পর্কে গড়ায়।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, মাঝেমধ্যে ভেলুয়া গ্রামে বেড়াতে নিয়ে গিয়েও ওই ছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণ করে আক্কাছ। এতে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। ঘটনা ফাঁস হলে গত দুই মাস আগে আক্কাছ কৌশলে পালিয়ে তাকে ঢাকায় নিয়ে যায়। সেখানে সন্তান নষ্ট করার জন্য তাকে চাপ প্রয়োগ করে।

কিন্তু সন্তান নষ্ট করতে অস্বীকৃতি জানালে এবং বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করলে তাকে শারীরিক নির্যাতন করে আক্কাছ। এতেও সফল না হওয়ায় গত দুই দিন আগে রাতে তাকে বিনোদের চর গ্রামে রেখে কেটে পড়ে আক্কাছ।

এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ন্যায় বিচারের আশায় সমাজপতিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন অসহায় দরিদ্র পরিবারটি। এর আগেও লম্পট আক্কাছ একাধিক বিয়ে করেছেন বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা তোতা মিয়া জানান, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।ওই মেয়ের পরিবার নিতান্তই গরীব। ন্যায় বিচারের জন্য তিনি প্রশাসনসহ সুধী মহলের প্রতি আহবান জানান।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন বকশীগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী সভাপতি এম শাহীন আল আমীন ও সহ-সভাপতি আবদুল লতিফ লায়ন বলেন,'ঘটনাটি শুনেই নির্যাতিত ওই স্কুলছাত্রীর পাশে দাঁড়িয়েছি আমরা। তাকে সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হবে।'

এ ব্যাপারে বকশীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আসলাম হোসেন বলেন, ওই ছাত্রীসহ তার পরিবার থানায় এসে বিষয়টি জানিয়েছে। যেহেতু ঘটনাস্থল শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলায় তাই তাদেরকে শ্রীবরদীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।  

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে