সাংবাদিকদের আ. লীগ কখনও হয়রানি করে না : প্রধানমন্ত্রী

  অনলাইন ডেস্ক

১৭ মে ২০১৮, ১৩:১৮ | আপডেট : ১৭ মে ২০১৮, ১৮:১৪ | অনলাইন সংস্করণ

সরকারের সমালোচনা না করলে প্রচার বাড়বে না, এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে পত্রিকা-বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকদের আওয়ামী লীগ সরকার কখনো হয়রানি করে না। সরকার সাধ্যমতো সাংবাদিকদের সহযোগিতা করে।’

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন'র (বিএফইউজে) প্রতিনিধি সম্মেলনে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘কোনো সাংবাদিক যদি হয়রানি করার মতো কিছু না করে থাকে তাহলে তাকে কেন হয়রানি করা হবে? সাধারণত সাংবাদিকদের আওয়ামী লীগ কখনো হয়রানি করে না। আমাদের বিরুদ্ধে তো সমালোচনা চলছেই।  সমস্ত পত্রিকা এবং বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল যেগুলো আছে তার একটা হিসেব প্রতি ১৫ দিনে সংগ্রহ করে দেখেছি, আমরা সরকারে আছি, আমাদের বিরুদ্ধে নেগেটিভ কথাটাই বেশি। পজেটিভ কথা বা হেডলাইন খুব কমই থাকে। প্রতি ১৫ দিন পর পর এর একটি হিসেব আমরা সংগ্রহ করি।’

‘একটা মানসিক ব্যাধি আছে আমাদের দেশে, অনেকের ধারণা সরকারের বিরুদ্ধে না বললে বুঝি মিডিয়া চলবেই না। এই মানসিক ব্যাধি থেকে উত্তরণ ঘটাতে হবে’ বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘কারো কাছে দয়া দাক্ষিণ্য চাই না, আমরা কারো ফেবার চাই না, কিন্তু অন্তত এইটুকু দাবি করতে পারি যে দেশের জন্য যদি কোনো ভালো কাজ করে থাকি সেটা যেন একটু ভালোভাবে প্রচার করা হয়। অন্তত এইটুকু করা হোক। এটা আমার স্বার্থে না, আমার দলের স্বার্থে না, এটা দেশের স্বার্থে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের ভাবমূর্তি বাইরে যাতে আরও উজ্জ্বল হয়, মানুষ যে সুযোগ সুবিধাগুলো পাচ্ছে, সেটা যেন মানুষ যথাযথভাবে জানতে পারে সেদিকটায় সকলেরই কাজ করা উচিত। কারণ আত্মবিশ্বাস যদি না থাকে, আর সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা যদি না থাকে, তাহলে সেই দেশটিকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাবো কিভাবে।’

নীতিমালা মেনে চলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পৃথিবীর সব দেশেই যত স্বাধীনতাই থাক, সবকিছু কিন্তু একটা নীতিমালার ভিত্তিতে চলে। আর সেই নীতিমালার ভিত্তিতেই চলতে হবে। সর্বক্ষেত্রে এই নীতিমালাটা একান্তভাবে প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যে আমরা প্রেস ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে গণমাধ্যমের প্রায় ১২ হাজার সাংবাদিকদের বিনা খরচে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। প্রশিক্ষণের সঙ্গে সঙ্গে পিআইবিতে আমরা মাস্টার্স কোর্স চালু করেছি। একই সঙ্গে নয়টি ভাষা দিয়ে একটি অ্যাপ তৈরি করেছি। তাই খুব সহজে অ্যাপটি ডাউনলোড করে যে কোনো ভাষা শিখতে পারেন সাংবাদিকরা।’

এ সময় বাংলা ভাষার সঙ্গে অন্য ভাষা শেখা সাংবাদিকদের জরুরি বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটে ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি। চলচ্চিত্র শিল্পে দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য চলচ্চিত্র ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ৬২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ প্রণয়ন ও তথ্য কমিশন প্রতিষ্ঠা, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট আইন ২০১৪ সহ ১৮টি আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।’

সারা দেশে সাত বছরে নিবন্ধন করা পত্রিকার সংখ্যা সাত শতাধিক এবং সংবাদপত্রকে ইতিমধ্যে সেবা শিল্প খাত হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

নবম ওয়েজ বোর্ডের যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে তা সাংবাদিক মহলের করা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই প্রতিবন্ধকতা আমাদের সৃষ্টি নয়। এটা কে করছে আপনারাই দেখবেন। আমরা চাই এটা তাড়াতাড়ি কার্যকর হোক।’

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে