‘তাকে তো খুনীর মা, চোরের মা বলতে হয়, গণতন্ত্রের না’

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৫ মে ২০১৮, ১৯:৪৯ | আপডেট : ১৫ মে ২০১৮, ২১:২৮ | অনলাইন সংস্করণ

মঙ্গলবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত পরিবার এবং আহতদের মাঝে আর্থিক অনুদানের চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। ছবি : ফোকাস বাংলা
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কড়া সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘যিনি গ্রেনেড হামলা করায়, মানুষ খুন করে, এতিমের টাকা মেরে খায়, তাকে আবার বলে গণতন্ত্রের মা। তাকে তো খুনীর মা, চোরের মা বলতে হয়, গণতন্ত্রের না।’

আজ মঙ্গলবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত পরিবার এবং আহতদের মাঝে আর্থিক অনুদানের চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে রাখা এক বক্তব্যে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে ভোট চুরিতে এক্সপার্ট, মানুষ খুনে এক্সপার্ট, দুর্নীতিতে এক্সপার্ট, কালো টাকা সাদা করে, এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করে, সে আবার গণতন্ত্রের মা হয়। বাংলাদেশের মানুষকে নিয়ে এটা তামাশা ছাড়া আর কিছুই না। এটা গণতন্ত্র হলো কোত্থেকে।’

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও তার স্ত্রী খালেদা জিয়ার শাসনামলে বাংলাদেশে সামরিক ও বেসামরিক ব্যাক্তিদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘সেরকম দুর্দিন যেন বাংলাদেশের কপালে আর না আসে। ওই ধরণের খুনী-জালেম জঙ্গিবাদে বিশ্বাস করে যারা, ৫০০ জায়গায় বোমা হামলা করে, আমাদের দুজন এমপিকে হত্যা করে, এই ধরণের খুনীদের হাতে যেন আর বাংলাদেশের ক্ষমতা না যায়।’

এ সময় শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘যিনি গ্রেনেড হামলা করায়, মানুষ খুন করে, এতিমের টাকা মেরে খায়, তার নাম আবার তারা বলে গণতন্ত্রের মা। তাকে তো খুনীর মা, চোরের মা বলতে হয়, গণতন্ত্রের না।’ তিনি আরও বলেন, ‘তার ছেলে মানি লন্ডারিং করেছে, এফবিআই এসে স্বাক্ষী পর্যন্ত দিয়ে গেছে। তার জন্য সাজা পেয়েছে। এক মামলায় ১০ বছর, আরেকটা মামলায় ৭ বছরের মতো সাজা হয়েছে খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানের। তাছাড়া তাদের আরও অপকর্মের শেষ নাই। ব্যাংকের টাকা পয়সা সব বিদেশে পাচার করেছে। সেই টাকা ধরা পড়েছে আমেরিকায়, সিঙ্গাপুরে।’

বিএনপি শাসনামলে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় আওয়ামী লীগের ২৪ জন নেতাকর্মী নিহত এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩০০ এর বেশি নেতাকর্মী আহত হন। অনুষ্ঠানে বিএনপির প্রতি অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়ার কাজই তো এটি ছিল। খুন-খারাবি। আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে খুন করেছে। জিয়াউর রহমান আসার পর থেকে শুরু করেছে আওয়ামী লীগের ওপর নির্যাতন আবার খালেদা জিয়া এসেও একই কাজ করে গেছে। হাজার হাজার নেতাকর্মী ২০০১ এর পর থেকে ঘরে টিকতে পারে নি কেউ। একদিকে পুলিশ আরেকদিকে বিএনপির ক্যাডাররা যেভাবে অত্যাচার করেছে, সেটা তো আমরা ভুলে যাই নি, ভুলতে পারি না।’

তিনি বলেন, ‘এই পরিবারটা খুন খারাবিই করতে পারে। আর কিছু জানে না। আর এখন এতিমের টাকা, এতিমখানার জন্য টাকা আসছে, তাও চুরি করে খেয়ে বসে আছে। বিএনপির আইনজীবিরা এটা প্রমাণ করতে পারে নাই, যে এতিমের টাকা খালেদা জিয়া মেরে দেয় নাই বা আত্মসাৎ করে নাই। ১০ বছর ধরে তারা কেইস চালিয়েছে,তারপর তার শাস্তি হয়েছে।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি আরও বলেন, ‘আমি বাবা-মা, ভাই-বোন হারিয়ে আপনাদের পেয়েছি, বাংলাদেশের জনগণকে পেয়েছি; তাদের মাঝেই আমি আমার হারানো বাবা-মা-ভাইয়ের স্নেহ পেয়েছি বলেই আমার একটাই লক্ষ্য বাংলাদেশের মানুষের জীবনমান উন্নত করা। সেটা যতোদূর করতে পেরেছি আল্লার কাছে শোকর করি যেন আরও ভালো থাকুক আমার বাংলাদেশের মানুষ। একটা মানুষও যেন গরীব না থাকে, একটা মানুষও যেন গৃহহারা না থাকে, রোগে ধুকে না মারা যায়, কষ্ট না পায়-আমরা সেটাই চাই। আমরা যেভাবে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি, জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে। আমরা তা পারবো ইনশাল্লাহ। এটা আমাদের বিশ্বাস।’

খুলনা মেয়র নির্বাচনের বিএনপির অভিযোগ আওয়ামী লীগ ভোট চুরির মাধ্যমে জয় পেতে চায়। এ বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৯৬ সালে খালেদা জিয়া ভোট চুরি করে খুব বড়াই করেছিল, তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হল। তার বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম করেছে জনগণ। কারণ, জনগণের ভোট চুরি জনগণ মেনে নেয় নি। যার ফলে সে পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিল, ওই বছরের ৩০ মার্চ পদত্যাগ করে।’ এ সময় ২১ আগস্ট হামলায় আক্রান্ত পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন,‘আমি চাই না,এভাবে আহত-নিহত পরিবার কষ্ট পাক। আমি সবসময় আপনাদের পাশে আছি। শুধু আপনারা না, এরকম সারা বাংলাদেশে আমার হাজার হাজার নেতাকর্মী,হাজার হাজার পরিবার বিএনপি জামায়াতের অত্যাচারে নির্যাতনের স্বীকার হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। কতো মানুষ মারা গেছে, কতো মা সন্তানহারা হয়েছে, কতো বোন বিধবা হয়েছে।

সামরিক বাহিনীতে হত্যাচিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটা শুধু আমাদের না,জিয়াউর রহমান আসার পর সেনাবাহিনীতে মুক্তিযোদ্ধা অফিসারদের হত্যা করেছে। হাজার হাজার সৈনিকদের হত্যা করেছে। সেনাবাহিনীর আকাশ বাতাস তখন ভারি ছিল, বিধবার কান্নায়, সন্তানহারা পিতা-মাতার কান্নায়। ১৯টা ক্যু হয়েছে এই দেশে। এরকম একটা অরাজক অবস্থা তারা সৃষ্টি করেছিল।’

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে