খালেদাকে ২ মামলায় গ্রেপ্তার দেখাতে প্রসিকিউশনকে নির্দেশ

  আদালত প্রতিবেদক

১৭ মে ২০১৮, ১৪:০১ | আপডেট : ১৭ মে ২০১৮, ১৭:৫৯ | অনলাইন সংস্করণ

যুদ্ধাপরাধীদের মদদ দেওয়া ও ভুয়া জন্মদিন পালনের পৃথক দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার দেখাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রসিকিউশনকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার বকশিবাজার আলিয়া মাদরাসা মাঠে ভুয়া জন্মদিন পালন মামলায় ঢাকা মহানগর হাকিম খুরশীদ আলম ও যুদ্ধাপরাধীদের মদদ মামলায় ঢাকা মহানগর হাকিম আহসান হাবীব এ আদেশ দেন। আদালত আগামী ৫ জুলাই পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন।

এদিন মোট চারটি মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে থাকা খালেদা জিয়ার আদালতে উপস্থাপন পরোয়ানা প্রত্যাহারের আবেদন করা হয়। মামলাগুলো হলো- নাইকো দুর্নীতি, গ্যাটকো দুর্নীতি, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি এবং চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলা। ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মাহামুদুল কবীর শুনানি শেষে নাইকো দুর্নীতির মামলায় আদালতে উপস্থাপন পরোয়ানা প্রত্যাহারের আদেশ দেন।

অন্যদিকে ঢাকার তিন নম্বর বিশেষ জজ আতাউর রহমান গ্যাটকো দুর্নীতির মামলায় বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতির ঢাকার দুই নম্বর বিশেষ জজ কেএসএম শাহ ইমরান শুনানি শেষে অরফানেজ মামলায় জামিন বহাল থাকা সংক্রান্ত আপিল বিভাগের আদেশ ওয়েবসাইটে দেখে আদেশ দিবেন বলে জানান।

এছাড়া ঢাকার পাঁচ নম্বর বিশেষ জজ ড. মো. আখতারুজ্জামান চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় আদালতে উপস্থাপন পরোয়ানা প্রত্যাহারের আবেদনের শুনানির দিন ৪ জুন ধার্য তারিখে শুনানির জন্য ধার্য করেন। আদালত ওই আদেশ দেওয়ার পর তা পুনর্বিবেচনার জন্য খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আবেদন করলেও আদালত তা নামঞ্জুর করেন।

সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া আদালতে উপস্থাপন পরোয়ানা প্রত্যাহারের আবেদন সমূহের শুনানি করেন।

চ্যারিটেবল মামলায় আদালতে উপস্থাপন পরোয়ানা প্রত্যাহারের আবেদনের শুনানির দিন ৪ জুন ধার্য করায় ওই আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যেতে পারেন বলে জানিয়েছেন আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া।

এদিকে পুরান ঢাকার বকশিবাজারস্থ বিশেষ জজ আদালতে ভুয়া জন্মদিন পালন এবং যুদ্ধাপরাধীদের মদদ মামলায় দুইটি মানহানির মামলায় খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার দেখানোসহ জামিন আবেদনের বিষয়ে এদিন আদেশের দিন ধার্য করেছে আদালত।

ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু আসামি পক্ষের ওই আবেদনের বিরোধীতা করেন। আদালতে তার দাবি আসামি পক্ষ এ আবেদন দিতে পারেন না। এ দায়িত্ব প্রসিকিউশনের।

অন্যদিকে আসামি পক্ষে মাসুদ আহমেদ তালুকদার দাবী করেন যে, প্রসিকিউশন পক্ষ এ আবেদন না দেওয়ায় তারা দিতে বাধ্য হয়েছেন।

শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম খুরশিদ আলম ভুয়া জন্মদিন পালনের মামলায় এবং যুদ্ধাপরাধীদের মদদের মামলায় মহানগর হাকিম আহসান হাবীব গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আদেশ দেন।

একই সঙ্গে পুলিশকেও আগামী ৫ জুলাইয়ের মধ্যে ওই মামলায় খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করার বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের নতুন দিন ঠিক করেন।

আদালত আদেশ দেওয়ার প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু বলেন, ‘যেহেতু মামলা দুইটি দায়ের করেছেন দুইজন ব্যাক্তি। তাদের সঙ্গে আলাপ করে আমরা ব্যবস্থা নেব।’

২০১৬ সালের ৩০ আগস্ট ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী জহিরুল ইসলাম ভুয়া জন্ম দিনের মামলা দায়ের করেন। পরে ওই বছর ২৭ নভেম্বর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত।

অন্যদিকে যুদ্ধাপরাধীদের মদদের মামলাটি ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বরী বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকী দায়ের করেন। ২০১৭ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) এবিএম মশিউর রহমান খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। ওই বছর ১২ অক্টোবর সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পাঁচ নম্বর বিশেষ জজ ড. মো. আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। রায়ের পর ওইদিনই তাকে পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিনের রোর্ডের কারাগারে নেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি ওই কারাগারেই আছেন। গত গত ১২ মার্চ হাইকোর্ট মামলাটিতে তার চার মাসের জামিন মঞ্জুর করেন। এরপর গত ১৬ মে আপিল বিভাগ ওই জামিন বহাল রেখে আদেশ দেন।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে