কোটার আন্দোলনকারীদের ‘হত্যার’ হুমকি, জিডি নেয়নি পুলিশ

  বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

১৬ মে ২০১৮, ২০:৩২ | আপডেট : ১৬ মে ২০১৮, ২২:০২ | অনলাইন সংস্করণ

ছবি : ফোকাস বাংলা

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুর ও রাশেদ খানকে ‘হত্যার’ হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আজ বুধবার রাজধানীর শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ করেনি।  

গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহসীন হলে নুরুল হক নুরের কক্ষে পিস্তল নিয়ে ‘গুলি করে হত্যার’ হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠে। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি ইমতিয়াজ উদ্দিন বাপ্পি, মহসীন হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সানী, চারুকলা অনুষদ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফাহিম হাসান লিমন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জ্যোতির বিরুদ্ধে এ অভিযোগ তোলা হয়।

এদিকে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচির তৃতীয় দিনে আজ বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও অধিকাংশ বিভাগে ক্লাস হয়নি।

‘হত্যার’ হুমকির বিষয়ে নুরুল হক নুর বলেন, ‘রাশেদ আমার রুমে ছিল। এর মধ্যে চারুকলা অনুষদের ছাত্রলীগের সেক্রেটারি লিমন ফোন দিয়ে থ্রেট দেয় যে, হল থেকে নামিয়ে দেওয়া হবে। পিটিয়ে নামিয়ে দেওয়া হবে। আমরা নাকি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছি।’

নুরুল হক বলেন, ‘এক পর্যায়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি ইমতিয়াজ উদ্দিন বাপ্পি কল দিয়ে বলেন, “ছাত্রদলের সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে মারছি। তোদের মতো পোলাপানকে খেয়ে দিতে দুই সেকেন্ডও লাগে না। তোগোরে গুলি কইরা মারি নাই শুধু কিছু সিনিয়রের নিষেধ ছিল। তবে তোরা বাঁচবি না। কিছুদিন পর প্রজ্ঞাপনটা জারি হোক। দেখি তোদের কোন বাপ ঠেকায়।”’

নুর বলেন, ‘তার ১০ মিনিট পরে কক্ষে পিস্তল নিয়ে এসে বলে, “তোরা মা-বাবার কাছ থেকে দোয়া নিয়ে নে। তোরা বাঁচবি না। তোদের গুলি করে মারব।” আমাকে মারতেও আসে। তারা আমার মোবাইলও নিয়ে যায়। যাতে আমি রেকর্ড করতে না পারি। আমরা এখন জীবননাশের হুমকির মুখে আছি।’

এদিকে এই ঘটনার প্রতিবাদে আজ দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন আন্দোলনকারীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিল পরবর্তী সমাবেশে নুরুল হক নুর বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা হলে অবস্থানকারী সন্ত্রাসীদের ধরবে যারা আমাদের নিপীড়নের চেষ্টা করেছে। আমরা অবিলম্বে তাদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানাই।’

নুর বলেন, ‘আমরা জাতীয় হেল্প লাইন ৯৯৯ এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে সাহায্য চেয়েছিলাম। ছাত্রলীগের নেতারা আমাদের ওপর দুইবার হামলার চেষ্টা করেছে। পরে হল প্রভোস্ট আসেন এবং সকাল পর্যন্ত আমাদের সাথে অবস্থান করেন।’ তিনি ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানান।

মেহেদী হাসান সানী তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘যেহেতু আমি হল ইউনিট ছাত্রলীগের প্রধান তাই যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলা করার দায়িত্ব আমার। আমি আন্দোলনকারীদের হুমকি দেইনি, বাপ্পী দিয়েছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক টেলিভিশনের ক্রীড়া প্রতিবেদককে জিজ্ঞেস করলে ঘটনা জানতে পারবেন।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে তারা নুরকে ফোনে হুমকি দেয় এবং এই দুই আন্দোলনকারীর (নুর ও রাশেদ) ওপর হামলার চেষ্টা করে। সানি তার লোকজন নিয়ে সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং নুর ও রাশেদকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি ইমতিয়াজ বুলবুল বাপ্পী বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে বন্দুক দেখানোর অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। সে আমার রুমে থাকত। ফেক অ্যাকাইন্ট ব্যবহার করে গুজব ছড়াতে নিষেধ করেছিলাম।’

হত্যার হুমকিতে জিডি করতে গেলে তা নেয়নি শাহবাগ থানা পুলিশ। আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা চার যুগ্ম আহ্বায়কের নিরাপত্তা চেয়ে চারটি ও সব আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা চেয়ে একটি জিডি করতে বুধবার দুপুরে শাহবাগ থানায় গেলে জিডি নেয়নি পুলিশ।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান বলেন, ‘তাদের (আন্দোলনকারী) অভিযোগ রাখা হয়েছে। এটি শুধু থানার বিষয় নয়, বিশ্ববিদ্যালয়েরও। তাই আমরা বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারের উচ্চ মহলের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেব।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে