• অারও

দেশে লেবু চাষে ব্যাপক সম্ভাবনা

  মো. মাহফুজুর রহমান

১৭ মে ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৭ মে ২০১৮, ০৪:১৬ | অনলাইন সংস্করণ

দেশে উন্নতমানের লেবু চাষ ব্যাপক সম্ভাবনাময় বলে মনে করছেন কৃষি বিজ্ঞানীরা। এ নিয়ে তারা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় দেশে ইতোমধ্যেই লেবু, মাল্টা, কমলা ইত্যাদির উৎপাদন অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এর মাধ্যমে শত কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে দেশ। এ ছাড়া অব্যবহৃত পাহাড় ও টিলায় লেবু চাষ করে প্রতি বছর কয়েকশ কোটি টাকা আয় করা সম্ভব। এ লক্ষ্য সামনে রেখে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) একটি প্রকল্প বর্তমানে চলমান আছে।

কৃষিবিজ্ঞানীদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, দেশে লেবুজাতীয় ফসলের উৎপাদন দিন-দিন

বাড়ছে। চলতি বছর ইতোমধ্যেই ৮৫০ টন লেবু বিদেশে রপ্তানি হয়েছে।

ডিএইর মহাপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ মহসীন বলেন, লেবু চাষের এলাকা বৃদ্ধি পেয়েছে শতকরা ৪২ ভাগ এবং উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে শতকরা ২৩ ভাগ। অন্যদিকে মাল্টা উৎপাদনের এলাকা বৃদ্ধি পেয়েছে শতকরা ২৯৬ ভাগ এবং উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে শতকরা ২৭৭ ভাগ।

মোহাম্মদ মহসীন জানান, লেবু চাষ ও এর সম্ভাবনা নিয়ে আমাদের বিজ্ঞানীরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে কমলার উৎপাদন এলাকা বৃদ্ধি পেয়েছে শতকরা ১৩ ভাগ এবং উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে শতকরা ১১ ভাগ। এ ছাড়া বাতাবি লেবুর এলাকা বৃদ্ধি পেয়েছে শতকরা ২৭ ভাগ এবং উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে শতকরা ২২ ভাগ।

জানা গেছে, লেবু চাষকে অর্থকরী করতে সাইট্রাস ডেভেলপমেন্ট (১ম সংশোধিত) প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। ২০১৩ সালের জুলাই থেকে শুরু হওয়া এ প্রকল্প চলতি বছরের জুনে শেষ হবে। লিড এজেন্সি হিসেবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং সহযোগী সংস্থা বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট। পাঁচ বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৩ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। তিন পার্বত্য জেলাসহ ১৭টি জেলার ৬৮টি উপজেলায় এ প্রকল্পের এলাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এ প্রকল্পের বদৌলতে দেশে লেবু চাষের এলাকা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

ডিএই সূত্র জানায়, শুধু প্রকল্পের মাধ্যমে রোপিত গাছ থেকে প্রতি বছর অতিরিক্ত ৮৩৮ টন কমলা, ৮ হাজার ১৫২ টন মাল্টা, ৬২৯ টন বাতাবি লেবু, ২ হাজার ৮৫১ টন লেবু পাওয়া যাবে। এগুলোর বাজারমূল্য শত কোটি টাকারও বেশি। প্রকল্পটির ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ২৯ জেলার ১২৩টি উপজেলা নিয়ে ‘লেবুজাতীয় ফসল সম্প্রসারণ, ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদন বৃদ্ধি’ শীর্ষক আরেকটি নতুন প্রকল্প গ্রহণ করেছে। ডিএইর চলমান এ প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের অব্যবহৃত পাহাড় ও টিলায় লেবু চাষ করে প্রতি বছর আয় করা যায় কয়েকশ কোটি টাকা। লেবু কিংবা এর জুস রপ্তানি করেও প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব। প্রকল্পটিতে সিলেট, সুনামগঞ্জ, চট্টগ্রাম, বান্দরবানসহ বিভিন্ন এলাকার অব্যবহৃত পাহাড় ও টিলা কাজে লাগানো হবে।

জানা গেছে, বিভিন্ন প্রসাধন ও কেমিক্যাল কোম্পানি লেবুর বড় ক্রেতা। এ ছাড়া বেভারেজ কোম্পানিসহ লেমন কোল্ড ড্রিংকস তৈরিতে কাগজি লেবু ক্রয় করছে অনেক কোম্পানি। দেশে উৎপাদিত লেবু ইংল্যান্ড, আমেরিকা, কানাডা, সৌদি আরব ও দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। রপ্তানি তালিকায় রয়েছে কাগজি, জারা, ঝোটা, চায়না, এলাচি ও শরবতিসহ বিভিন্ন জাতের লেবু।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে