লোভ এমনও হয়!

  সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

২৭ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০১৮, ০০:৫৪ | অনলাইন সংস্করণ

হাওরের পাকা বোরো ধান কাটা শেষ হওয়ার আগেই মাছ শিকারিদের অতি লোভে নিঃস্ব হলেন তাহিরপুরের টাঙ্গুয়ার হাওরপাড়ের হাজারো কৃষক। ওই শিকারিরা মাছ ধরার জন্য হাওরের নাওটানা খালের বাঁধ কেটে দিয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার ভোররাতে চোরা মাছ শিকারিরা হাওরের বোরো ফসলরক্ষা ওই বাঁধটি কেটে দেয় বলে জানিয়েছেন এলাকার কৃষকরা। এতে টাঙ্গুয়া হাওরের আওতাধীন এরালিয়াকোনা, গনিয়াকুরি, লামারগুল, টানেরগুল, নান্দিয়া, মাজেরগুল, টুঙ্গামারা, সুনাডুবি, গলগলিয়া, শামসাগর হাওরের কৃষকের চোখের সামনেই কষ্টার্জিত ধান তলিয়ে যাচ্ছে। ওই হাওরগুলোর বোরো ফসল গত বছর অকালে তলিয়ে যাওয়ার পর এবার বাম্পার ফলন হয়েছিল। কিন্তু বাঁধ কাটার ঘটনায় চোখের সামনেই ফসল হারিয়ে নিঃস্ব হলেন ওই কৃষকরা।

টাঙ্গুয়া হাওরপাড়ের জয়পুর গ্রামের কৃষক নুরুজ্জামান জানান, হাওরের ৫ হাজার একর জমির মধ্যে বেশ কিছু জমির ধান কাটা হয়েছে। তবে ৩ হাজার একর জমির পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

টাঙ্গুয়া হাওরের সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির কোষাধ্যক্ষ খসরুল আলম বলেন, বাঁধটি কে বা কারা রাতের আঁধারে কেটে দিয়েছে তা এলাকার কেউ বলতে পারছেন না। নাওটানা বাঁধটি টাঙ্গুয়া হাওরের নজরখালি বাঁধের আধা কিলোমিটার পূর্ব দিকে অবস্থিত। ১০ বছরের পুরনো বাঁধটির ওপর এবারও মাটি ফেলা হয়েছিল। অসৎ জেলেরাই হয়তো মাছ মারার উদ্দেশ্যে বাঁধটি কেটে দিয়েছে।

এলাকার বাসিন্দা শ্রীপুর উত্তর ইউপি সদস্য সাজিনুর মিয়া বলেন, নাওটানা খালটি বৃহস্পতিবার ভোররাতে কে বা কারা কেটে দিয়েছে। এতে টাঙ্গুয়া হাওরের ৬০ ভাগ ফসল পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে।

শ্রীপুর উত্তর ইউপি চেয়ারম্যান খসরুল আলম বলেন, টাঙ্গুয়া হাওরের নাওটানা বাঁধটি অসময়ে কেটে দেওয়ায় কৃষকদের চোখের সামনেই তাদের ফসল ডুবে যাচ্ছে।

তাহিরপুর থানার ওসি নন্দন কান্তি ধর বলেন, রাতের আঁধারে মাছ শিকারিরা হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধটি কেটে দিয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে